গৌরনদীর কটকস্থলে অবস্থিত ‘মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশন’ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—আদালতের চেয়ে কি থানার ওসি বড়?
মামলা সূত্রে জানা যায়, বরিশাল আদালতে এমপি মামলা নং ১৮৩/২৫, ধারা ১৪৫ ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী, মো. হিরা মাঝি, (পিতা মজিবর রহমান মাঝি) ও পপি পিতা হারুন অর রশিদ গং-এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধে আদালত গত ৯ জুলাই স্মারক নং ২৩৬৬-এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
আদালতের নির্দেশনায় কোথাও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা ছিল না। বরং বলা হয়—যদি কোনো পক্ষ সংঘাত বা আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করে, তবে তার দায়ভার সেই পক্ষের ওপর বর্তাবে।
তবে এই নির্দেশ পাওয়ার দুই দিন পর, গত শনিবার গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের নির্দেশ দেখিয়ে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেন এবং বিভিন্ন স্থানে নোটিশ টানিয়ে দেন। অথচ ঘটনাস্থলে বিবাদি পক্ষ পপি উপস্থিত ছিলেন না, এমনকি সংঘাতেরও সম্ভাবনা ছিল না।
এ বিষয়ে বিবাদী হারুন অর রশিদ বলেন, “বাদী মো. হিরা মাঝি (যিনি ‘মাদক সম্রাট’ নামে পরিচিত) আমার পার্শ্ববর্তী জমির মালিক আমার মেয়ে পপি গত১০বছর পূর্বে জাহানারা বেগমের থেকে ১০ শতকর জমি খরিদ করে এবং ২০১৮ সালে একই জমির ওপর ওয়ারিশ সোবাহান মোল্লার থেকে খরিদ করে হিরা মাঝি। তারা পার্শ্ববর্তি জমির হলেও আমার পৈতৃক সম্পত্তির ওপর তার কোনো দাবি নেই তাদের। এরপরেও হিরা মাঝি ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে আদালতকে বিভ্রান্ত করেছেন এবং ওসি হয়তো তার পক্ষ নিয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” যা সম্পূর্ণ অন্যায়। আমি এর প্রতিকার চাই।
আদালতের নির্দেশে বলা হয়, দুই পক্ষ যেন শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখেন এবং কেউ তা লঙ্ঘন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরবর্তী শুনানির তারিখ ১৫ জুলাই নির্ধারিত রয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে গৌরনদী থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া বলেন, “আমরা আদালতের নোটিশ পেয়েছি। যেকোনো আইনবিরোধী ঘটনা এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রতিষ্ঠানটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথা বলেছি।”
গৌরনদী উপজেলা সহকারি কমিশনার ভুমি ও নির্বাহী ম্যাজিস্টেট মো: রাজিব হোসেন জানান, জমি সংক্রান্ত বিরোধে যখন দণ্ডবিধি ১৮৯৮ এর ১৪৫ ধারা অনুযায়ী মামলা হয়, তখন মূল উদ্দেশ্য থাকে শান্তি ভঙ্গের সম্ভাবনা প্রতিরোধ করা এবং যিনি প্রকৃতপক্ষে দখলে আছেন, তাকে তা বজায় রাখতে বলা। এখন প্রশ্ন হলো, বিবাদী পক্ষের দখলে থাকা জমিতে যদি ফিলিং স্টেশন (পেট্রোল পাম্প) চালু থাকে, তাহলে:
থানার ওসি কি নিজ উদ্যোগে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিতে পারেন?
না, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিজ দায়িত্বে বা নিজস্ব সিদ্ধান্তে ফিলিং স্টেশন বন্ধ করে দিতে পারেন না। এর জন্য প্রয়োজন হবে:
আইনি ও প্রশাসনিক ভিত্তি:
১. নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশ:
১৪৫ ধারার মামলায় যদি ম্যাজিস্ট্রেট মনে করেন যে শান্তি রক্ষায় ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখা প্রয়োজন, তাহলে তিনি একটি আদেশ দিতে পারেন, যা ওসি বাস্তবায়ন করবেন।
২. পুলিশের ভূমিকা:
পুলিশের কাজ হবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং ম্যাজিস্ট্রেটকে রিপোর্ট দেওয়া। তারা নিজেরা কোনো বাণিজ্যিক কার্যক্রম (যেমন ফিলিং স্টেশন) বন্ধ করতে পারেন না, যতক্ষণ না ম্যাজিস্ট্রেট থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশ আসে।
৩. বিপজ্জনক অবস্থান বা নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে:
ফিলিং স্টেশনটি যদি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে ওঠে (উদাহরণস্বরূপ, দুই পক্ষের সংঘর্ষের আশঙ্কা, দখলদারিত্ব নিয়ে মারামারি), তাহলে তাৎক্ষণিক পুলিশ নিরাপত্তা দিতে পারে, কিন্তু বন্ধ করার জন্য ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি লাগবে।