আর্কাইভ

পদ্মা সেতুতে মালয়েশিয়ান কোম্পানীর টাকা কার? -মির্জা ফখরুল

খোন্দকার কাওছার হোসেন ॥ পদ্মা সেতুতে মালয়েশিয়ান কোম্পানি যে বিনিয়োগ করবে সে টাকা কার। এ প্রশ্ন তুলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এই টাকা কি মালয়েশিয়ান কোম্পানির, নাকি শেয়ার বাজারের লুট করা টাকা মালয়শিয়া থেকে ঘুরে আবার বাংলাদেশে আসবে। জাতি তা জানতে চায়।

শনিবার বিকেলে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মহানগর বিএনপি আয়োজিত সরকারের গণবিরোধী নীতির কারণে শেয়ার বাজার ধ্বংসের প্রতিবাদে এক বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাদেক হোসেন খোকার সভাপতিত্বে এ বিক্ষোভ সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, এ কে আনোয়ার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব আবদুস সালাম প্রমুখ।

মির্জা ফখরুল বলেন, মালয়েশিয়ান কোম্পানির সঙ্গে যে মেমোরেন্ডাম চুক্তি করবেন সে চুক্তিতে সুদের হার কি হবে তাও জাতিকে জানাতে হবে।  

তিনি বলেন, মায়ের গহনা, স্ত্রীর গহনা বিক্রি করে শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ করেছিলো। কারণ সরকার তাদের বিনিয়োগ করতে বলেছিলো। সেই টাকা হারিয়ে এখন ৩৩ লাখ বিনিয়োগকারী পথে বসেছে। শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারী লিয়াকত আত্মহত্যা করেনি। তাকে আত্মহত্যা করতে সরকার বাধ্য করেছে।

তিনি অভিযোগ করেন,  সহস্রাধিক কর্মকর্তাকে ডিঙ্গিয়ে ৬ শতাধিক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। যাদের পদোন্নতি দেয়া হয়নি তারাই মেধাবী কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, কেউ অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিলে আন্তর্জাতিক আইনে তাকে সর্বোচ্চ ৬ মাসের কারাদ- দেয়ার বিধান রাখা হয়েছে। অথচ বিএসএফ ডিজি বলছেন- সীমান্তে গুলি চলবেই। তাই সীমান্ত হত্যা বন্ধে জাতিসংঘে প্রস্তাব তোলা হোক।

মির্জা ফখরুল বলেন, স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে হলে আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তাই ১২ মার্চের মহাসমাবেশে অংশ নিয়ে সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে হবে।  

এর আগে শনিবার সকালে মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও তার স্ত্রী এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার মেহেরুন রুনি নির্মমভাবে খুন হওয়ায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতির জন্য দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন তিনি।

হত্যার শিকার সাংবাদিক দম্পত্তির স্বজনদের শান্তনা দিতে পশ্চিম রাজাবাজরের ইন্দিরা  রোড়ের বাসায় যান মির্জা ফখরুল। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের কাছে এক প্রতিক্রিয়ায় এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা বারবারই বলছি, দেশে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় পৌঁছেছে। সারাদেশ একটি বধ্যভূমিতে পরিণত হয়ে পড়েছে। এ ঘটনা তারই প্রমাণ।
মির্জা ফখরুল বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বারবার বলেন, দেশে আইনশৃংখলা পরিস্থিতি যেকোন সময়ের চেয়ে ভালো আছে। অথচ দেশে একের এক খুন, গুপ্তহত্যা হয়েই চলেছে। এটি মেনে নেয়া যায়না। তিনি সাংবাদিক দম্পত্তি হত্যার ঘটনায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে পদত্যাগ করার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকারকে হত্যা বন্ধ করতে হবে। মানুষকে স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুর গ্যারান্টি দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, মিডিয়া অঙ্গনে সাগর আর রুমি দুইজনই ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রাণবন্ত দুই তরুণ সাংবাদিককে হারিয়ে জাতির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, যে করেই হোক এমন ঘটনা বন্ধ করুন।

গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অপর আরো এক আলোচনা সভায় তিনি বলেন, ১২ মার্চ আমরা শান্তিপূর্ণ মহাসমাবেশের মাধ্যমে এই সরকারকে জানিয়ে দেব সরকারের প্রতি জনগণের আর কোনো আস্থা নেই। তাই অবিলম্বে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার গঠন করে মানে মানে আপনারা কেটে পড়ুন।

‘সাম্প্রতিক দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে বিদ্যুৎখাতের ভ্রান্ত নীতি ও অব্যবস্থাপনা’ শীর্ষক এই আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন সাবেক বিদ্যুৎ সচিব আ ন হ আখতার হোসেন।

সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে এ আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবু আহমেদ, শিক্ষক কর্মচারী ইউনিয়নের প্রধান অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া, চাষী নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

এ কর্মসূচিতে বাধা এলে পরিণতি শুভ হবে না উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, আমরা আশা করি, সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। তারা মহাসমাবেশে বাধা দেবেন না। সহযোগিতা করবেন।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার গত ৩ বছরে দেশের বহু ক্ষতি করে ফেলেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অর্থনীতি এখন ধ্বংসপ্রায়। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বন্ধ হয়ে গেছে। সরকারের সেদিকে কোনো খেয়াল নেই।
তিনি বলেন, কীভাবে দেশকে পরনির্ভরশীল করা যায়- প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মশিউর রহমান, গওহর রিজভী আর তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী সেই কাজটিই করে যাচ্ছেন।

বিএনপির যৌথ সভা
আগামী ১২ মার্চ মহাসমাবেশকে সফল করার জন্য নরসিংদী ও মানিকগঞ্জ জেলার গঠিত সাংগঠনিক টীমের এক যৌথ সভা গতকাল শনিবার নয়াপল্টনস্থ বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব  ও সাংগঠনিক টীমের দলনেতা (নরসিংদী-মানিকগঞ্জ) আমান উল্লাহ আমান।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান। উপস্থিত ছিলেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক স¤পাদক ফজলুল হক মিলন, শিক্ষা বিষয়ক স¤পাদক খায়রুল কবির খোকন, গণশিক্ষা বিষয়ক স¤পাদক এভোকেট সানাউল্লাহ মিয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য কর্ণেল(অবঃ) জয়নাল আবেদীন, নির্বাহী সদস্য ফেরদৌস আহমেদ খোকন, আফরোজা খান রিতা, মাঈনুল ইসলাম শান্ত, মিয়া মোঃ সেলিম, নরসিংদী জেলা বিএনপির সাধারণ স¤পাদক তোফাজ্জেল হোসেন প্রমুখ।

সভায় আগামী ১২ মার্চ ঢাকায় মহাসমাবেশ সাফল্যমন্ডিত করার জন্য নরসিংদী ও মানিকগঞ্জে কর্মীসভা, পোষ্টার লিফলেটসহ নানাবিধ প্রচার কর্মকান্ড চালানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »