আর্কাইভ

গৌরনদীতে হাট-বাজার ইজারা নিয়ে যুবলীগের

প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ২২টি হাট-বাজারের ইজারার জন্য গত ২৬ জানুয়ারি দরপত্র আহবান করা হয়। গতকাল বুধবার বিকেল ৪ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে দরপত্র জমাদান ও খোলার শেষ সময় নির্ধারন করা হয়। দরপত্রে অংশগ্রহনকারী একাধিক দরদাতা জানান, গুজ (সমঝোতা) প্রক্রিয়ার ভিত্তিত্বে প্রতিটি হাটের অনুকুলে তিনটি করে দরপত্র জমা হয়। উপজেলার ভূরঘাটা হাটে চারটি দরপত্র জমা পরে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈদ মাহবুব খান বিষয়টি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম খানকে অবহিত করেন। তাৎক্ষনিক ভাবে উপজেলা চেয়ারম্যান ইউএনও’র কার্যালয়ে ছুঁটে এসে সিদ্ধান্তের বাহিরে দরপত্র দাখিল করায় ইউএনও’র কার্যালয়ে উপস্থিত উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মাহবুব আলম কুট্টিকে গালিগালাজ করে। এ নিয়ে চেয়ারম্যানের সাথে যুবলীগ নেতার বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। মুহুর্তের মধ্যে এখবর ছড়িয়ে পরলে চেয়ারম্যানের সমর্থক যুবলীগ কর্মীদের সাথে যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম কুট্টির সমর্থকদের মধ্যে পুলিশের সামনে লাঠি সোটা নিয়ে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে যুবলীগ নেতা মাহবুবুল আলম কুট্টি, জুয়েল খান, করিম, আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক বেপারী, আমিনুল হক শাহিন, শাহাদাত হোসেন, রুবেল তালুকদার ও সংঘর্ষ ঠেকাতে গিয়ে পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বকতিয়ার হাওলাদারসহ ১০ জন আহত হয়। গুরুতর আহত ফারুক বেপারী, জুয়েল খান, আমিনুল হক শাহিনকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সে ভর্তি করা হয়।

খবর পেয়ে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হাটা-বাজারের ইজারাকে কেন্দ্র করে সংঘাতের আশংকায় সকাল থেকেই গৌরনদী থানার এস.আই জাহাঙ্গীর হোসেন মৃধা ও এ.এস.আই বোরহান উদ্দিনসহ একদল পুলিশ উপজেলা চত্বরে অবস্থান নেয়। গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাঈদ মাহবুব খান জানান, গতকাল বুধবার দুপুর দুটোর মধ্যে ঠিকাদাররা উপজেলার ২২টি হাটের ইজারা দরপত্র জমা দিয়েছেন। এরমধ্যে ২১টি হাটের অনুকুলে তিনটি করে দরপত্র জমা পরলেও ভুরঘাটা হাটে চারটি দরপত্র জমা পরে। এ নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তিনি আরো জানান, টেন্ডার কমিটির অধিকাংশ সদস্য ও দরদাতাদের উপস্থিতিতেই বিকেল চারটায় জমাকৃত দরপত্র খোলা হয়। ভূরঘাটা হাট নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়ায় ওই হাটের ইজারা স্থগিত করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম কুট্টি অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে তার ব্যবসায়ীক পার্টনার রেজাউল করিম সরদার ভূরঘাটা হাটে ৮ লক্ষ ১১ হাজার ১ ’শ টাকার দরদাতা হিসেবে দরপত্র দাখিল করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান পুলিশের উপস্থিতিতেই ইউএনও অফিসের মধ্যে বসে আমার ওপর চড়াও হয়। গৌরনদী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম খান চড়াও হওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, মাহবুবুল আলম কুট্টি আমার সমর্থক ফারুককে মারধর করে জখম করে তার সাথে থাকা দুই লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়টি আমি যুবলীগ নেতা কুট্টিকে জিজ্ঞাসা করলে সে আমার ওপর উত্তেজিত হয়ে অশোভন আচারন করেন। এ ঘটনায় উপজেলা চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সংঘর্ষের ঘটনায় গতকাল বুধবার রাতে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহ আলম খানের সমর্থক আওয়ামীলীগ নেতা ফারুক বেপারী বাদি হয়ে প্রতিপক্ষ যুবলীগ নেতা মাহবুব আলম কুট্টি, মোশারফ হাওলাদার, নান্নু মৃধা, জুয়েল খান, করিম সরদার, খায়রুল খান, মিলন হাওলাদারসহ ১৬ জনকে আসামি করে গৌরনদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »