বরিশাল ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপাডিকো ২) অফিস এবং তাদের মিটার রিডিং কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, মিটার রিডিংয়ের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলের ব্যাপক গরমিল, মিটার বাণিজ্য এবং ঘুষ লেনদেন যেন এই অফিসে একটি সাধারণ নিয়মে পরিণত হয়েছে।
মিটার না দেখেই মনগড়া বিল: গ্রাহকদের মাথায় ‘ভূতুড়ে বিলের’ বোঝা
বিদ্যুৎ বিভাগ মিটার না দেখেই ইচ্ছেমতো বিল তৈরি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে বিলের সঙ্গে মিটার রিডিংয়ের প্রায় ২০০ থেকে ৫০০ ইউনিট পর্যন্ত গরমিল দেখা যাচ্ছে। এমন ‘ভূতুড়ে বিলের’ বোঝা আর বিদ্যুৎ বিভাগের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অসহায় হয়ে পড়েছেন গ্রাহকরা।
প্রতিদিন অসংখ্য গ্রাহক বিলের অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে যাচ্ছেন, কিন্তু কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের মতো করে গ্রাহকদের বুঝিয়ে বিদায় করে দিচ্ছেন। তাদের কথা না বুঝলে “কিছুই করার নেই” বলে গ্রাহকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ নিয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে অফিসের কর্মীদের প্রায়শই বাগবিতণ্ডা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা: “বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন দুর্নীতি করতে এমন হয়রানিতে ফেলেছেন”
ভূতুড়ে বিদ্যুৎ বিলের শিকার সোহেল রানা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধ করার পরও তাকে ১৮৫ ইউনিটের জন্য ২৩৮৬ টাকার বাড়তি বিল ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি মনে করেন, “বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন দুর্নীতি করতে এমন হয়রানিতে ফেলেছেন।”
দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিলের কাগজের সঙ্গে মিটার রিডিংয়ের গরমিল রয়েছে। বিল পরিশোধ করার পরও “উল্টো বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন অন্যায়ভাবে ভুয়া বিল এবং তারা যা ইচ্ছে তাই করছেন। প্রতিকার চাওয়ার জায়গা নেই।”
ভুক্তভোগী সজীবের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিলের কাগজের সঙ্গে মিটার রিডিংয়ের কোনো মিল নেই। বরং “এখনও বিদ্যুৎ অফিসের কাছে কিছু ইউনিটের বেশি পাওনা রয়েছি। অথচ আমাকেও ভুয়া বিল ধরিয়ে দিয়েছেন। এর বিচার কোথায় দিব? বিদ্যুৎ অফিসে প্রতিকার চাইলে তারা বলে বিল পরিশোধ করতেই হবে, না হলে লাইন কাটা হবে।”
আরেক ভুক্তভোগী আলতাফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “রিডিংম্যানরা কখনোই মিটার দেখে বিল করে না। ঘরে বসে মনগড়া ইউনিট বসিয়ে বিল করে। যার খেসারত আমরা দিচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “তাছাড়াও মিটার বাণিজ্য তো করছেই। এই বিদ্যুৎ অফিস দুর্নীতি, অনিয়ম ও ঘুষের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। আমাদের দাবি এই ভুয়া বিল থেকে মুক্ত করা হোক।”
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: “মিটার রিডার নতুন তাই এমন হতে পারে”
বরিশাল ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো ২) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, “মিটার রিডার নতুন তাই এমন হতে পারে। অফিসে আসলে আমরা বিষয়টি সমাধান করে দেব।”
তবে ওজোপাডিকোর পরিচালন ও সংরক্ষণ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পরিতোষ চন্দ্র সরকার বলেন, “এমনটা হওয়া উচিত নয়। অবশ্যই মিটারের রিডিংয়ের সাথে মিল রেখে বিদ্যুৎ বিল প্রস্তুত করতে হবে। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।”
গ্রাহকদের দাবি: “সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনা হোক”
গ্রাহকদের ভোগান্তি দিনের পর দিন বেড়েই চলেছে। এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়িত্বহীনতাকেই দায়ী করছেন সাধারণ গ্রাহকরা। তাদের মতে, বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত রাখতে যে সকল কার্যক্রম চালু করেছে, তা এই সকল অসাধু কর্মকর্তাদের কারণে সম্ভব হচ্ছে না। তাই গ্রাহকরা এই সকল কর্মকর্তাদের সকল কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।