গৌরনদী সংবাদ

পরকীয়ার জেরে পুত্র হত্যাকারী সন্দেহে মা গ্রেফতার

অবাধে পরকীয়ায় প্রেমিকের সাথে অবৈধ মেলামেশা করার জন্য নিজ পুত্রকে বিষপান করিয়ে হত্যায় সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে গত বরিবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলার বেজহার গ্রামের প্রবাসী জালাল সিকদারের স্ত্রী দস্যু রানী ফুলন দেবী খ্যাত পারভীন বেগমকে আটক করেছে গৌরনদী থানা পুলিশ।

নিহতের পিতা জালাল সিকদার অভিযোগ করে বলেন, আমি প্রবাসে থাকার সুবাধে আমার স্ত্রী মাহিলাড়ার এক যুবকের সাথে পরকীয়ার সম্পর্কে জরিয়ে পড়ে। বিষয়টি আমি জানতে পেরে ওই যুবককে আমার বাড়ীতে আসতে নিষেধ করি। কিন্তু আমার স্ত্রী কথা না শুনে আরও বেপরোয়া হয়ে পরকীয়া চালিয়ে যায়। এরইমধ্যে আমার পুত্র বরিশালের ইনফ্রা পলিটেকনিক ইনষ্টিটিউট পড়ুয়া ছাত্র মনিরুল ইসলাম কলেজ ক্যাম্পাস থেকে বাড়ীতে আসে এবং বাড়ীতে থেকেই কলেজে যাওয়া আসা করে। আর এখানেই বাধে বিপত্তি। আমার স্ত্রীর পরকীয়ার মাঝে দেয়াল হয়ে দাড়ায় আমার পুত্র মনিরুল। গত ৩০ এপ্রিল রাতে তাদের অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় পারভীন ও তার পরকীয়া প্রেমিক পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর অপপ্রচার রটিয়ে দেয় এবং তড়িঘড়ি করে আমাকে না জানিয়ে লাশ দাফন করার চেষ্টা করলে এলাকাবাসী বাধা দেয় এবং আমাকে ছেলের মৃত্যুর খবর জানায়।

ছেলের মৃত্যুর খবর জানতে পেরে তাৎক্ষনিক আমি বাড়ীতে চলে আসি। তখন স্ত্রীর চাপের মুখে এবং আমার মানসিক বিপর্যয়ের কারনে আমার ছেলে হত্যার মূল রহস্য উৎঘাটন করতে পারিনি।

পরবর্তীতে কিছুদিন পড়ে আমার স্ত্রীর কাছে আমার ছেলের মৃত্যু কিভাবে হল জানতে চাইলে সে আমাকে জানায় মনিরুল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। ইতিমধ্যে আমি জানতে পারি আমার পুত্র যে দিন অসুস্থ হয় সেদিন রাতে তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় আমার স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিক। ডাক্তার তাদের কাছ থেকে জানতে পারেন মনিরুল বিষপান করেছে তাই হাসপাতালের রেজিষ্ট্রারে আননোউন পয়োজন লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি আমাকে ভাবিয়ে তুলে। যেহেতু আমাকে বলা হয়েছে মনিরুল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আর হাসপাতালের রেজিষ্ট্রারে লেখা আছে আননোউন পয়োজন। এনিয়ে মনের নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খেতে থাকে নিজের মধ্যে। এরই মধ্যে আমার স্ত্রীকে মনিরুল কিভাবে নিহত হল তার পুরো ব্যাখা জানতে চাই। পুত্র হত্যার বিষয়ে স্ত্রীর গড়িমসি ও তার দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে আরও ভাবিয়ে তুলে।

জালাল সিকদার আরও অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন পূর্বে অভিযুক্ত পারভীনের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে গৌরনদী পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে কর্মরত লাইনম্যান রাসেল নামের এক যুবকের সাথে। গত ৭ সেপ্টেম্বর রবিবার দুপুরে ওই যুবকের সাথে ঘরের স্বর্নালংকার নিয়ে অজানার উদ্দেশ্য পাড়ি জমাতে যাওয়ার চেষ্টাকালে এলাকার লোকজন নিয়ে ঘরে আটক করে গৌরনদী থানা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ কাঃ বিঃ ৫৪ ধারায় গ্রেফতার দেখিয়ে ছেলে হত্যার সন্দেহভাজন আসামী হিসেবে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় এবং পরের দিন বরিশাল জেল হাজতে প্রেরণ করেন।

এছাড়াও ওই ঘটনার পর পুত্র হত্যার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য ঐদিনই বরিশাল আদালতে পারভীন বেগমসহ অজ্ঞাত আরও ২ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ নিয়ে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...