আর্কাইভ

হাসিনা জ্বরে ত্রিপুরা প্রশাসন

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ভারতের উপরাষ্ট্রপতি এম হামিদ আনসারির দুদিনের সফরকে কেন্দ্র্র করে ত্রিপুরার রাজধানীতে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ততা চলছে। সেই ব্যস্ততাকে ‘জ্বর’ বলে অভিহিত করে ভারতের ত্রিপুরার ‘দৈনিক সংবাদ’র প্রথম পাতায় প্রকাশিত হয়েছে একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই ভিভিআইপি’র নিরাপত্তাসহ যাবতীয় কর্মসূচি সরাসরি তদারকি করছে দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নিরাপত্তার প্রশ্নে বার বার সময়সূচি পরিবর্তন করা হচ্ছে। ত্রিপুরার রাজ্য রক্ষা দফতর এবং সীমান্তরক্ষা বাহিনী এখন থেকেই বিশেষ নজর এবং টহল শুরু করেছে। প্রস্তুতি পর্যালোচনায় রোববার থেকে ঘন ঘন বসছে বিভিন্ন উচ্চ পর্যায়ের গোপনীয় বৈঠক।

অন্যদিকে পুরোদমে চলছে শহর সৌন্দর্য্যকরণ কর্মসূচিও। ত্রিপুরার রাজধানী আগরতলার প্রধান প্রধান সড়কে নির্মিত হচ্ছে সুরম্য তোরণ। আনসারি ও হাসিনাকে স্বাগত জানিয়ে শহরের সব জায়গায় লাগানো হচ্ছে ফ্ল্যাক্স। যে রাস্তা দিয়ে ভিভিআইপি’দের গাড়ির বহর যাবে তার দু’পাশেই লাগানো হচ্ছে দু’দেশের পতাকা। শহরের স্কুলগুলো ছাত্রছাত্রীরা দু’দেশের পতাকা হাতে তাদের স্বাগত জানাবেন।

‘দৈনিক সংবাদ’র প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, রাজ্য প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, ১১ জানুয়ারি দুপুর দেড়টায় আসবেন উপরাষ্ট্রপতি এম হামিদ আনসারি। বিমানবন্দরে গার্ড অফ অনার দেয়ার পর উপরাষ্ট্রপতি চলে যাবেন রাজভবনে। এরপর বিকেল তিনটায় আসবেন বাংলাদেশ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়নমন্ত্রী কপিল সিবল, মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারসহ রাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার সঙ্গে আসছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. দীপুমনিসহ ৫১ সদস্যের একটি প্রতিনিদি দল। এদের মধ্যে মন্ত্রী পদমর্যাদার একজন অ্যাম্বাসেডর এট লার্জ আসছেন। প্রতিনিধি দলের মধ্যে আছেন শিল্পপতি, ব্যবসায়ী, বুদ্ধিজীবী ও সাংবাদিক। স্টেট গেস্ট হাউজের সামনে প্রধানমন্ত্রীকে দেয়া হবে গার্ড অফ অনার। সেখান থেকে বিকেল পাঁচটায় শেখ হাসিনা যাবেন প্রজ্ঞা ভবনে। সেখানে কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ ও ফেডারেশন অফ বাংলাদেশ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাসট্রিজের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সম্মেলনে বক্তব্য রাখবেন শেখ হাসিনা।

দৈনিক সংবাদ জানায়, এই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও ত্রিপুরা ছাড়াও দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতিরা যোগ দেবেন। এরপর সন্ধ্যা সাতটায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের উপরাষ্ট্রপতির সম্মানে রাজভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠান শেষে স্টেটস গেস্ট হাউজে হবে রাষ্ট্রীয় ভোজসভা।

পরের দিন ১২ জানুয়ারি সকাল ৯টায় এডি নগর পুলিশ লাইনে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির পুলিশ কালার পদক প্রদান করবেন উপরাষ্ট্রপতি এম হামিদ আনসারি। এরপর ত্রিপুরা কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠান। সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৌঁছাবেন বিশ্ববিদ্যালয়ে। আর সেখানে সকাল ১০ টা ২০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাবেন এম হামিদ আনসারি।

সেই অনুষ্ঠনেই ভারতের উরাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেবেন সম্মানসূচক ডিলিট উপাধি। এরপর বেলা বারোটায় সমাবর্তন অনুষ্ঠান শেষ হলে ভিভিআইপি’রা যাবেন রাজভবনে। সেখানে লাঞ্চ শেষে তারা যাবেন আসাম রাইফেলস মাঠে, সেখানে তাদের দেয়া হবে নাগরিক সম্বর্ধনা। এক ঘণ্টার সেই সম্বর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও ভারতের উপরাষ্ট্রপতি সেখান থেকেই আসাম ত্যাগ করবেন।
খবর : আজকের বাংলা

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »