গৌরনদী সংবাদ

মেয়রের ভাই লাঞ্চিত, ভাঙচুর ও ককটেল বিস্ফোরণ, আহত ১০

নির্মাণ কাজ নিয়ে বিরোধের জের ধরে জেলার গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদে হামলা, ভাঙচুর ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই হামলার ঘটনায় আহত হয়েছেন সোহাগ হাওলাদার, শহীদুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, জলিল রাঢী, নাসির উদ্দিনসহ ১০ জন। মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক অংশিদার মো. আমিনুল হক দুলাল ও আকবার হোসেন ফারুক জানান, সিসিপিআই এর আওতায় মাহিলাড়া-সরিকল জিসি সড়কের কালীবাজার পর্যন্ত রাস্তার কাজ পায় মেসার্স মোদাচ্ছের আলী ট্রেডার্স। কাজ পাওয়ার পর থেকে মাহিলাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা সৈকত গুহ পিকলু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ২০ লক্ষ টাকা চাঁদাদাবি করে আসছিলেন।

ফেব্রুয়ারীর ৬ তারিখ মোবাইল ফোনে পিকলু হুমকি দেয় টাকার জন্য, ৭ ফেব্রুয়ারী ব্যবসায়িক অংশিদার আকবার হোসেন ফারুকের মটরসাইকেল নিয়ে যায় ও পরে পুলিশের চাপের মুখে তা ফেরৎ দেয় বলে দাবি করেন ফারুক।

আকবার হোসেন ফারুক জানান, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে আটটায় গৌরনদী উপজেলা প্রকৌশলী দীপুল চন্দ্র কুমারসহ ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স মোদাচ্ছের আলী ট্রেডার্সের ব্যবসায়িক অংশিদার মো. আমিনুল হক দুলাল ও আকবার হোসেন ফারুক কাজ পরিদর্শনে যান, এরমধ্যে ওখানে উপস্থিত হয়ে চাঁদা দাবিকারী মাহিলাড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুবলীগ নেতা সৈকত গুহ পিকলু ও তার লোকজন অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে, আমি নিষেধ করলে আমার মা-বোন-ও ভাই (গৌরনদী পৌসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক মো.হারিসুর রহমান কেও) গালাগালি করে। এক পর্যায়ে আমাকে ও আমার ব্যবসায়ীক অংশিদার মো. আমিনুল হক দুলালকে মারধর করে তার সাথে থাকা দু লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয় এবং পেট্রোল দিয়ে আমাকে ও আমার মটরসাইকেল পুড়িয়ে দেয়ার জন্য উদ্দ্যত হয়।

আকবার হোসেন ফারুককে মারধরের খবর পেয়ে বেলা সাড়ে এগারোটায় ৩০/৪০টি মটরসাইকেল যোগে ছাত্রলীগ, যুবলীগের শতাধিক নেতাকর্মি মাহিলাড়ায় পৌছে চেয়ারম্যানকে খুঁজতে থাকে, এসময় ইউনিয়ন পরিষদের অস্থায়ী কার্যালয়, মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজ এর আসবাবপত্র ভাংচুর করে এবং এসময় দুটি ককটেল ও গুলির শব্দ শোনা গেছে, আতংকে লোকজন এদিক সেদিক ছোটাছুটি করে। এসময় গৌরনদী থানার এএস আই মজিবুর, কনস্টেবল আনসারুল আহত হয়। গৌরনদী থানার এএস আই মজিবুর ও কনস্টেবল আনসারুলকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মাহিলাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈতক গুহ পিকলু অভিযোগ করেন, পৌর মেয়রের কর্মী-সমর্থকরাই হামলার সময় বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাংচুর করেছে। হামলায় পৌর মেয়র হারিছ হামলা-ভাংচুরের নেতৃত্ব দেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ মাহিলাড়া থেকে নলচিড়া পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের চার কোটি টাকার কাজ তাকে করার অনুমতি দেন বলেও দাবী করেন তিনি।

এ বিষয়ে পৌর মেয়র হারিছুর রহমান বলেন, মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান পিকলু ওই কাজের জন্য তার বড় ভাই ও উপজেলা আ’লীগের নেতা আকবর হোসেন ফারুকের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং তার ভাইকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করায় উত্তেজিত জনতা ভাংচুর করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

তবে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুরের ঘটনায় তাঁর কর্মী কিংবা সমর্থকরা কেউ জড়িত নয় দাবি করে মেয়র বলেন, ঘটনাকে অন্য দিকে মোড় দিতে এবং ফায়দা তুলতে ইউপি চেয়ারম্যান নিজেদের লোক দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করিয়েছে।

গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘এখানে দুই পক্ষই আওয়ামী লীগের। আর তারা কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে ছবি ভাঙচুর করেননি বা এটা তাদের উদ্দেশ্যও ছিলোনা। তাই ছবি ভাঙচুরের ঘটনায় পুলিশ বাদি হয়ে কোন মামলা হয়নি। তবে হামলা বা ভাঙচুরের ঘটনায় কেউ অভিযোগ দিলে মামলা নিবে পুলিশ।’

খবর পেয়ে বরিশাল পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসান উল্লাহ ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সুপার জানান, এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি মামলা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

তবে এখন পর্যন্ত কোন পক্ষ থেকে মামলা করা হয়নি।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply