Menu Close

১২০ একর আমন ধান ও পানের বরজের ক্ষতি, এসি ল্যান্ডের হস্তক্ষেপে খুললো কালভার্ট

Mahilara union kalvart magistrate razib hossain

গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি এক নজিরবিহীন জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকল কর্তৃক একটি কৃত্রিম বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রায় ১২০ একর আমন ধানের জমি এবং শতাধিক পানের বরজ পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

কৃত্রিম বাঁধ ও কৃষকদের দুর্ভোগ: স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ অনুযায়ী, একটি ইট দিয়ে পাকা করে তৈরি করা বাঁধ দীর্ঘদিন ধরে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ আটকে রেখেছিল। এর ফলে আশপাশের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে এবং কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। কৃষকরা জানান, এই বাঁধ নির্মাণের বিষয়ে তাদের কোনো পূর্ব ধারণা বা অনুমতি ছিল না। এর ফলস্বরূপ শুধু আমন ধানই নয়, বহু মূল্যবান পানের বরজও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা কৃষকদের জীবিকার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে। অনেকে বলেন, “আমাদের না জানিয়ে এমনভাবে পানি আটকানো হলে আমরা বাঁচব কীভাবে।”

সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর তড়িৎ হস্তক্ষেপ: বিষয়টি জানার পর গৌরনদী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রাজিব হোসেন দ্রুত সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর তিনি অবিলম্বে বাঁধ খোলার নির্দেশ দেন। তাঁর সরাসরি তত্ত্বাবধানে শনিবার (১২ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে বন্ধ থাকা কালভার্টটি খুলে দেওয়া হয়, যাতে জমিতে জমে থাকা পানি নিষ্কাশিত হতে পারে।

স্বস্তির নিঃশ্বাস কৃষকদের মাঝে: এই উদ্যোগের ফলে জলাবদ্ধতা কিছুটা হ্রাস পায় এবং কৃষকদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরে আসে। কালভার্ট খুলে দেওয়ার পর মুহূর্তেই পানির প্রবাহ শুরু হয় এবং জমির পানি ধীরে ধীরে নামতে থাকে। কৃষকরা সহকারী কমিশনারের এই দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

ভবিষ্যৎ সুরক্ষার অঙ্গীকার: তবে একই সঙ্গে তারা আশা করেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের অবৈধ বাঁধ নির্মাণ বা পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন আরও সক্রিয় থাকবে। এ প্রসঙ্গে সহকারী কমিশনার মো. রাজিব হোসেন বলেন, “কৃষকের স্বার্থে আমরা সবসময় আন্তরিক। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি কৃষির ক্ষতি করে এমন কোনো কাজ করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত করে কেউ সুবিধা নিতে পারবে না।”

Related Posts