বরিশাল

শেষ রক্ষা হবে তো!

কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে বরিশালে এসেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সোবাহান সিকদার। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় তিনি ঢাকা থেকে সড়ক পথে রওনা হয়ে রাত দশটায় বরিশাল এসে পৌঁছেছেন। শুক্রবার সকাল ৯ টা থেকে দশটা পর্যন্ত টানা এক ঘন্টা তিনি ভাঙন কবলিত এলাকায় স্পীড নিয়ে পরিদর্শন করবেন। কথা বলবেন ভাঙন কবলিত চরবাড়ীয়া ইউনিয়নের উত্তর লামচড়ি এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে। একই সাথে স্বচক্ষে দেখবেন এ অবহেলিত অঞ্চলের ভাঙন চিত্র। পরবর্তীতে ঢাকায় গিয়ে প্রতিবেদন আকারে প্রধান মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার কথা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র নিশ্চিত করেছেন প্রধানমন্ত্রী’র নির্দেশেই সচিব বরিশালে কীর্তনখোলা নদী ভাঙন পরিদর্শনে আসছেন।

সচিবের আকস্মিক ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনের খবরে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সাধারণ মানুষের মনে। এ জনপদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে কি? না কি প্রতিনিয়ন মৃত্যু ঝুকি নিয়ে বসবাস করতে হবে।

আবার কেউ কেউ সচিবের এ সফর ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীর জন্য শুভবার্তা নিয়ে আসছে বলে মনে করছেন। যার ফলশ্রুতিতে অচীরেই ভাঙন রক্ষায় মিলে যেতে পারে কাঙ্খিত বরাদ্দ।

উত্তর লামচড়ি এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. তোতা মিয়া জানান, সচিবের পরিদর্শের খবরে এ জনপদের মানুষের মনে ধারণা এসেছে এবার যদি শেষ রক্ষা হয়। না হলে পুরো চরবাড়ীয়রা ইউনিয়ন রাক্ষুসি কীর্তনখোলা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার সম্ভাবনা সুনিশ্চিত। ফলশ্রুতিতে বড় রকমের হুমকিতে পড়বে উপজেলা সংলগ্ন বরিশাল নগরী। তাই তিনি ভাঙন রক্ষায় এখনই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান।

গত এক মাস যাবৎ নদীর অব্যাহত ভাঙনে সদর উপজেলার চরবাড়ীয়া ইউনিয়ের উত্তর লামচড়ি এলাকার একাংশ বিলীন হয়েছে। ভাঙন রক্ষায় অর্থাভাবে কাঙ্খিত ব্যবস্থা নিতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। সর্বশেষ  ৬ সেপ্টেম্বর আকস্মিক ভাঙনে ওই এলাকার চারটি বাড়ী নদীগর্ভে চলে যায়। এসময় বাড়ী-ঘর সরিয়ে নিতে গিয়ে নিখোঁজ হন চার ব্যক্তি। দুই দিন পরে এদের মধ্যে এক ব্যক্তির মৃতদেহ নদী থেকে উদ্ধার করা হয়। মিডিয়ার কল্যাণে অবহেলিত এ জনপদের দুর্দশার বিষয়টি নজরে আসে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। একই সাথে বরিশাল জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীকে লিখিত আকারে অবহিত করা হয়। প্রধানমন্ত্রী ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শনে মুখ্য সচিবকে বরিশালের পাঠানোর সিন্ধান্ত নেন।

এদিকে চাপের মুখে মাত্র ৩০লাখ টাকা ভাঙন রক্ষায় জরুরী ভিত্তিতে বরাদ্দ দেয় পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়। যার প্রাথমিক পর্যায়ের জিওব্যাগ ফালানোর কাজ চলছে ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০০৯ সালে ৩ আগস্ট কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন রোধে একটি বেরিবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনার জন্য ২৩ কোটি ৫২ লাখ টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয়। পরে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব ইব্রাহিম খলিল কীর্তনখোলার ভাঙন পরিদর্শন করেন।  পরিদর্শন শেষে সচিব আগের দাখিল করা প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধি করে ৪৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প জমা দেয়ার নির্দেশ দেন।

এ ব্যাপারে নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, কীর্তনখোলা নদীর ভাঙন ও বেরিবাঁধ রক্ষায় ৪৬ কোটি টাকার ওই প্রকল্পটি এখনও মন্ত্রণালয়ে আটকা আছে অনুমোদনের জন্য।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...