গৌরনদী সংবাদ

গৌরনদীর প্রধান সড়কগুলোর বেহাল দশা

ভেঙ্গে পড়েছে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা ও পৌর এলাকার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। প্রধান প্রধান সড়কগুলোর পিচ উঠে, সড়ক ভেঙ্গে আর বড় বড় খানাখন্দের কারণে সড়কগুলোর অবস্থা এতোই নাজুক হয়ে পরেছে যে যানবাহন চলাচলতো দূরের কথা, পায়ে হেঁটেও মানুষ চলাচল করতে পারছেন না। ফলে প্রতিনিয়ত জনসাধারনকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার একমাত্র হ্যালিপ্যাড অবস্থিত পৌর এলাকার আশোকাঠী ও কাছেমাবাদ মহল্লার সীমান্তবর্তী এলাকায়। হ্যালিপ্যাডের পাশ ঘেষেই বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের সংযোগ থেকে গেরাকুল মিঞাবাড়ি পর্যন্ত ১.৪০ কিলোমিটারের মানিক মিয়া সড়ক। এলজিইডি’র অর্থায়নে নির্মিত এ ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী কয়েক’শ শিক্ষার্থীসহ দশ গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ ও শত শত যানবাহন চলাচল করে থাকে।

একমাত্র সংস্কারের অভাবে পাকা সড়কটি এখন কাঁচা সড়কে পরিণত হয়ে যানবাহনতো দূরের কথা পায়ে হেঁটে জনসাধারনের চলাচলও অসম্ভব হয়ে পরেছে। ফলে প্রতিনিয়ত জনসাধারনকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগীরা জানান, মানিক মিয়া সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না হওয়ায় খোয়া ও পাথর উঠে এখন ফের মাটির রাস্তায় পরিণত হয়েছে। কর্দমক্ত রাস্তার মধ্যে ব্যাপক খানাখন্দসহ সৃষ্টি হয়েছে বিশাল বিশাল গর্ত। ফলে উপজেলা সদর, একমাত্র হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ ও হাট-বাজারে যাতায়াত করতে পৌর এলাকাসহ পাশ্ববর্তী নলচিড়া ইউনিয়নের দশটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

জনগুরুতপূর্ণ এ সড়কটির বেহাল দশার কারণে ইতোমধ্যে রিকশা, ঈজিবাইক, নছিমন, করিমন দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় গত দু’মাস থেকে এ সড়ক দিয়ে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, গুরুতপূর্ণ এ সড়কটি সময় মতো সংস্কার করা হলে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ সাশ্রয় হতো।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলজিইডি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সংস্কার নয়; পূর্ণরায় সড়ক নির্মানের জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ইতোমধ্যে চিঠি প্রেরণ করা হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই জনগুরুত্বপূর্ণ মানিক মিয়া সড়কের নির্মান কাজ শুরু করা হবে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর মধ্যে এলজিইডি’র আওতাধীন গৌরনদী বাসষ্ট্যান্ড-বন্দর সড়ক, টরকী বন্দর সড়ক, আশোকাঠী-মোল্লাবাড়ি, গৌরনদী-চাঁদশী সড়ক, বাটাজোর-সরিকলসহ অধিকাংশ সড়কগুলোর পুরোটাই খানাখন্দে ভরা। এসব খানাখন্দের সড়কগুলো সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কোন কার্যকরী উদ্যোগ নেই। এলজিইডি’র বাহিরে উপজেলা ও পৌর এলাকায় রয়েছে জনগুরুত্বপূর্ণ অসংখ্য কাঁচা রাস্তা। ওইসব রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থীসহ সহস্রাধীক পথচারীরা বর্ষামৌসুমে হাঁটু সমান কাঁদা ভেঙ্গে যাতায়াত করলেও তা উন্নয়নে কারোরই মাথা ব্যাথা নেই।

সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা ও জনসাধারনের চলাচলের অনুপোযী হওয়ার সত্যতা স্বীকার করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গৌরনদী উপজেলা এলজিইডি বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, খুব শীঘ্রই পৌর এলাকার জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কারের কাজ শুরু করা হবে। উপজেলার অন্যান্য সড়কগুলো পর্যায়ক্রমে সংস্কার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশ্বজিত সরকার বিপ্লব, খোকন আহম্মেদ হীরা


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...

Leave a Reply