ব্লগ

শুভ বাংলা নববর্ষ ১৪২২

বাংলাভাষী মানুষের সর্ববৃহৎ গণমুখী উৎসব। এসো হে বৈশাখ এসো এসো ধ্বনি উচ্চারণের মধ্যে দিয়ে বাংলার মানুষ বরণ করে নেয় নববর্ষকে। কালের যাত্রা নিরন্তর, নিরবধি। মহাকালের রথ সেই পথযাত্রায় পেরিয়ে গেল ১৪২১ বাংলা বর্ষের সীমারেখা। আজ মঙ্গলবার। পয়লা বৈশাখ, বঙ্গাব্দ ১৪২২। নতুন বছরের পরিক্রমা শুরু হলো বাঙালির নিজস্ব বর্ষপঞ্জিতে। বাংলা ভাষাভাষীর জীবনে এল এক অমলিন আনন্দের দিন। আজ বৈশাখী উৎসব। জীর্ণ পুরাতন সবকিছু পিছে ফেলে নতুনের কেতন উড়িয়ে এল বৈশাখ। শুরু হলো আরও একটি নতুন বছর।

নববর্ষ মানেই নতুন আশা, নতুন স্বপ্ন, নতুন সংকল্প। আমরা সবাইকে বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি।

পৃথিবীতে প্রচলিত অধিকাংশ বর্ষপঞ্জির উৎপত্তি কোনো না কোনো ধর্মের সঙ্গে সম্পর্কিত। সেদিক থেকে বাংলা নববর্ষ এক অনন্য বৈশিষ্ট্যময় উৎসব; কৃষিকাজ ও খাজনা সংগ্রহের নিমিত্তে এর প্রচলন এবং দিনে দিনে তা হয়ে ওঠে সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে। ধর্ম-সম্প্রদায় নির্বিশেষে বাংলা ভূখণ্ডের সব মানুষের প্রাণের উৎসব পয়লা বৈশাখ। এমন অসাম্প্রদায়িক উৎসব সারা পৃথিবীতেই বিরল। বাঙালির আদি পরিচয় বহনকারী এই অসাম্প্রদায়িক উৎসব আমাদের জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন পর্যায়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের প্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সাম্প্রদায়িক বিভাজনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্র পাকিস্তানের শাসকশ্রেণী যখন তাদের অন্যায়-অন্যায্য শাসনকে ন্যায্যতা দিতে ধর্মকে ব্যবহার করতে চেয়েছে, তখন শোষণমুক্তির সংগ্রামে পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের ঐক্যবদ্ধ করেছে তার সাংস্কৃতিক আত্মপরিচয়।

ষাটের দশকে ঢাকায় বৈশাখের উৎসব বাঙালির আত্মপরিচয়ের আন্দোলন-সংগ্রামকে বেগবান করেছিল। সেই একই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য প্রেরণা জুগিয়েছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের। পথ-ঘাট, মাঠ-মঞ্চ-সবকিছু ভরে ওঠে নতুন প্রাণের উচ্ছ্বাসে।

বাংলা নববর্ষকে ঘিরে দেশীয় পোশাক-পরিচ্ছদ ও খাদ্যরুচির মর্যাদা বেড়েছে; আমাদের জীবনধারায় নতুন বেগ ও আবেগ সঞ্চার করেছে বাঙালিয়ানা। এই উৎসবে ঘটে মানুষে মানুষে মিলন ও সৌহার্দ্যরে নবায়ন। দিনভর শুভেচ্ছা বিনিময় চলে; চিরায়ত বাঙালি নকশায় রঞ্জিত মাটির হাঁড়ি, বাঁশের পাত্র ভরে বিনিময় করা হয় নানা ধরনের মিষ্টান্ন, পিঠাপুলিসহ হরেক রকমের ঐতিহ্যবাহী খাবার। মানুষে মানুষে এমন মিলন, এমন সৌহার্দ্যময় পরিবেশ কেবল পয়লা বৈশাখের মতো অসাম্প্রদায়িক উৎসবেই দেখা যায়। আমরাও চাই এই সৌহার্দ্যময় পরিবেশ চির প্রবহমান থাকুক বাংলার ঘরে ঘরে।

সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।

গৌরনদী ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে ফাহিম মুরশেদ


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply