আর্কাইভ

ঝালকাঠিতে আমন উৎপাদন ব্যহৃত হওয়ার আশংকা

আহমেদ আবু জাফর, ঝালকাঠি ॥ আমন মৌসুমে চলতি মাসের বরাদ্ধ সার না আসায় সাব-ডিলারদের কাছে  না থাকায় এবং সারের মূল্য গত  গত বছরের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা পর্যাপ্ত সার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ঝালকাঠি জেলার ৪ উপজেলায় গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময় আমন বীজ বপন করা হয়। কিন্তু চাহিদানুপাতে জমিতে সার  প্রয়োগ করতে না পারায় কৃষকরা আগামী আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শংকিত হয়ে পড়েছে। তবে কৃষি বিভাগ সার স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবী করছে।

রাজাপুর বলাই বাড়ির কৃষক শামসের ফকির সাংবাদিকদের জানান, সার পচ্ছিনা। গত দুুদিন থেকে রাজাপুরের সার ডিলার কামাল এর কাছে এলে বলছে সার নেই। তাছাড়া গতবারের ১২ টাকা কেজির সার এবার খুচরা বিক্রেতারা প্রতি কেজি বিক্রি করছে ২২ থেকে ২৩ টাকায়। তবে সাব-ডিলারদের কাছে সার না পাওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এস কৃষকরা ডিলারদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। তার পরেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। তাই আমরা আগামী মৌসুমে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে শংকিত। রাজাপুরের সার ডিলার কামাল জানান, এ মাসের বরাদ্ধকৃত সার গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পাইনি। তাই কৃষকদের চাহিদানুপাতে সার দেয়া যাচ্ছেনা। এবার গতবারের তুলনায় বস্তা প্রতি সারের মূল্য ৪শ টাকা বেশি। তবে সাব-ডিলাররা আমাদের কাছ থেকে নগদ টাকায় সার নিতে না পারায় আমরা বাকিতে তাদেরকে সার দিচ্ছিনা।

কাঠালিয়া উপজেলায় সারের ব্যাপক চাহিদা থাকা সত্যেও কৃষকরা সার পাচ্ছেনা বলে জানাযায়। কাঠালিয়ার আমুয়া ইউইনয়নের কৃষক জয়নাল মিয়া জানান, সারের দাম অপেক্ষাকৃত বেশী হওয়ায় জমিতে যতটুকু সার দরকার তা তিনি দিতে পারছেননা। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে কমপক্ষে ২০ কেজি সার দেয়া প্রয়োজন। কিন্ত এবার বেশী দাম হওয়ায় বিঘা প্রতি ১০ কেজি সার দিতে হচ্ছে। কাঠালিয়ার সাব-ডিলার খান স্টোরের রুহুল আমিন সাংবাদিকদের জানান, কাঠালিয়ায় কোন ডিলারের কাছে সার নেই। তাই আমি আমুয়া থেকে গত বৃহস্পতিবার ৬০ বস্তা সার এনেছিলাম। শুক্রবার ১২ টার মধ্যে শেষ হয়ে গেছে।

ঝালকাঠি সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ওয়াদুদ সাংবাদিকদের জানান, রাজাপুর-কাঠালিয়ায় সার না থাকায় সাময়িক চাহিদার সৃষ্টি হয়েছে। তাই ঝালকাঠি থেকে কিছু সার ওদিকে যাচ্ছে। তিনি জানান, গতবারের তুলনায় এবার সারের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় কৃষকরা জমিতে সঠিক মাত্রায় সার ব্যবহার করছে। কারন দাম কম থাকায় বিগত দিনে কৃষকরা অতিরিক্ত সার ব্যবহার করায় জমির উর্বরতা কমেছে। আমন আবাদের এ মৌসুমে ঝালকাঠিতে ডিলারদের কাছে চলতি মাসের বরাদ্ধ সার এখনো না আসার কারন জানতে চাইলে বাংলাদেশ ফার্টিলেইজার এসোসিয়েশন ঝালকাঠি শাখার সভাপতি মোঃ রফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, আশুগঞ্জ থেকে চলতি মাসে ঝালকাঠির সার বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। বরাদ্ধ পাওয়ার পর সেখান থেকে সার এখানে পৌঁছাতে ৮/১০ দিন সময় লাগে।

যে কারনে আমন আবাদের এই সময় কৃষকরা তাদের চাহিদানুপাতের সার থেকে বঞ্চিত হয়। তাই আমন মৌসুমের সার গোডাউন থেকে আগেই বরাদ্ধ দেয়া উচিত ছিল। একারনেই কৃষকদের চাহিদা মাফিক সার সরবরাহ করা যাচ্ছে না। এব্যাপারে খামার বাড়ি ঝালকাঠির উপ-পরিচালক মজিবুল হক মিয়া সাংবাদিকদের জানান, ঝালকাঠির বরাদ্ধ সার  আশুগঞ্জ থেকে পেতে দেরি হওয়ায় গতকাল বরিশাল বাফার গোডাউন থেকে দেয়ার জন্য ফ্যাক্স পাঠানো হয়েছে। এটা পেলেই সারের চাহিদা পূরণ হবে। তবে তিনি জেলার সারের সার্বিক পরিস্থিতি ভাল এবং চাহিদানুপাতে সরবরাহ আছে বলে জানান।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »