লতিফের ফাঁসি চেয়ে একমঞ্চে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত

দলীয় নীতি পরস্পর বিরোধী থাকলেও পবিত্র হজ, তাবলিগ জামায়াত ও হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অশালীন মন্তব্যকারী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার ও তার ফাঁসির দাবিতে একমত পোষণ করেছে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল।

তার ফাঁসির দাবিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চৌহালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং লতিফ সিদ্দিকীর কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মুসলমানগণ ব্যানারে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা বেবিস্ট্যান্ড থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতা মিছিল বের করে।

উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ শেষে চৌহালী ডিগ্রি কলেজে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হযরত আলী মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর হালিম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক বাবুল আকতার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস আলী মাস্টার, বিএনপি নেতা অধ্যাপক হুমায়ুন আহমেদ, আব্দুস সাত্তার, জামায়াত নেতা অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুস, ইমাম সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

বক্তারা সবাই লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসির দাবি করেন। আরটিএনএন

গৌরনদীতে লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ), হজ্ব ও তাবলীগ জামাত নিয়ে কটূক্তির প্রতিবাদে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারের দাবিতে জেলার গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করেছেন বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

বৃহস্পতিবার সকালে নলচিড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন ফকিরের নেতৃত্বে গরঙ্গল ষ্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে পিঙ্গলাকালী বন্দরে এসে শেষ হয়।

অনুষ্ঠিত সভায় আলহাজ্ব মোঃ জামাল উদ্দিন ফকিরের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জামায়াত নেতা সাইফুল ইসলাম, ইমাম মোঃ আবুল কালাম আজাদ, বিএনপি নেতা শাহজালাল সরদার প্রমুখ।

বক্তারা অনতিবিলম্বে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেফতারপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।

আওয়ামী লীগের সবাইকে ক্ষমা চাইতে হবে: মির্জা আব্বাস

বিএনপির ঢাকা মহানগর আহবায়ক মির্জা আব্বাস বলেছেন, নবী করিম (স.) এবং তাবলিগ জামাতকে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর কটূক্তির জন্য শুধু তাকেই নয় আওয়ামী লীগের সবাইকে একযোগে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আব্দুল লতিফ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে দলের মনের কথাই বলেছেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীনদের গুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি রাজপথ ছাড়বে না। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।

সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, অযথা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিবেন না। এতে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও বক্তব্য রাখেন।

ব্রাভো লতিফ সিদ্দিকী: তসলিমা নাসরিন

হজ, তাবলীগ ও প্রধানমন্ত্রী তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করার পর লতিফ সিদ্দিকীর পক্ষে কেউ না দাঁড়ালেও বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন তাকে সমর্থন দিয়েছেন।

তসলিমা নাসরিন তার ফেসবুক ও টুইটারে এ সংক্রান্ত চরটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন। একটিতে লিখেছেন “ব্রাভো লতিফ সিদ্দিকী!” তিনি লতিফ সিদ্দিকীকে অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি সরকারের সমালোচনাও করেন।

অপর এক স্ট্যাটাসে তসলিমা লিখেছেন, এতদিনে বাংলাদেশের কোন মন্ত্রীর মুখে কিছু সত্যভাষণ শুনলাম। আরও মন্ত্রী যেন শেখেন সত্য কথা বলা। এতকাল তো মন্ত্রীকুলের মুখে মিথ্যেই শুনেছি, মিথ্যে প্রতিশ্রুতি শুনেছি, ধর্মের মিথ্যে স্তুতি শুনেছি। এবার সত্য কিছু কথা শুনে প্রাণ জুড়োলো।

তৃতীয় স্ট্যাটাসে লিখেছেন, বাংলাদেশ আবার প্রমাণ করলো এ কোনও গণতান্ত্রিক দেশ নয়। কোনও সভ্য দেশ নয় এই দেশ। এই দেশ পৃথিবীর অন্যতম বর্বর দেশ। প্রমাণ করলো এই দেশ ইসলামী সন্ত্রাসীদের দেশ। কিছু সত্য কথা বলেছেন বলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রী পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। দেশের লক্ষ লক্ষ অশিক্ষিত ধর্মান্ধ বর্বর তাঁকে দেশে ঢুকতে দেবে না বলে চিৎকার করছে। সরকারী দল আর বিরোধী দলের মধ্যে কে কত বেশি ধর্মান্ধ বর্বর, তার প্রতিযোগিতা চলে। লতিফ সিদ্দিকীকে অপসারণ করে ধর্মান্ধ সরকার বুঝিয়ে দিতে চাইছে, তারাও দেশের অশিক্ষিত ইসলামী সন্ত্রাসীদের মতো অশিক্ষিত, তারাও তাদের মতো ধর্মান্ধ, তারাও বর্বর, তারাও কোনও ভিন্ন মতকে বরদাস্ত করে না, তারাও সত্যিকার গণতন্ত্রে এবং মুক্তচিন্তায় বিশ্বাস করে না। ধর্মান্ধ বর্বরদের দেশটায় আমার জন্ম হয়েছিল, ভাবতেই লজ্জা হয় আমার।

চতূর্থ স্ট্যাটাসে বাংলাদেশকে মুসলিম মৌলবাদী দেশ উল্লেখ করে তসলিমা ইসলাম ধর্মের প্রচণ্ড সমালোচনা করেছেন। ধর্মীয় অনুভূতির কথা বিবেচনায় রেখে শেষ স্ট্যাটাসটা প্রকাশ করা গেল না।

সৌজন্যে : প্রিয়.কম

লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় সদ্যসাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই বহিষ্কারের খবর নিশ্চিত করেছেন সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন কামরান। তিনি জানান, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত। তাকে দলে রাখার প্রশ্নই আসে না।

এদিকে এনটিভি তাদের এক সংবাদে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেখানে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের নিজ অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারেরও ইঙ্গিত দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, হজ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য লন্ডনে অবস্থানকালেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এখন দল থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে তিনি বলেছেন।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহববুল আলম হানিফ জানান।

মাহববুল আলম হানিফ জানান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং ক্যাবিনেট সচিবসহ অনেকেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁর অব্যাহতি পত্র এখনো দেয়া হয়নি। তবে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেয়া হবে।

তিনি জানান, লতিফ সিদ্দিকী হজ্ব নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তার দায় সরকার বা দল নেয়নি। নিতে পারেনা। তাই এর দায়দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত করেছেন। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় করার শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইর্য়ক সফরকালে গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ্ব আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ্ব ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী। এ হজ্বে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজ্বের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনও কাম নাই। এদের কোনও প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনও কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।

তিনি তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে। জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।

প্রবাসীদের সম্পর্কে এসময় তিনি মন্তব্য করেন, বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে। রাজনীতি করার দরকার কী?

মঞ্চে বসা টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. নুরুন্নবীকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের জন্য একবার তাঁর (নুরুন্নবী) কাছে চাঁদা চেয়েছিলাম। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এক লাখের কম কারও কাছ থেকে চাঁদা নেয় না।

সৌজন্যে : প্রিয়.কম

আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিজেও একজন হাজি!

হজ নিয়ে কটূক্তিকারী ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী নিজেও একজন হাজি। ১৯৯৮ সালে তিনি হজ পালন করেন বলে জানা গেছে। অথচ নিজে হাজি হয়ে তিনি হজ সম্পর্কে বিতর্কিত বক্তব্য প্রদান করে সম্প্রতি তিনি মন্ত্রিত্ব খুইয়েছেন।

নিউইয়র্কে সম্প্রতি তিনি ইসলাম ধর্মের অন্যতম স্তম্ভ হজ, মহানবী (স.) ও তাবলিগ জামাত নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করেন। এরপর তার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠে প্রবাসে ও দেশের সাধারণ মানুষ। বিব্রত হয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও সরকারে থাকা মন্ত্রীরাও।

মানুষের দাবির মুখে মন্ত্রিসভা থেকে তাকে অপসারণ করা হয়েছে বলে জানান মাহবুব-উল হক হানিফ।

এদিকে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী হজের বিরোধীতা করে বক্তব্য দিলেও তিনি হজ করেছেন বলে জানান তার এলাকা টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মোল্লা।

তিনি বলেন, আমার পিতা আলহাজ খোরশেদ আলী মোল্লার সঙ্গে মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী ১৯৯৮ সালে হজ পালন করেছেন।