আর্কাইভ

ভারতে ট্রেন দূর্ঘটনায় মা ও ভাইকে হারিয়ে দু’মাস পর দেশে ফিরেছে গৌরনদীর বৈশাখী

খোকন আহম্মেদ হীরা, গৌরনদী ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর ইউনিয়নের বংকুরা গ্রামের রাজমিস্ত্রী জাকির হোসেনের স্ত্রী জানু বেগম দু’শিশু সন্তানকে নিয়ে অবৈধপন্থ্যায় গত দু’মাস পূর্বে ভারতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। গত ৫ অক্টোবর ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের পিথাপুরাম শহরে ট্রেনে কাটা পড়ে জানু বেগম (৩০) ও তার পুত্র জাহিদ হাসান (১১) নিহত হয়। ওই সময় গুরুতর আহত হয়েও প্রাণে বেঁচে যায় তার শিশু কন্যা বৈশাখী (৬)। দীর্ঘদিন চিকিৎসা শেষে সুস্থ্য করে গত ৩ ডিসেম্বর ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ বেনাপোল চেকপোষ্টে বিজিবির সদস্যদের কাছে বৈশাখীকে হস্তান্তর করেছে। অতঃপর বিজিবির সদস্যরা বৈশাখীকে তার পিতা জাকির হোসেনের হাতে তুলে দিয়েছে। স্ত্রী ও পুত্র সন্তানকে হারিয়ে শিশু কন্যা বৈশাখীকে ফিরে পেয়ে জাকির হোসেন কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। গতকাল সোমবার বিকেলে তারা নিজ গ্রামে ফিরে আসেন।

গৌরনদী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২ অক্টোবর জানু বেগম খুলনার বস্তি থেকে তার পুত্র জাহিদ ও কন্যা বৈশাখীসহ নিখোঁজ হয়। গত ৫ অক্টোবর রাতে ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের পিথাপুরাম শহরের রেলষ্টেশনের সন্নিকটে ট্রেনে কাটা পড়ে জানু বেগম ও জাহিদ হাসান নিহত ও বৈশাখী গুরুতর আহত হয়। নিহত গৃহবধুর সঙ্গে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে ভারতের পুলিশ লাশ সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে পিথাপুরাম রেল ষ্টেশনের পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়। ভারতে অবস্থিত বাংলাদেশের হাই কমিশন থেকে ট্রেন দুর্ঘটনার সংবাদ প্রাপ্তির পর গৌরনদী থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করে নিহতদের পরিবারকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরিবারের আর্থিক দৈনত্যার কারনে নিহতদের লাশ বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ভারতেই তাদের লাশ দাফন করা হয়।

সূত্রে আরো জানা গেছে, ট্রেন দূর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিশু কন্যা বৈশাখীকে রেল পুলিশের সদস্যরা কানিকান্দা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে দু’দফা অস্ত্রপাচার শেষে বৈশাখী সুস্থ্য হলে তাকে ইন্টিগ্রেটেট চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট স্কীমের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে উভয় দেশের মধ্যে চিঠি চালাচালির মাধ্যমে বৈশাখীকে হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বৈশাখীর বাবাকে খবর দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বাংলাদেশের বেনাপোল চেকপোষ্টের বিপরীতে পেট্টোপোল বিএসএফ ক্যাম্পে। গত ৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বিএসএফ সদস্যরা বেনাপোল চেকপোষ্টে বিজিপি ও ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »