আর্কাইভ

জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে মতিঝিল-পল্টন রণক্ষেত্র, আহত ২০

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আজমকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে জামায়াত-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে রাজধানীর মতিঝিল, পুরানা পল্টন ও দৈনিক বাংলা মোড় এলাকা। সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয়েছে ২০ জন। জামায়াত কর্মীরা ফকিরাপুল পানির ট্যাঙ্কির সামনে পুলিশের একটি গাড়ি (ঢাকা মেট্রো ঘ ০২-২১৫১) পুড়িয়ে দিয়েছে। ওই গাড়ির চালক আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তিন জামায়াতকর্মীকে আটক করেছে।

একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। সদ্য কারান্তরীণ গোলাম আযমের মুক্তির দাবিতে জামায়াত কর্মীরা একটি মিছিল বের করলে ধাওয়া দেয় পুলিশ। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। মাত্র ১৫/২০ মিনিটের এ সংঘর্ষে  মতিঝিল,  পুরানা পল্টন ও  দৈনিক বাংলা মোড়ে গাড়ি ভাঙচুর করে জামায়াত কর্মীরা। কয়েকটি পাবলিক পরিবহনও পুড়িয়ে দেয় তারা। এ সময় আশপাশের রাস্তাগুলোতে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা এসে কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাটিপেটা করে প্রায় আধঘণ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

মতিঝিল পেট্টোল ইন্সপেক্টর আবুল বাসারকে একা পেয়ে জামাত শিবিরের কর্মীরা মারধর করে। খবর পেয়ে তার ড্রাইবার আসলে তাকেও গুরুত্বর আহত করে। আহত পুলিশ কর্মকর্তা আবুল বাশারকে রাজারবাগ পুলিশ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় তার সঙ্গে থাকা একটি পিস্তল খোয়া যায় এক পর্যায়ে পুলিশি তৎপরতার মুখে জামায়াত কর্মীরা মূল রাস্তা ছেড়ে গলিপথগুলোতে ঢুকে পড়ে। রাস্তার মোড়ে মোড়ে অতিরিক্ত পুলিশ সতর্ক অবস্থান নেয়।

বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে আবার দু’একটি করে যান চলতে শুরু করে। ঢাকা মহানগরী আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলে অংশ গ্রহণ করেন মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন ও মনজুরুল ইসলাম ভূঁইয়া, মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ডা. রেদওয়ারুল্লাহ সাহেদী এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় নেতারা। মিছিলটি মতিঝিল শাপলা চত্ত্বর থেকে শুরু হয়ে দৈনিক বাংলা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

পুলিশের মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার আনোয়ার হোসেন বলেন, জামায়াত-শিবিরের একটি মিছিল আকস্মিকভাবে মতিঝিলের দিলকুশা এলাকা থেকে বের হলে পুলিশ তাদের ধাওয়া করে। এ সময় মতিঝিলে পেট্রোল ইন্সপেক্টর (পিআই) আবুল বাশার গাড়িসহ একটি পিকআপ গাড়িসহ মিছিলকারীদের সামনে পড়ে গেলে জামায়াত-শিবিরকর্মীরা তাকে মারধর করে এবং গাড়ি ভাংচুর করে।

মতিঝিল থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, খোয়া যাওয়া অস্ত্রটি এখনও পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। এর আগে ভোরে জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর শাখা কার্যালয়ে সাদা পোশাকধারী একদল পুলিশ অভিযান চালিয়ে রেটিনা কোচিং সেন্টারের কিছু বই উদ্ধার করে। জামায়াত কার্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মী আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানান।
খবর: আজকের বাংলা

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »