তারেক রহমানের শাস্তির দাবীতে গৌরনদীতে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ সমাবেশ

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে কটুক্তি করার প্রতিবাদে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানের শাস্তির দাবীতে সকালে বরিশালের গৌরনদীতে সরকারিদলের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে।

সকাল ১০টায় আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ডে বিক্ষোভ শেষে তারেক রহমানের কুশপুত্তলিকা দাহ করে।

শেষে উপজেলা ছাত্রলীগ অফিসের সামনে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান।

ইতালির মিলানে প্রধানমন্ত্রীর গনসম্বর্ধনায় হল্যান্ড আওয়ামী লীগের যোগদান

ইতালি আওয়ামী লীগ শাখার উদ্যোগে ও মিলান লোম্বার্দিয়া আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্বাবধানে এক গণসংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদা উজ্জ্বল করতে প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি সব ধরনের প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রবাসী বাংলাদেশিরা ইতালির মিলানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এক গণসংবর্ধনা দেন।

জননেত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কল্যাণের জন্য বিভিন্নভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা অবদান রাখছেন। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখছে। মহান স্বাধীনতার যুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও সংগ্রামে প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, তাদের অসামান্য অবদান দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করেছে।

তিনি তাদেরকে বাংলাদেশের অর্থনীতি জোরদার এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও স্বাধীনতার মতাদর্শগত মূল্যবোধ সমুন্নত রাখতে আরো অবদান রাখারও আহ্বান জানান।বিএনপি-জামায়াতের দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ ও অর্থ পাচারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এই অপশক্তি যখনই ক্ষমতায় এসেছে, দেশে সীমাহীন দুর্নীতি, ব্যাপক অর্থ পাচার, সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদের রাজত্ব কায়েম করেছে।

তিনি গত পাঁচ বছর আট মাসে তার সরকারের সাফল্যের কথা তুলে ধরে বলেন, তার সরকার ২০১২ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। holland-awamiligue-2014

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, যোগাযোগ, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও আইসিটি খাতের উন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়নের বিস্তারিত তুলে ধরেন। প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সবার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বাংলাদেশ ২০২১ সাল নাগাদ একটি মধ্যম আয়ের দেশ ও ২০৪১ সাল নাগাদ একটি উন্নত দেশে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আওয়ামী লীগ ইতালি শাখার সভাপতি ইদ্রিস ফরাজির সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ইকবালের পরিচালনায় ও মিলান আওয়ামী লীগের সার্বিক তত্বধায়নে বক্তব্য রাখেন, অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগ সভাপতি অনিল দাসগুপ্ত, ইতালী আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আবু সাঈদ খান, হাবীব চৌধুরী, লিটন মোল্লা, জাহাঙ্গীর ফরাজী, জসিম উদ্দিন, যুগ্ম সম্পাদক এমএ রব মিন্টু, মিলান আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ শাহ আলম প্রমুখ।

গনসম্বর্ধনায় উপস্থিত ছিলেন অল ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের সভাপতি শ্রী অনিল দাশগুপ্ত ও সাধারণ সম্পাদক এম এ গনি, যুগ্ম-সম্পাদক, শামীম হক ও এম. নজরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক, কিবরিয়া ভুইয়া, ইউরোপিয়ান আওয়ামী লীগের প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক হাসনাত মিয়া, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ, জার্মান আওয়ামী লীগের সভাপতি বশিরুল ইসলাম সাবু, হল্যান্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মুরাদ খান, বেলজিয়াম আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রশীদ ও আওয়ামী লীগ নেতা শহীদ আহমেদ, ফিনল্যাণ্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলী রমজান, ফ্রান্স আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর শেলী, ডেনমার্ক আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী লিংকন, আয়ারল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুনায়েম রানা ও রফিক খান, সুইজারল্যান্ড আওয়ামী লীগের, সভাপতি হারুন অর রশিদ, মহিলা বিষয়ক সম্পাদিকা জাহানারা বাশার ও সাবেক সেক্রেটারি তাজুল ইসলাম, সুইডেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির ও ড: ফরহাদ খান, পর্তুগাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক শওকত ওসমান, স্পেন আওয়ামী লীগ সভাপতি নয়ন ভাই ও সাধারণ সম্পাদক পান্না ভাই, গ্রিস আওয়ামী লীগ সভাপতি রোকন উদ্দিন, ইতালি প্রবাসী বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী নেসার, অস্ট্রিয়া, নরওয়ে ও সাইপ্রাস আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ সহ ইউরোপ থেকে আগত হাজার হাজার নেতা কর্মী ও সমর্থকগণ।

হাসনাত তনয় সাদিক আব্দুল্লাহ মহানগর আওয়ামী লীগের হাল ধরছেন

বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের হাল ধরছেন সেরনিয়াবাদ সাদিক আবদুল্লাহ। বরিশাল জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বরিশাল ১ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য আবুল হাসানাত আবদুল্লাহর পুত্র।

২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর বরিশাল আ’লীগের কর্মকান্ডে সরব হন সাদিক আব্দুল্লাহ।  সে থেকে দলের প্রতিটি কর্মসূচী ও সামাজিক কর্মকান্ডে তার পদচারনাই প্রমান করে দলে নিজের অবস্থান পাকা পোক্ত করছেন তিনি।

 

বরিশাল মহানগর আ’লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক মেয়র শওকত হোসেন হিরনের মৃত্যুর পর শুন্য হয় সভাপতির পদ। এই পদের জন্য মরিয়া হয়ে কেন্দ্রে লবিং তদবির শুরু করেন এখানকার আ’লীগের নেতা কর্মীরা।

 

এদিকে আ’লীগের হাসনাত ও হিরন সমর্থকদের মধ্যে সভাপতি পদ নিয়ে চলছে টানা হেচরা । হিরন শিবির চাইছে দলের এই ভাইটাল পদটি হিরন পত্নি জেবুন্নেছা আফরোজকে দেয়ার। তার পক্ষের যুক্তি হচ্ছে যেহেতু হিরন এই পদে ছিলেন সেহেতু তার স্ত্রী সদর আসনের সংসদ সদস্য জেবুন্নেছা আফরোজই এই পদের দাবীদার বা যোগ্য।  হিরন শিবিরের একাংশ প্রকাশ্যে জেবুন্নেছা আফরোজের পক্ষে গলা ফাটালেও ভেতরে ভেতরে তারা নিজেরাই সভাপতি পদের প্রার্থী হয়ে কেন্দ্রে যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

 

অপরদিকে সভাপতি নয় সাধারন সম্পাদক পদের জন্য হাসনাত শিবিরের নেতা কর্মীরা ঈদের পরপরই ঘরোয়া বৈঠক করে যুবলীগের কেন্দ্রিয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লার নাম প্রস্তাব করেন।  তাদের বক্তব্য হচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচী মোকাবেলায় বরিশাল মহানগরে শক্ত বলিষ্ঠ নেতৃত্ব প্রয়োজন । আর এই মুহুর্তে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লার বিকল্প কোন নেতা মহানগরে তৈরি হয়নি।  সভাপতি বা সম্পাদক যে পদই হোক সাদিক আব্দিুল্লাকে না দিলে দলের কঠিন সময় গুলোতে বিরোধীদের মোকাবেলায় বেগ পেতে হবে।  তাই তারা কেন্দ্রে সাদিক আব্দুল্লার জন্য সভপতি বা সম্পাদক পদটি চাইবেন।

 

হাসানাত আব্দুল্লাহর পুত্র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ মহানগর আ’লীগের হিরন ঘরানার অনেক নেতা কর্মীকে তার শিবিরে ভেড়াতে সক্ষম হরেয়ছেন ইতোমধ্যে। যার প্রমান মেলে গত ঈদুল আযহায় কালিবাড়ী রোডের বাসায় শুভেচ্ছা বিনিয় কালে।  সেখানে আকস্বিকভাবেই সাদিক আব্দুল্লার সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হাজির হন হিরন ঘরানার ডজন খানেক নেতা-কর্মী। তারা সেসময় বিগত দিনের কর্মকান্ডের বিষয় আলোচনায় না এনে সাদিক আব্দুল্লার নেতৃত্বে পক্ষে কাজ করার কথা বলেন।

 

সব মিলিয়ে বরিশাল মহানগর আ’লীগের কমিটিতে এবার তরুন নেতৃত্বের দাবী খোদ মহানগরের তৃনমূল নেতা-কর্মীদের। তারা সে ক্ষেত্রে সাদিক আব্দুল্লাকে সাধারন সম্পাদক হিসেবে পেতে চায়।
জেলা ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি জুবায়ের আব্দুল্লাহ জিন্না বলেন, বরিশাল মহানগর আ’লীগের হাল ধরার মত সাদেক আব্দুল্লার বিকল্প এখন আর কাউকে দেখছিনা। তাই তাকে সভাপতি করলে বরিশাল হবে আ’লীগের ঘাটি। এখানে বিরোধী দলের সরকার বিরোধী কোন জ্বালাও পোড়াও কর্মসূচী পালিত হবেনা।

গৌরনদীতে গৃহবধুকে গণধর্ষণের অভিযোগে আওয়ামী লীগের নেতা গ্রেফতার

গৃহবধুকে গণধর্ষণের অভিযোগে রবিববার দুপুরে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ইউপি সদস্য আশ্রাব আলী সরদার (৪৭)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ধর্ষিতা বাদি হয়ে আ’লীগ নেতা আশ্রাব আলী সরদার সহ আরো অজ্ঞাতনামা ৫ জনকে আসামি করে বিকালে গৌরনদী থানায় একটি গণধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে। ধর্ষিতাকে ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ধর্ষিতা ও পুলিশ জানায়, এক বছর পূর্ব থেকে মাদারীপুর সদর থানার বাঘেরপাড় এলাকার গৃহবধুর সাথে গৌরনদী উপজেলার ডুমুরিয়া গ্রামের আওয়ামী লীগের নেতা আশ্রাব আলী সরদারের পরিচয় ছিল। এ সুবাদে গৃহবধু আশ্রাব আলীকে ৩০ হাজার টাকা ধার দেয়। ধারের পাওনা টাকা নেয়ার জন্য আশ্রাব আলী মোবাইল ফোনে গৃহবধুকে গৌরনদীর বাকাই হাটের আলোক দিশারী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আসতে বলে।

শনিবার বিকাল ৫টার দিকে গৃহবধু ও তার বান্ধবী ওই সমিতির কার্যালয়ে আসেন। টাকা দিতে দেরি হবে বলে তাদের সমিতির কার্যালয়ে বসিয়ে রাখে।

রাত ৮টার দিকে আশ্রাব আলী ও তার ৩ সহযোগী সমিতির কার্যালয়ে এসে তাদের মুখে কাপড় দিয়ে বেঁধে ফেলে রাখে। এরপর আশ্রাব ও তার সহযোগীরা বাহির থেকে দরজায় তালা ঝুলিয়ে দিয়ে চলে যায়।

রাত ১১টার দিকে আশ্রাব আলী সরদার ৪ সহযোগীকে নিয়ে সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে বান্ধবীকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এরপর আশ্রাব আলী গৃহবধুকে ধর্ষণ করে।

রাত ১২টার দিকে ধর্ষিতাকে মোটর সাইকেলযোগে একটি নির্জন বাগানে নিয়ে আশ্রাব আরী সরদারের ২ সহযোগী পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে।

রাত ২টার দিকে ধর্ষিতাকে আবার সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে আসে ধর্ষকরা।

বিষয়টি রোববার সকালে জানাজানি হলে গৌরনদী সার্কেলের এএসপি মোঃ কামরুজ্জামান ও ওসি আবুল কালাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাকাই হাট থেকে আশ্রাব আলী সরদারকে গ্রেফতার করে।

এলাকাবাসী জানায়, এ ঘটনার সাথে ডুমুরিয়া ও সালতা গ্রামের শিপন সরদার, ইব্রাহিম কাজী, আনোয়ার বেপারী, শাহালম হাওলাদারসহ আ’লীগ ও যুবলীগের ৫ নেতাকর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লতিফের ফাঁসি চেয়ে একমঞ্চে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জামায়াত

দলীয় নীতি পরস্পর বিরোধী থাকলেও পবিত্র হজ, তাবলিগ জামায়াত ও হযরত মুহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে অশালীন মন্তব্যকারী আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে গ্রেপ্তার ও তার ফাঁসির দাবিতে একমত পোষণ করেছে প্রধান তিনটি রাজনৈতিক দল।

তার ফাঁসির দাবিতে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াত কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চৌহালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ এবং লতিফ সিদ্দিকীর কুশপুত্তলিকা পুড়িয়েছে।

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মুসলমানগণ ব্যানারে বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলা বেবিস্ট্যান্ড থেকে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনতা মিছিল বের করে।

উপজেলা সদর প্রদক্ষিণ শেষে চৌহালী ডিগ্রি কলেজে সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মাওলানা আশরাফ আলীর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হযরত আলী মাস্টার, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর হালিম, উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক সম্পাদক বাবুল আকতার, ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ইদ্রিস আলী মাস্টার, বিএনপি নেতা অধ্যাপক হুমায়ুন আহমেদ, আব্দুস সাত্তার, জামায়াত নেতা অধ্যাপক রবিউল ইসলাম, আব্দুল কুদ্দুস, ইমাম সমিতির সভাপতি আব্দুল লতিফ প্রমুখ।

বক্তারা সবাই লতিফ সিদ্দিকীর ফাঁসির দাবি করেন। আরটিএনএন

ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেখ হাসিনা ও খালেদা জিয়ার বাণী

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসীর উদ্দেশ্যে বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া। বাণীতে উভয়েই ইসলাম ধর্মের আলোকে ঈদুল আজহার অনুপম দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে দেশবাসীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রীর বাণী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পবিত্র ঈদুল আজহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে বিভেদ বৈষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ত্যাগের মহিমায় ভাস্বর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশবাসী ও বিশ্বের সকল মুসলিম জনগোষ্ঠীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ঈদ মোবারক জানান।

বাণীতে তিনি বলেন, মহান আল্লাহর উদ্দেশ্যে প্রিয়বস্তুকে উৎসর্গের মাধ্যমে তাঁর সন্তুষ্টি লাভের যে অনুপম দৃষ্টান্ত হযরত ইব্রাহীম (আ.) স্থাপন করে গেছেন, তা বিশ্ববাসীর কাছে চিরকাল অনুকরণীয় ও অনুসরণীয় হয়ে থাকবে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, এই উৎসবের মধ্যদিয়ে সামর্থ্যবান মুসলমানগণ কোরবানিকৃত পশুর গোশত আত্মীয় ও প্রতিবেশীদের মধ্যে বিলিয়ে দেন এবং সমাজে সাম্যের বাণী প্রতিষ্ঠিত করেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সনের বাণী

বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়ে বলেছেন, দেশে ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য চলছে। মানুষের জান, সহায়-সম্পদের নিরাপত্তা নেই। দেশের বর্তমান অবস্থায় সবার পক্ষে ঈদের আনন্দ যথাযথভারে উপভোগ করা সম্ভব হবে না। তিনি ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে- সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখার আহ্বান জানান।

পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে আমি বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মুসলমানদের আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানান।

তিনি বলেন, ত্যাগের মহিমায় মহিমান্বিত প্রতি বছর ঈদুল আযহা আমাদের মাঝে ফিরে আসে। স্বার্থপরতা পরিহার করে মানবতার কল্যানে নিজেকে উৎসর্গ করা কোরবানির প্রধান শিক্ষা। হিংসা-বিদ্বেষ, লোভ-ক্রোধকে পরিহার করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আত্মনিবেদিত হওয়া আমাদের কর্তব্য। কোরবানির যে মূল শিা তা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত করে মানব কল্যাণে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহ রাব্বুল আল আমিনের সšত্তষ্টি ও নৈকট্য লাভ সম্ভব। বিশ্বাসী হিসেবে সে চেষ্টায় নিমগ্ন থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।

তিনি বলেন, দেশে এক ভয়ঙ্কর নৈরাজ্য চলছে। মানুষের জান, সহায়-সম্পদের কোনো নিরাপত্তা নেই। দেশের বর্তমান অবস্থায় সকলের পে ঈদের আনন্দ যথাযথভারে উপভোগ করা সম্ভব হবে না। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন উর্দ্ধগতি দরিদ্র ও কম আয়ের মানুষকে চরম দূর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। পানি, জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুতের তীব্র সঙ্কট জনজীবনে দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি করেছে। আবারো গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হচ্ছে। গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের দাম দ্বিগুণ বৃদ্ধির তোড়জোড় চলছে। যেকোনো মুহূর্তে সাধারণ মানুষের ওপর দাম বৃদ্ধির বোঝা চাপানো হবে। এতে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তের মানুষ আরো বিপন্ন হয়ে পড়বে। তাই আমি দেশের সকল বিত্তবান ও সামর্থবান ব্যক্তিদের আহবান জানাই-দরিদ্র ও অসহায় মানুষের দিকে সাহায্য ও সহমর্মিতার হাত প্রসারিত করার জন্য। ঈদের আনন্দের দিনে কেউ যাতে অভুক্ত না থাকে-সেদিকে আমাদের সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। সবাইকে ঈদের আনন্দকে একসাথে ভাগ করে নিতে হবে এক কাতারে মিলে।

তিনি বলেন, ঈদুল আযহা সবার জীবনে বয়ে আনুক সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি, সমাজে সৃষ্টি হোক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে মেলবন্ধন, মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে এই প্রার্থনা জানাই।

আওয়ামী লীগের সবাইকে ক্ষমা চাইতে হবে: মির্জা আব্বাস

বিএনপির ঢাকা মহানগর আহবায়ক মির্জা আব্বাস বলেছেন, নবী করিম (স.) এবং তাবলিগ জামাতকে নিয়ে লতিফ সিদ্দিকীর কটূক্তির জন্য শুধু তাকেই নয় আওয়ামী লীগের সবাইকে একযোগে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে হবে।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় জাতীয় প্রেসক্লাবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রশীদ হাবিবকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আব্দুল লতিফ আওয়ামী লীগের মুখপাত্র হিসেবে দলের মনের কথাই বলেছেন।

মির্জা আব্বাস বলেন, ক্ষমতাসীনদের গুলি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিএনপি রাজপথ ছাড়বে না। ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপি সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেছে।

সরকারের উদ্দেশে মির্জা আব্বাস বলেন, অযথা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিবেন না। এতে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।

সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন এবং তারাও বক্তব্য রাখেন।

লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত

ইসলামের অন্যতম স্তম্ভ হজ ও সজীব ওয়াজেদ জয়কে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় সদ্যসাবেক ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকেও বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এই বহিষ্কারের খবর নিশ্চিত করেছেন সিলেটের সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন কামরান। তিনি জানান, আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এমন বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী মর্মাহত। তাকে দলে রাখার প্রশ্নই আসে না।

এদিকে এনটিভি তাদের এক সংবাদে জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য সফর শেষে ঢাকা ফেরার পথে বৃহস্পতিবার সকালে সিলেটে এক ঘণ্টার যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় সেখানে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের নিজ অসন্তুষ্টির কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় তিনি লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারেরও ইঙ্গিত দেন।

প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ফ্লাইট ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করার পর আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ সাংবাদিকদের বলেন, হজ নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্যের জন্য লন্ডনে অবস্থানকালেই লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। এখন দল থেকেও তাকে অব্যাহতি দেয়া হবে বলে তিনি বলেছেন।

এর আগে গতকাল বুধবার বিকেলে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিপরিষদ থেকে অব্যাহতি দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানান আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহববুল আলম হানিফ জানান।

মাহববুল আলম হানিফ জানান, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং ক্যাবিনেট সচিবসহ অনেকেই দেশের বাইরে থাকায় তাঁর অব্যাহতি পত্র এখনো দেয়া হয়নি। তবে তাকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেয়া হয়েছে। বুধবার প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পরই তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেয়া হবে।

তিনি জানান, লতিফ সিদ্দিকী হজ্ব নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তার দায় সরকার বা দল নেয়নি। নিতে পারেনা। তাই এর দায়দায়িত্ব তাকেই নিতে হবে। তিনি মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে চরম আঘাত করেছেন। তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বিদায় করার শুধু আনুষ্ঠানিকতা বাকি আছে।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর সাথে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইর্য়ক সফরকালে গত ২৮ সেপ্টেম্বর একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী বলেন, আমি কিন্তু হজ্ব আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ্ব ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী। এ হজ্বে যে কত ম্যানপাওয়ার নষ্ট হয়। হজ্বের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনও কাম নাই। এদের কোনও প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, তাবলিগ জামাত প্রতি বছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদেরতো কোনও কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।

তিনি তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তনয় সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিষয়েও বিরূপ মন্তব্য করেন। তিনি প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে বলেন, কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন। ‘জয় ভাই’ কে। জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। তিনি কোন সিদ্ধান্ত নেয়ারও কেউ নন।

প্রবাসীদের সম্পর্কে এসময় তিনি মন্তব্য করেন, বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে। রাজনীতি করার দরকার কী?

মঞ্চে বসা টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. নুরুন্নবীকে উদ্দেশ করে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের জন্য একবার তাঁর (নুরুন্নবী) কাছে চাঁদা চেয়েছিলাম। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এক লাখের কম কারও কাছ থেকে চাঁদা নেয় না।

সৌজন্যে : প্রিয়.কম

আওয়ামী লীগে যোগ দিলেন ৩ স্বতন্ত্র নারী সাংসদ

জাতীয় সংসদ

সংরক্ষিত নারী সাংসদ কাজী রোজী, নূর জাহান বেগম ও উন্মে রাজিয়া কাজল আওয়ামী লীগে যোগদান করেছেন।

সোমবার চলতি সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শুরুর আগের দিন সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের সহকারী সচিব শওকত আকবর এক চিঠিতে নির্বাচন কমিশন সচিবকে একথা জানান।

দশম জাতীয় সংসদে স্বতন্ত্র জোট থেকে নির্বাচিত হয়েছিলেন এই তিনজন।

সংসদের প্রথম ও দ্বিতীয় অধিবেশনে তারা ‘স্বতন্ত্র’ থাকলেও তৃতীয় অধিবেশনে এসে ক্ষমতাসীন দলে অন্তর্ভুক্ত হলেন এই তিন সাংসদ। সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মধ্যে এবার আনুপাতিক হারে আওয়ামী লীগ ৩৯টি এবং তাদের শরিক জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি করে আসন পায়। বিরোধী দল জাতীয় পার্টি পায় ছয়টি আসন।

আর ১৬ জন স্বতন্ত্র সাংসদের জোট থেকে মনোনীত কাজী রোজী, নূর জাহান বেগম ও উন্মে রাজিয়া কাজল সংসদে আসেন। কিন্তু সরাসরি নির্বাচিত স্বতন্ত্র সাংসদদের ছেড়ে তারা এখন ক্ষমতাসীন দলে যোগ দিলেন।

ছাত্রলীগকে ভোগের রাজনীতি বাদ দিয়ে ত্যাগের রাজনীতি করার আহবান জানিয়েছে শেখ হাসিনা

ইয়াহিয়ার পালিত কুকুররা এখনও দেশের মাটিতে আছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রোববার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১৫ আগস্ট শোক দিবস উপলক্ষ্যে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিব’ স্মরণে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত ছাত্রসমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

স্বাধীনতা বিরোধীদের ব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরা যেন কোনোভাবেই মাথাচাড়া না দিতে পারে সেদিকে সজাগ থাকতে হবে। দেশের ছাত্রসমাজকে সাথে নিয়ে ছাত্রলীগকে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

অনেকে স্বজন হারানোর বেদনার কথা বলেন উল্লেখ কলে শেখ হাসিনা বলেন, কিন্তু আমি যে সব হারা। মা বাবার আত্মা যেন শান্তি পায় তাই সব হারানোর বেদনা নিয়েই দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি ‘ভোগে নয় ত্যাগেই তৃপ্তি’।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ভোগের রাজনীতি বাদ দিয়ে ত্যাগের রাজনীতি করার নির্দেশ দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, যারা ভোগের রাজনীতি করেছে, তারা ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। এখনও যারা করছে তারাও হারিয়ে যাবে।

এসময় তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের আদর্শে অনুপ্রাণিত হতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে নেতৃত্ব নিজের চাওয়া-পাওয়াকে বড় করে দেখে তারা দেশকে কিছুই দিতে পারে না। দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। দেশকে গড়ে তুলতে হবে।

নিজের জীবন নিয়ে পরোয়া করেন না মন্তব্য করে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, মৃত্যুকে আমি পরোয়া করি না। জীবন দেওয়ার মালিক আল্লাহ, আবার নেওয়ার মালিকও আল্লাহ। আমি আল্লাহ ছাড়া আর কারও সামনে মাথা নত করি না। আমি একটা নীতি আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করি। নিজের জীবনের দিকে তাকাই না। কি পেলাম তা নিয়ে ভাবি না।

শেখ হাসিনা বলেন, কথা দিয়েছিলাম যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করবো। বিচার করেছি। যাদের বাকি আছে তাদেরও করবো।

বঙ্গবন্ধুর স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতি শুরু করেন বঙ্গবন্ধু। ১৯৪৮ সালে ছাত্রলীগ প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করতে। বাঙ্গালি জাতির স্বাধীনতা অর্জনের যে কোনো আন্দোলনে ছাত্রলীগের অবদান ছিল। তাই বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ছাত্রলীগের ইতিহাস বাংলাদেশের ইতিহাস।

ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে শেখ হাসিনা বলেন, আমারও ছাত্রলীগের সদস্য হিসেবে রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। বঙ্গবন্ধুর প্রত্যেকটি কাজের পেছনে অনুপ্রেরণাদাত্রী হিসেবে কাজ করতেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেসা মুজিব। বঙ্গমাতার সাথে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যোগাযোগ রাখতেন। প্রত্যেক আন্দোলন সংগ্রামে তার অবদান রয়েছে। তিনি বঙ্গবন্ধুর জীবনে পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন। বঙ্গবন্ধু সংগঠনকে শক্তিশালী করার জন্য মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করেন। এই সিদ্ধান্ত নেয়ার পেছনেও অনুপ্রেরণা দেন বঙ্গমাতা।

৭ মার্চের ভাষণ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৭ মার্চের ভাষণ মানুষের মাঝে প্রেরণা দিয়েছে। এটা ঐতিহাসিক ভাষণ। সেই ভাষণ আজ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। যা মানবজাতির আড়াই হাজার বছরের ইতিহাসে সর্বশ্রেষ্ট ভাষণ হিসেবে বিবেচিত। এই ভাষণ একটি জাতিকে প্রেরণা জুগিয়েছিল, মুক্তিযুদ্ধ অর্জনের দিতে ধাবিত করেছিল। তিনি যে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন তার লক্ষ্য ছিল বিজয় অর্জন। তার ডাকে বাঙালিরা অস্ত্র নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পরে।স্বাধীনতার পর তিনি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে ফিরে এ জাতির দায়িত্ব নেন। তিনি দেশকে গড়ে তুলতে কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, এই সেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যেখানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছিলেন। কিন্তু জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া এই ভাষণ বাজাতে দিতেন না। কত নেতাকর্মী এই ভাষণের জন্য জীবন দিয়েছেন। কত নেতাকর্মীর উপর আঘাত এসেছে। কিন্তু এই ভাষণকে থামানো যায়নি। তারা রক্ত দিয়েছে কিন্তু ৭ মার্চের ভাষণ তারা বন্ধ করেননি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, কর্নেল ফারুক, রশিদ ও মেজর হুদাকে দিয়ে এরশাদ পার্টি করিয়েছিলেন। পরে খালেদা জিয়া তাদের সংসদে বসান। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচনে খালেদা জিয়া তাদের বিরোধীদল করেছিলেন। কিন্তু ৩০ মার্চই তাদের পতন ঘটে।

শিক্ষার্থীদের পাসের হার ৯৮ শতাংশ হতে হবে এমন নির্দেশনা শিক্ষামন্ত্রীকে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়ে বলেন, শিক্ষামন্ত্রীকে বলেছি, পাসের হার ৯৮ শতাংশ হতে হবে। এদেশের ছেলেমেয়েরা অনেক মেধাবী। দেশ এখন ডিজিটাল। এদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, কিছু লোক আছে তাদের কিছুই ভালো লাগে না। ইয়াহিয়া খানের সময় তারা দালালি করেছে, পা চাটা কুকুর ছিল। এখনও তেমন কিছু পা চাটা কুকুর রয়েছে। এরা ১৫ আগস্ট ও ২১ আগস্টের সময় ঘুমিয়ে থাকে। এদের বিষয়ে ছাত্রসমাজকে সচেতন থাকতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী তার বিশেষ দূত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদেরও কড়া সমালোচনা করেন সমাবেশে। তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে এরশাদের সময় তার পুলিশ রকিব আমাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। সে সময় এরশাদের দোসর ছিল খালেদা জিয়া। এজন্যই পরে খালেদা জিয়া ক্ষমতায় এসে ঐ পুলিশ কর্মকর্তা রকিবকে প্রমোশন দিয়েছিল।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মুবিন চৌধুরী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শমসের মুবিন একটা বেঈমান। তার পায়ে গুলি লেগেছিল। বঙ্গবন্ধু তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করান। কিন্তু তিনিই বঙ্গবন্ধুর খুনীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেন। তিনি মুনাফেক। বেঈমান।

উল্লেখ্য, বিকেল সাড়ে চারটায় সমাবেশের মঞ্চে আরোহণ করেন প্রধানমন্ত্রী। বক্তব্য শুরু করেন বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে। সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত বক্তব্য রাখেন তিনি।

এই স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগ সভাপতি এইচএম বদিউজ্জামান সোহাগ। ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের পরিচালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওবায়দুল কাদের, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্তসহ ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা।

তারেক রহমানের বক্তব্যে উত্তেজিত আওয়ামী লীগ নেতারা

শেখ হাসিনা কুলাঙ্গারদের নেত্রী ও আওয়ামী লীগ কুলাঙ্গারদের দল, একথা বলে আবার আলোচনা এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের তোপের মুখে পড়েছেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

গত রোববার লন্ডনের কুইন মেরি ইউনিভার্সিটিতে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ইউকে আয়োজিত সেমিনারে তারেক রহমান বলেন, ‘শেখ হাসিনা খোন্দকার মোশতাককে কুলাঙ্গার বলেছেন। অথচ ওই মোশতাকের শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেছেন এইচ টি ইমাম। সেখানে কর্নেল তাহের, রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনু ছিলেন। এঁদের নিয়েই শেখ হাসিনা চলছেন। এতে প্রমাণ হয় শেখ হাসিনা কুলাঙ্গারদের নেত্রী। আওয়ামী লীগ টোটালি ইজ এ দল অব কুলাঙ্গার।’

তারেকের এই মন্তব্যে আওয়ামী লীগ এবং মহাজোট নেতারা তাদের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছেন। তারেক রহমানের বক্তব্যের পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত বক্তব্য পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো।

কৃষিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী

মতিয়া চৌধুরী বলেন, ‘তিনি একজন ফেরারি আসামি। পাকিস্তানি সেনা জানজোয়ার মৃত্যুর পর তাঁর মা সব প্রটোকল ভেঙে শোকবাণী পাঠিয়েছিলেন।’ তিনি দাবি করেন, ‘শেখ হাসিনাকে হত্যা ছাড়া তাঁদের আর কোনো মিশন নেই। তাঁকে (শেখ হাসিনা) হত্যা করা অর্থ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নষ্ট করা।’

মতিয়া চৌধুরী তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘সাহস থাকলে দেশে এসে কেস ফেইস করুন। বিদেশ থেকে লম্বা কথা বলবেন না। বাংলাদেশের মানুষ আপনার লম্বা কথায় বিভ্রান্ত হবে না।’

বাণিজ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, তারেক রহমান নিজে একজন কুলাঙ্গার বলেই আওয়ামী লীগের মতো বৃহৎ দল ও প্রধানমন্ত্রীকে কুলাঙ্গার বলেছেন।

তোফায়েল বলেন, বঙ্গবন্ধু দেশ স্বাধীন না করলে আজকের বিএনপি, ওর বাপ জিয়াউর রহমান এবং মা খালেদা জিয়ার জন্ম হতো না। তারা দেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না।


বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন

দেশের রাজনীতিতে তারেক রহমান কুলাঙ্গারদের শিরোমনি বলে মন্তব্য করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন।

মেনন বলেন, তারেক রহমান এ ধরনের মন্তব্য করে দেশের তারুণ্যের চেতনাবোধকে ধ্বংস করে দিয়েছেন।সেদিন আমি ঢাকায় আত্মরক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিলাম। রেডিওতে মোশতাক সরকারের শপথ গ্রহণের খবর শুনেছি। সেখানে আমার উপস্থিতি বিষয়ে যারা কথা বলে তাদের ইতিহাস সম্পর্কে সামান্যতম জ্ঞান নেই। আমার অগ্রজ মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের কাছ থেকে শিখেছি এ ধরনের বক্তব্যে কান দিতে নেই। কিন্তু তারেক রহমানেরএ ধরনের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করতে আজকে আমি বাধ্য হলাম।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান নিজেই তার লেখায় বঙ্গবন্ধুকে মহান নেতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু তার ছেলে অর্বাচীনের মতো বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। মূলত ১৯৭১ সালে মা খালেদা জিয়ার যে ভূমিকা ছিল তা ধামাচাপা দিতে এসব কথা বলছে সে। তারা মূলত নির্বাচনের বাস মিস করে সরকার তো দূরের কথা তাদের বিরোধীদলে বসার স্বপ্নও ধূলিস্মাৎ হয়ে যাওয়ায় এসব মন্তব্য করছে। একই সঙ্গে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা ও দেশে জঙ্গি কার্যকলাপের তাদের সম্পৃক্ততার মুখোশ উন্মোচিত হওয়ায় উল্টো পাল্টা বক্তব্য দিচ্ছে।

 

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু

হাসানুল হক ইনু বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জিয়াউর রহমানের সম্পৃক্ততার কোনো উত্তর না দিতে পেরে মা-ছেলে আবোল-তাবোল বলছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সময় জাসদ, কর্নেল তাহের এবং আমার অবস্থা আপনারা জানেন। জাসদই একমাত্র দল হত্যাকাণ্ডের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।

তথ্যমন্ত্রী তার নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, আমি খুনিদের ভয়ে জীবন বাঁচাতে আত্মগোপনে ছিলাম। মা-ছেলে ও তাদের দল জাসদ, বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভা সম্পর্কে হঠাৎ বলতে শুরু করেছেন। কোনো তাদের অস্থিরতা, প্রশ্ন করেন ইনু। ইতিহাস এখন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আর তাই জিয়াউর রহমানের দুষ্কর্ম আড়াল করতেই আবোল-তাবোল বলছেন মা-ছেলে।

 

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘দেশে থেকে রাজনীতি করতে সাহস না থাকায় তিনি লন্ডন থেকে ঢিল ছোড়াছুড়ি করছেন। আমি তাঁর নাম উচ্চারণ করতে চাচ্ছি না। সাহস থাকলে লন্ডনে থেকে ষড়যন্ত্র কেন, দেশে এসে রাজনীতি করুন। দেখি কারা হারে আর কারা জেতে।’

যোগাযোগমন্ত্রী বলেন, ভুলের চোরাবালিতে বিএনপির রাজনীতি হারিয়ে গেছে। আসন্ন নির্বাচনে যে ভুল করেছে, তার মাশুল তারা দিচ্ছে। আর এই ভুলের মাশুল দিতে গিয়ে তারা আরও নতুন নতুন ভুলের জন্ম দিচ্ছে।

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন

আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, অর্বাচীন দুর্নীতিবাজ তারেক রহমান ‘কুলাঙ্গার’-এর অর্থ বোঝে বলে আমার মনে হয় না। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ একজন কুলাঙ্গারকেই চেনেন, সে হলো ওই তারেক রহমান। সে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে ২৪ জনকে হত্যার মামলায় অভিযুক্ত, ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালান, দুর্নীতি, বিদেশে অর্থপাচারের দায়ে অভিযুক্ত।

তিনি বলেন, যে ব্যক্তি (তারেক রহমান) হত্যা-সন্ত্রাস-দুর্নীতিসহ দেশকে অস্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী মাফিয়া ডন দাউদ ইব্রাহীমের সঙ্গে বৈঠক করে, তার মতো বড় কুলাঙ্গার আর কে হতে পারে। আর আমরা কুলাঙ্গার অর্থ বুঝি যার জন্মের ঠিক নেই। তারেক রহমানের মা খালেদা জিয়ার তো জন্মের ঠিক নেই। তাঁর তো ৪/৫টা জন্মদিন। এতেই প্রমাণ হয় কুলাঙ্গার কে। তিনি বলেন, বিএনপির বড় পদধারী ওই অর্বাচীন ছেলেটি রাজনীতির নামে যে ভাষা ব্যবহার করেছে তাতে গণহত্যার দায়ে তার সর্বোচ্চ বিচার হওয়া উচিত।

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ

মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, একজন অর্ধশিক্ষিত গণ্ডমূর্খ, অর্বাচীন হত্যাসহ নানা অপকর্মের ফেরারি আসামির (তারেক রহমান) ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতেও রুচিতে বাঁধে। দেশের মানুষ তাকে দুর্নীতি ও সন্ত্রাসের বরপুত্র হিসেবেই চেনে। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, দুর্নীতি, বিদেশে অর্থপাচারসহ নানা অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে পরে প্যারোলে মুক্তি নিয়ে বিদেশে পালিয়ে থাকা ওই ব্যক্তির কোন কথা শোনা বা তার জবাব দেয়ারও কোন প্রয়োজন রয়েছে বলে আমি মনে করি না। কিন্তু বিদেশে পালিয়ে থেকে যতই বড় বড় কথা বলুক, হত্যা-দুর্নীতি-অর্থপাচারের দায় থেকে সে কখনই রক্ষা পাবে না। তার বিচার হবেই হবে।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালের ৭ মার্চ গ্রেফতার হন তারেক রহমান। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর তারেক রহমান চিকিৎসার জন্য লন্ডন যান। সেই থেকে তারেক লন্ডনে স্ত্রী ডা. জোবায়দা রহমান ও কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে বসবাস করছেন। লন্ডন থেকে তিনি বেরও হয়েছেন বিভিন্ন কারণে। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে বলে দাবি করে তার দল।

বাটাজোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস পালিত

জাতীয় শোক দিবসে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বুধবার বাদ আছর বাটাজোর বাজার টল ঘরে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

বাটাজোর ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আবদুর রব হাওলাদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিলাদ মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন, গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোঃ জয়নাল আবেদীন হাওলাদার, সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র মোঃ হারিছুর রহমান, প্রবীন নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা কালীয়া দমন গুহ, আবু সাঈদ নান্টু, মোল্লা আবুল হোসেন, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মিয়া মনির হোসেন, সাধারন সম্পাদক কবির হোসেন খান।

এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন, বীর প্রতিক কে এস এ মহিউদ্দিন মানিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ আনম আঃ হাকিম, জেলা ডেপুটি কমান্ডের দপ্তর সম্পাদক ইছমাত হোসেন রাসু, জেলা মৎসলীগের সভাপতি তাজবিরুল মোহসিন, মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, মাহিলাড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন মোল্লা সহ বাটাজোর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ অংঙ্গ সংগঠনের বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।