আর্কাইভ

মির্জাগঞ্জের মাধবখালীর ছিনতাইকারী শহিদ মাঝি আত্মগোপনে

উম্মে রুম্মান, বরিশাল ॥ দক্ষিণাঞ্চলের ছিনতাইকারী চক্রের হোতা মির্জাগঞ্জের মাধবখালীর শহিদুল মাঝি ওরফে মটকু শহিদ আত্মগোপনে রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, মাধবখালী গ্রামের মোসলেম মাঝির পুত্র শহিদ মঝি ছোট বেলা থেকেই বেপরোয়াভাবে জীবনযাপন করে আসছে। পরিবারের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কারণে বিগত ১৬/১৭ বছর পূর্বে চাকুরীর সন্ধানে শহিদ মাঝি ঢাকায় গেলে একটি ছিনতাইকারী  চক্রের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে ওঠে। ছিনতাই করতে করতে দিনে দিনে সে অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠে। ছিনতাই করতে গিয়ে ইতিপূর্বে সে র‌্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার  হয়ে একাধীকবার হাজতবাস করেছে।

গত বছর ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরে ১১জন ছিনতাইকারী পুলিশের হাতে আটক হয়। পরের দিন ২০ সেপ্টেম্বর ১১ জন ছিনতাইকারীর ছবিসহ ঐ সংবাদ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। ঐ চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য শহিদ মাঝি। মটকু শহিদের অন্যতম সহযোগী মাধবখালী গ্রামের ফটিক হাওলাদারের ছেলে নাছির হাওলাদার চলতি বছরের গত ২৭ অক্টোবার ঢাকার রূপসী বাংলা হোটেলের সামনে থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে। ঐ সংবাদ ২৮ অক্টোবর বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত হয়। একটি বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, ঢাকায় র‌্যাব ও পুলিশের অভিযানের মুখে গ্রেফতার এড়াতে শহিদ মাঝি ৫/৬ মাস পূর্বে এলাকায় এসে নামে মাত্র একটি স্বমিল নির্মান করে আতœগোপন করে। মাধবখালী ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি মনির তালুকদার, সাবেক মেম্বার প্রার্থী জাহাঙ্গীর হাওলাদার, ইলিয়াস হোসেনসহ কয়েকজন মটকু শহিদের এ অপকর্মের প্রতিবাদ করে। এ কারনে শহিদ মাঝি তাদের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১৮ নভেম্বর বাকেরগঞ্জের পাদ্রীশিবপুর সিকদার বাড়ীর সামনে প্রতিবাদকারী যুবলীগ নেতাদের জড়িয়ে সাজানো ছিনতাই নাটক মঞ্চস্থ করে। তাদেরকে হয়রানী করতে তাদের নামে মামলা দিতে শহিদ মাঝি মরিয়া হয়ে ওঠেছেন বলে অভিযোগ করেন যুবলীগ সভাপতি মনির তালুকদার।

এ প্রসঙ্গে শহিদ মাঝির সাথে সেল ফোনে আলাপকালে তিনি ঢাকায় ছিনতাইকারী চক্রের সদস্যদের সাথে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়ে হাজতবাসের কথা স্বীকার করেন। এবং বলেন, ভাই আমি খারাপ লোক হলেও যুবলীগ নেতারা আমাকে মারধর করে যে টাকা ছিনতাই করেছে আমি কি তার বিচার পাবোনা ? এলাকাবাসী অবিলম্বে ছিনতাইকারী চক্রের হোতা শহিদ মাঝি ওরফে মটকু শহিদকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার জন্য র‌্যাব ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগীতা কামনা করেছেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »