সম্প্রচার নীতিমালা চ্যালেঞ্জ করে রিট

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪-এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট করেছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। অ্যাডভোকেট ইউনুস আলী আকন্দ সোমবার সকালে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দায়ের করেন। আগামীকাল মঙ্গলবার রিটের শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

রিটে সম্প্রচার নীতিমালা-২০১৪ কেন বাতিল করা হবে না তা জানতে চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। সেইসঙ্গে এ বিষয়ে রুল জারি করতে এবং সেই রুলের শুনানি চলা পর্যন্ত সম্প্রচার নীতিমালার স্থগিত চেয়ে আবেদন করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা সম্পর্কে আদালতের কাছে একটি গাইডলাইন চাওয়া হয়েছে।

রিটকারী ইউনুস আলী  জানান, বর্তমান সম্প্রচার নীতিমালায় সংবিধানের ৭,১১, ২৬,২৭ ও ৩৯ ধারা লঙ্ঘন করা হয়েছে। সেজন্যই এ রিট করা হয়েছে।

তিনি জানান, মঙ্গলবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি আবু তাহের মোহাম্মদ সাইফুর রহমানের অবকাশকালীন বেঞ্চে রিটটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও তথ্য সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

কণ্ঠরোধ নয় কল্যাণের জন্যই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা: তথ্যমন্ত্রী

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধের জন্য নয়, এটি করা হয়েছে কল্যাণের জন্যই বলে মন্তব্য করেছেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু।

সোমবার সচিবালয়ের তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সম্প্রচার নীতিমালা নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এমন্তব্য করেন। জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট প্রকাশের পর এ নিয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন মহলের বিরূপ সমালোচনার পর এই প্রথম সরকারের ব্যাখ্যা নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে আসলেন মন্ত্রী।

এসময় সম্প্রচার মাধ্যমের ‘স্বচ্ছতা-জবাবদিহিতা’ প্রতিষ্ঠা করে সমাজে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও মানবাধিকার সমুন্নত রাখতে এই নীতিমালা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ইনু।

তথ্যমন্ত্রী দাবি করেন, সম্প্রচার নীতিমালা গণমাধ্যমের জন্য কল্যাণকর। সম্প্রচার নীতিমালায় তথ্য মন্ত্রণালয়কে কোনো ক্ষমতা দেওয়া হয়নি; বরং মন্ত্রণালয় সম্প্রচার মাধ্যমের ওপর থেকে বিদ্যমান দায়িত্ব গুটিয়ে নিয়ে কমিশনের হাতে সেই দায়িত্ব অর্পণের জন্য স্বপ্রণোদিত হয়ে এই নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।

ঘোষিত সম্প্রচার নীতিমালায় বলা হয়েছে সশস্ত্র বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ, বিদ্রূপ বা পেশাগত ভাবমূর্তি বিনষ্টকারী দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না- এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই। এ ধারায় সত্য প্রকাশে বিরত থাকতে বলা হয়নি। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী যদি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেন, তার বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে বাধা নেই।

সম্প্রচার নীতিমালার বিভিন্ন বিষয় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক- এমন সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। সংবিধানের ৩৯ ধারা অনুযায়ী এবং দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সংগতি রেখেই এই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, এই সম্প্রচার নীতিমালা নির্দেশনামূলক। এটা কোনো আইন নয়। সম্প্রচার কমিশনই সম্প্রচার মাধ্যমসংক্রান্ত বিষয়গুলো নিশ্চিত করবে।

মন্ত্রী বলেন, যত দ্রুত সম্ভব সম্প্রচার কমিশন গঠনের জন্য আমরা কাজ করে যাব।

নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির সদস্যদের মতামত যথাযথভাবে প্রতিফলন হয়নি- এমন অভিযোগের জবাবে ইনু বলেন, কমিটির সদস্যদের যুক্তিযুক্ত প্রস্তাব সবই গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, আগামীতে এ নীতিমালার ভিত্তিতে আইন হবে। তাই এই নীতিমালার কোনো ব্যাখ্যা থাকলে আইন প্রণয়নের সময়ে সেই ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

উল্লেখ্য, সশস্ত্র বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় অথবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায়, এমন বিষয় প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য গত ৪ অগাস্ট সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা। গত ৮ অগাস্ট এই নীতিমালার গেজেট প্রকাশ করে তথ্য মন্ত্রণালয়। নিয়মানুযায়ী ওই দিন থেকেই নীতিমালাটি কার্যকর হয়েছে।

বিএনপি এই নীতিমালাকে ‘সম্প্রচার নিয়ন্ত্রণ ও দলনের নীতিমালা’ আখ্যায়িত করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে। সাংবাদিকদের একটি অংশ এই নীতিমালা বাতিলের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভও করেছে।

সম্প্রচার নীতিমালা বিষয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসীন আলীর বক্তব্য তার একান্ত ব্যক্তিগত, এটা সরকারের বক্তব্য নয় বলে মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু। এসময় তিনি সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর হয়ে দুঃখও প্রকাশ করেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার সাংবাদিকদের কণ্ঠ রোধ করতে চায় না বা তাদের অধিকার খর্ব করতেও চায় না। এ সম্পর্কে সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর বক্তব্য তার একান্ত ব্যক্তিগত, এটা সরকারের মন্তব্য নয়।

তথ্যমন্ত্রী সমাজকল্যাণ মন্ত্রী সম্পর্কে বলেন, তিনি আমাদের চমৎকার সহকর্মী, হাসিখুশি মানুষ। তিনি যা বক্তব্য দিয়েছেন তা গণমাধ্যম প্রকাশ করেছে। পরে তিনি নিজের এ মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর হয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সাংবাদিকদের বিষয়টি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানান।

এছাড়া ঈদের আগে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বিতর্কিত ব্যক্তি মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে একটি অনুষ্ঠান প্রচার করা হয়। এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিশন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আজকালের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

প্রকাশ হয়েছে জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট

জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা ২০১৪-এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার।বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে এ জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এর আগে গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা এই জাতীয় সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করা হয়। তথ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মীর আকরাম উদ্দিন আহমেদ এ কথা জানান। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব (সম্প্রচার) মো. আবুল হোসেন জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে সম্প্রচার নীতিমালার গেজেট জারি করা হয়েছে।

নিয়মানুযায়ী গেজেট জারির দিন থেকেই এই নীতিমালাটি কার্যকর হবে। নীতিমালা অনুযায়ী স্বাধীন জাতীয় সম্প্রচার কমিশন গঠনের আগ পর্যন্ত এই নীতিমালা বাস্তবায়নে কর্তৃত্ব থাকবে তথ্য মন্ত্রণালয়ের। তথ্য মন্ত্রণালয় থেকে কর্তৃত্ব স্বাধীন কমিশন গঠনের কাছে দ্রুত হাস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, এই নীতিমালার আলোকে আইন প্রণয়ন করে শিগগিরই সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হবে। সশস্ত্র বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় অথবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায়, এমন বিষয় প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য গত সোমবার সম্প্রচার নীতিমালা অনুমোদন করে মন্ত্রিসভা।

এর মাধ্যমে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ হবে না বলে সরকার বলে এলেও বিএনপি বলছে, এই নীতিমালার মাধ্যমে সরকার মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করতে চাইছে। সশস্ত্র বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় অথবা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ায়, এমন বিষয় প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়ে টেলিভিশন ও রেডিওর জন্য নীতিমালা অনুমোদন করেছে সরকার। এতে টক শোতে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন না করার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেতার ও টিভির লাইসেন্স দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে।

গত সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ওই অনুমোদন দেওয়া হয়। বৈঠকের পরে মন্ত্রিপরিষদের সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, সরকারি ও বেসরকারি টিভি দুটোর ক্ষেত্রেই ওই নীতিমালা কার্যকর করা হবে। কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত সম্প্রচার নীতিমালা বাস্তবায়নের দায়িত্ব তথ্য মন্ত্রণালয় পালন করবে।টিভি,রেডিওর মাধ্যমে প্রচারিত সংবাদকে নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনতে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

বেসরকারি টেলিভিশনের প্রতিনিধিরা তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় সম্প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা যাতে সংকুচিত না হয়, তার ওপর জোর দেন। নীতিমালার বিভিন্ন ধারা নিয়ে বেসরকারি টিভির প্রতিনিধিদের মধ্যে অস্বস্তি ছিল। এর মধ্যে রয়েছে সশস্ত্র বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কোনো বাহিনীর প্রতি কটাক্ষ বা অবমাননাকর দৃশ্য বা বক্তব্য প্রচার করা যাবে না, অপরাধীদের দণ্ড দিতে পারেন এমন সরকারি কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার মতো দৃশ্য বা বক্তব্যও প্রচার করা যাবে না, জনস্বার্থ বিঘ্নিত হতে পাওে এমন কোনো বিদ্রোহ, নৈরাজ্য ও হিংসাত্মক ঘটনা প্রচার করা যাবে না প্রভৃতি। তবে এসব ধারাসহই নীতিমালার খসড়াটির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নীতিমালায় আরও বলা হয়,কোনো জাতি বা জনগোষ্ঠী, দেশের মর্যাদা বা ইতিহাসের জন্য ক্ষতিকর এমন কোনোকিছু, বিদেশি রাষ্ট্রের অনুকূলে যায় এমন কিছু প্রচার বা প্রকাশ করা যাবে না। টক শোতে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন না করার কথাও নীতিমালায় উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে ব্যক্তিগত বিষয়ে ক্ষতিকর কোনোকিছু প্রচার বা প্রকাশ না করার কথা বলা হয়।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসইন ভূইঞা আরও বলেন, এই প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হলো। সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শেয়ারের অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করে এটি করা হয়েছে বলে তিনি জানান।

নীতিমালায় বেতার বা টিভির লাইসেন্স কীভাবে দেওয়া হবে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। মূল্যবোধ, ভাষা, সংস্কৃতি, ধর্মীয় অনুভূতি, রাষ্ট্র প্রশাসনের মূলনীতি ও তার নিশ্চয়তা বিধানের জন্যই নীতিমালা করা হয়েছে বলে মন্ত্রিপরিষদসচিব জানান।

বাংলাদেশে প্রণীত প্রথম এই পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করবে বলে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপি দাবি করলেও তা নাকচ করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের তথ্য জানানোর পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ মোশাররাফ হোসাইন ভূইঞা বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের প্রশ্নই আসে না।

সরকার এবং সরকারে বাইরের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করেই নীতিমালা করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, মন্ত্রিসভা মনে করে, এটি একটি ভালো নীতিমালা হয়েছে এবং সম্প্রচার শিল্পের জন্য এটি ভালো উদ্যোগ।বাংলাদেশে এতদিন সম্প্রচার মাধ্যমের জন্য পূর্ণাঙ্গ কোনো নীতিমালা না থাকায় সম্প্রচার মাধ্যমের লাইসেন্স দেয়া এবং তাদের পরিচালনা পদ্ধতি নিয়ে বেশ সমালোচনা ছিল।

এ নীতিমালার আলোকে একটি আইন করা হবে, যার মাধ্যমে একটি স্বাধীন সম্প্রচার কমিশন গঠন করা হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান।স্বাধীন এই কমিশন লাইসেন্স প্রদান, লাইসেন্স ফি নির্ধারণ, সম্প্রচার কার্য়ক্রম তদারকি করবে। এই কমিশনে সাংবাদিকরাও থাকবেন।

সম্প্রচার কমিশন ও আইন না হওয়া পর্যন্ত সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় সম্প্রচার-সম্পর্কিত সব সিদ্ধান্ত নেবে, কারণ নীতিমালা বাস্তবায়ন সরকার করে থাকে, এটি হবে সাময়িক,বলেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।নতুন নীতিমালায় সাতটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে পটভূমি, লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও নীতিমালা বাস্তবায়নের কৌশল উল্লেখ করা হয়েছে।

দ্বিতীয় অধ্যায়ে সম্প্রচার লাইসেন্সের বিষয়ে বলা হয়েছে। এখানে লাইসেন্স প্রদান ও পদ্ধতি এবং এক্ষেত্রে সম্প্রচার কমিশনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে। লাইসেন্স প্রদানের ক্ষেত্রে কমিশনের একটি বড় ভূমিকা থাকবে, বলেন মোশাররাফ হোসাইন।

সংবাদ ও অনুষ্ঠান সম্প্রচারের বিষয়ে বলা হয়েছে তৃতীয় অধ্যায়ে। বিশেষ করে অনুসরণীয় মানদণ্ড কী হবে, তা এখানে আছে। এখানে বলা হয়েছে সংবাদ ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে সম্প্রচার মাধ্যমকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমুন্নত রাখা, আমাদের ভাষা-সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ লালন, উন্নয়নমূলক বিষয় জনগণের কাছে তুলে ধরতে হবে।

কী কী বিষয় অনুসরণ করে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে হবে, সে বিষয়ে বলা হয়েছে চতুর্থ অধ্যায়ে। বিজ্ঞাপন প্রচারের ক্ষেত্রে পণ্যের মান ও ভোক্তা অধিকার সমুন্নত রাখতে হবে। বিজ্ঞাপনও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আমাদের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ সহায়ক হতে হবে। একই সঙ্গে শিশু ও নারী অধিকার সুরক্ষা করতে হবে।

পঞ্চম অধ্যায়ে সম্প্রচারের ক্ষেত্রে আরো কিছু বিবেচ্য বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। কোন কোন বিষয় সম্প্রচার করা যাবে না, করা সমীচীন হবে না, তার উল্লেখ রয়েছে এখানে।

ষষ্ঠ অধ্যায়ে সম্প্রচার কমিশন সম্পর্কে বলা হয়েছে। কমিশন গঠন, আইনি কাঠামো, দায়িত্ব, কাজের পদ্ধতি, কী কী অভিযোগ কমিশন গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করবে এ বিষয়গুলো এখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

সপ্তম অধ্যায়টি বিবিধ বিষয়ে। সম্প্রচার কমিশন গঠন না হওয়া পর্যন্ত কিভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হবে, সে বিষয়সহ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে এই অধ্যায়ে।

এই নীতিমালা বেসরকারির পাশাপাশি সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমের জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান। এর উদ্দেশ্য বলা হয়েছে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তথ্যর অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত, সম্প্রচার মাধ্যমের স্বাধীনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা নিশ্চিত এবং স্বাধীন দায়িত্বশীল গণমাধ্যম বিকশিত করতেই এ নীতিমালা করা হয়েছে।