বরিশাল

বরিশাল সড়কে ১৫০ ঝুকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক খুঁটি

বরিশাল শহরের জনগুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কের একাধিক স্থানে সড়কের ওপরে অন্তত ১৫০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে। এসব খুঁটির কারণে সড়কে যানবাহন চলাচলে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। সড়কের একই স্থানে একাধিক খুঁটি থাকায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন।

গত ফেব্রুয়ারি মাসে এক রিটে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত দেশের সড়ক-মহাসড়কের ওপর থাকা সব ধরনের খুঁটি সরিয়ে নিতে নির্দেশ দেয়। কিন্তু এখনো এ ধরনের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বরিশালে। ফলে যানবাহন চালক-মালিকসহ যাত্রীদের মাঝে তৈরি হচ্ছে ক্ষোভ। সড়কের ওপরের বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত অপসারণে পদক্ষেপ নিতে দাবি জানাচ্ছেন যানবাহন মালিক ও শ্রমিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের আদেশের বিষয়টি জানে না বরিশাল বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশনসহ সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানগুলো। এমনকি আদালতের আদেশের কোনো নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে আসেনি দাবি করে বলা হচ্ছে, এ কারণে সড়ক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না।

বরিশাল শহরের একাধিক যানবাহন মালিকের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, সড়কের ওপর বৈদ্যুতিক খুঁটি থাকায় যানবাহন চলাচলে ভোগান্তির পাশাপাশি ঝুঁঁকিও রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাত হলে কখনো কখনো বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে। এতে প্রাণহানিও ঘটছে। প্রতিনিয়িত আতঙ্কের মধ্যে যানবাহনে যাত্রী পরিবহন করতে হয়।

বরিশাল সিটি করপোরেশন কর্তৃৃপক্ষ বলছে, বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণে তারা দ্রুত পদক্ষেপ নেবে। ইতিমধ্যে শহরের সদর রোডসহ ৪০টি সড়কের ওপর ওয়েস্টার্ন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন (ওজোপাডিকো) কোম্পানির ১৫০টি বৈদ্যুতিক খুঁটি শনাক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে সিটি করপোরেশনের বর্ধিত এলাকা অর্থাৎ ২৯ ও ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের সড়কের ওপর রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের ৩০টি খুঁটি। সাম্প্রতিককালে বিসিসির বিদ্যুৎ বিভাগ অনুসন্ধান চালিয়ে এসব খুঁটি সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিও) খাইরুল ইসলাম জানান, সড়কে বৈদ্যুতিক খুঁটি রয়েছে এমন স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখান থেকে খুঁটি অপসারণে ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুৎকে দুই দফা চিঠি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিদ্যুৎ বিভাগ খুঁটি অপসারণে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি এবং চিঠিরও উত্তর দেয়নি।

খাইরুল ইসলাম বলেন, সবশেষ গত সপ্তাহে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন সহকারী প্রকৌশলীকে তাদের অফিসে পাঠিয়ে খুঁটি অপসারণে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তখন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন।

সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিতে আদালতের আদেশ হাতে পাননি বলে জানান বরিশাল বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের (ওজোপাডিকো ১) নির্বাহী প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন। তবে সিটি করপোরেশনের চিঠি পাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি কেন্দ্রীয় অফিসকে অবহিত করেছি। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

আদালতের আদেশের বিষয়ে কোনো কাগজপত্র না পেলেও পত্রিকার মাধ্যমে খবরটি পেয়েছেন বলে জানান পল্লী বিদ্যুতের বরিশাল আঞ্চলিক অফিসের ম্যানেজার ইঞ্জিনিয়ার শঙ্কর কুমার কর। তিনি বলেন, ‘সড়কের ওপর থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরিয়ে নিতে সিটি করপোরেশনের একটি চিঠিও এসেছে। বিষয়টি ইতিমধ্যে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের অবহিত করা হয়েছে। সেখান থেকে সিদ্ধান্ত আসামাত্র আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন জনস্বার্থে সড়কের বৈদ্যুতিক খুঁটি অপসারণ চেয়ে উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...