বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কটকস্থলে অবস্থিত ‘মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশন’টি গত শনিবার গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো: ইউনুস মিয়া আদালতের নির্দেশনাকে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে বন্ধ করে দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, হিরা মাঝি কর্তৃক দায়ের করা মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলাটি বরিশাল অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম আদালত) থেকে খারিজ হয়ে যাওয়ায় ফিলিং স্টেশনটি চালু করতে আর কোনো বাধা নেই। তবে, আদালতের রায় ঘোষণার পর বিবাদীদের খুন ও অপহরণের হুমকির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মামলার বিস্তারিত ও আদালতের নির্দেশনা
মামলার নথিপত্র অনুযায়ী, বরিশাল আদালতে এমপি মামলা নং ১৮৩/২৫, ধারা ১৪৫ ফৌজদারি কার্যবিধির আওতায় মো. হিরা মাঝি (পিতা: মজিবর রহমান মাঝি) ও পপি (পিতা: হারুন অর রশিদ) গং-এর মধ্যে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আদালত ৯ জুলাই স্মারক নং ২৩৬৬ এর মাধ্যমে উভয় পক্ষকে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখার নির্দেশ দেন।
তবে, আদালতের নির্দেশে কোথাও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কথা বলা হয়নি। বরং নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো পক্ষ আইন-শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে দায় সেই পক্ষকে বহন করতে হবে। তা সত্ত্বেও গত শনিবার গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে আদালতের আদেশ দেখিয়ে ফিলিং স্টেশনটি বন্ধ করে দেন এবং নোটিশ টাঙিয়ে দেন। আশ্চর্যজনকভাবে, ওই সময় বিবাদীপক্ষ হারুন বেপারী ও পপি ঘটনাস্থলে ছিলেন না, এমনকি কোনো সংঘাতের পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।
আদালতের রায় ও আইনজীবীদের বক্তব্য
বিবাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাড. মহসিন মন্টু জানান, মামলার কাগজপত্র পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে অতিরিক্ত ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট সুবল চন্দ্র মামলাটি মিথ্যা ও হয়রানিমূলক বলে খারিজ করে দেন।
অ্যাড. সাইদুর রহমান সুজন বলেন, “আমরা আদালত থেকে ন্যায়বিচার পেয়েছি। এই রায়ের মাধ্যমে ‘মেসার্স আরিফ ফিলিং স্টেশন’-এর একক মালিকানা মো. হারুন অর রশিদের, যা আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। বাদী পক্ষ কিংবা অন্য কারো মালিকানা দাবি করার সুযোগ নেই। ফলে ফিলিং স্টেশন চালু রাখতে আর কোনো বাধা রইল না।”
হুমকির অভিযোগ ও পাম্প মালিকের বক্তব্য
তবে আদালতের রায় শোনার পরপরই বাদী হিরা মাঝি আদালত চত্বরে পপি ও হারুন বেপারীকে খুন ও অপহরণের হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পাম্পের মালিক হারুন অর রশিদ বেপারী জানান, “আমার মেয়ে পপি প্রায় ১০ বছর আগে (৩০/১১/২০১৫) জাহানারা বেগমের কাছ থেকে ১০ শতক জমি কিনে নেয়। অপরদিকে ১৯/৮/২০১৮ সালে একই জমির অন্য ওয়ারিশ মো: সোবাহান মোল্লার কাছ থেকে হিরা মাঝি জমি ক্রয় করেন। তাদের জমি পাশের হলেও আমার পৈতৃক জমির ওপর তাদের কোনো মালিকানা নেই। তবুও হিরা মাঝি ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং মিথ্যা মামলা দায়ের করে আমাদের হয়রানি করেছেন। আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট।”
পপি আনন্দের সঙ্গে বলেন, “মাননীয় আদালতের রায়ের মাধ্যমে সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।”
মিথ্যা মামলা ও হুমকির অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য বাদী হিরা মাঝির নম্বরে ফোন করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়, বিধায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।