গৌরনদী পৌরসদরের আশোকাঠী বাজারের খান জাহান আলী মিট হাউজের মালিক বাবুল সরদার ওরফে কসাই বাবুলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, হাড়-চর্বিসহ ভেজাল মাংস বিক্রির অভিযোগ পেয়ে তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব হোসেন। অভিযানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় বাবুল কসাইকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
গরিব মানুষের নাগালের বাইরে গরুর মাংস!
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস সরদার জানান, “প্রতি বছর কসাই সিন্ডিকেটের কারণে গরীব মানুষ মাংস কেনার সুযোগ পায় না। ঈদসহ বিভিন্ন বিশেষ উপলক্ষে কসাইরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়ে দেয়।”
রমজান শুরু হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবু আব্দুল্লাহ খান ও এসিল্যান্ড রাজিব হোসেন মাংস ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে দাম নির্ধারণ করেন। কিন্তু সরকারি নির্দেশনা না মেনে কসাইরা ধর্মঘটের ডাক দেয়। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটি “ন্যায্য মূল্যের বাজার” চালু করে কম দামে মাংস বিক্রির ব্যবস্থা নেয়। তবে বাবুল কসাই ও তার সিন্ডিকেট সেখানে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করে।
অভিযানের পরপরই কমলো মাংসের দাম
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব হোসেন জানান, ঈদের দুই দিন আগে থেকেই বাবুল কসাই ৮০০ টাকা কেজি দরে মাংস বিক্রি করছিলেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর গৌরনদীর বাজারে গরুর মাংসের দাম ৫০-৭০ টাকা কমে যায়।
জনসাধারণের সন্তুষ্টি ও ধন্যবাদ
স্থানীয় বাসিন্দা ফরহাদ সরদার বলেন, “৭৫০ টাকায় হাড়-চর্বিবিহীন গরুর মাংস কিনতে পেরেছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাজিব স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। ভেবেছিলাম এবার মাংস কেনা সম্ভব হবে না, কিন্তু তার উদ্যোগের ফলে ন্যায্য মূল্যে মাংস কিনতে পেরেছি।”
এসিল্যান্ড রাজিব হোসেনের এই উদ্যোগে সারা গৌরনদীবাসী প্রশংসা করছেন।