গৌরনদী সংবাদ

ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘুষ না দেয়ায় চোর ও মানসিক প্রতিবন্ধী দিয়ে আদালতে প্রতিবেদন

দিনমজুর পিতা ধারদেনা করে নগদ ৪০ হাজার টাকা যৌতুক ও স্বর্নলংকারসহ ৮০ জনের বরযাত্রী করে সামজিক ভাবে বিয়ে দেন রুমা খানমকে। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই যৌতুকের দাবি তুলে পাষান্ড স্বামী রুমার উপর চরম শারীরিক ও অমানুষিক নির্যাতন চালায়। স্বামী মাইক্রোবাস চালক মিজানুর রহমান মাতুব্বর যৌতুকের দাবি তুলে রুমাকে একাধিকবার ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। এ ছাড়া রুমার ব্যবহারের স্বর্ণের কানের দুল পাসন্ড স্বামী কান ছিঁড়ে নিয়ে যায়।

এব্যাপারে অসহায় রুমা বাদি হয়ে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে। ম্যাজিষ্ট্রেট মামলাটি আমলে নিয়ে খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। ইউপি চেয়ারম্যান আকন সিদ্দিকুর রহমান তদন্ত রির্পোট দেয়ার জন্য অসহায় রুমার পিতার কাছে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। দাবিকৃত ঘুষ না দেয়ায় রুমাকে চোর ও মানসিক প্রতিবন্ধি বানিয়ে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

গত ১৭ ডিসেম্বর মামলার স্বাক্ষী দিয়ে রুমা খানম বরিশাল আদালত থেকে বাড়ি ফেরার পথে নতুল্লাবাদ এলাকায় হামলা চালিয়ে আহত করে স্বামী মিজান ও তার সহযোগীরা। এ নিয়ে এলাকায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার খাঞ্জাপুর ইউনিয়নের মাগুড়া মাদারীপুর গ্রামে।

এলাকাবাসি ও নির্যাতিতার পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার মাগুড়া মাদারীপুর গ্রামের দিনমজুর মো. মুনসুর আলী হাওলাদারের মেয়ে রুমা খানমকে ২০০৮ সালের ৮ ফ্রেরুয়ারি সামাজিক ভাবে পার্শ্ববর্তী কালকিনি উপজেলার ডাসার গ্রামের মৃত মৌজে আলী মাতুব্বরের পুত্র মিজানুর রহমান মাতুব্বরের সাথে বিয়ে হয়।

নির্যাতিত রুমা আক্তার বৃহস্পতিবার দুই সন্তান নিয়ে গৌরনদী প্রেসক্লাবে উপস্থিত হয়ে অভিযোগ করে বলে, ‘বিয়ের সময় আমার গরীব পিতা ধারদেনা করে নগদ ৪০ হাজার টাকা ও কানের স্বর্নলংকারসহ ৮০ জনের বরযাত্রী করে আমাকে তুলে দেন। বিয়ের কিছু দিন যেতে না যেতেই আমার স্বামী মিজানুর রহমান মাইক্রোবাস ক্রয়ের জন্য আমার পিতার কাছ থেকে এক লক্ষ টাকা যৌতুক এনে দিতে বলে। আমার গরীব পিতার পক্ষে টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে আমি জানাই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্বামী আমাকে প্রায়ই শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করত। এরই মধ্যে আমাদের দাম্পত্য জীবনে দুটি সন্তান জন্ম গ্রহন করে। তাদের নাম মাহামুদা (৫) ও ইমরান হোসেন (৩)। আমি সন্তান দুটি’র ভবিষ্যতের কথা ভেবে এসব নির্যাতন মুখ বুঝে সহ্য করেছি।’

রুমা আরো অভিযোগ করে, তাকে একাধিকবার যৌতুকে দাবিতে দা ও বডি দিয়ে বাম হাতসহ শরীরের একাধিক স্থানে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। এ ছাড়া তার কানে ব্যবহৃত স্বর্নের দুলসহ ডান কান ছিড়ে নিয়ে যায়। অসুস্থ অবস্থায় দুটি সন্তানসহ রুমাকে বাবার বাড়ি তাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে রুমা আক্তার বাদি হয়ে ২০১৩ সালে বরিশাল জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করে।

রুমা আক্তারের মা রাবেয়া বেগম অভিযোগ করেন, খাঞ্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আকন সিদ্দিকুর রহমান তদন্ত রির্পোট তাদের পক্ষে দেয়ার জন্য তাকেসহ তার স্বামীর কাছে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। দাবিকৃত ঘুষ না দেয়ায় রুমাকে চোর ও মানসিক প্রতিবন্ধি অপবাদ দিয়ে ওই বছর ৩০ এপ্রিল আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।

ঘুষ চাওয়ার কথা অস্বীকার করে খাঞ্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আকন সিদ্দিকুর রহমান বলেন, রুমার কথাবার্তায় মনে হয় সে পাগল। তাই অনুমানের উপর মানসিক প্রতিবন্ধি লেখা হয়েছে।’


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply