গৌরনদীতে যুবককে অপহরণ ও নির্যাতনের অভিযোগ: মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায়ের ভিডিও ভাইরাল

বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার কাছেমাবাদ এলাকার ২২ বছর বয়সী নাঈম হোসেনকে অপহরণ করে, শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে এবং জোরপূর্বক মিথ্যা স্বীকারোক্তি আদায় করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগী নাঈম হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় যুবদল কর্মী হীরা সরদারের নেতৃত্বে ৮-১০ জন মঙ্গলবার (২৫ জুন, ২০২৫) বেলা ১১টার দিকে তাঁকে কাছেমাবাদ এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যায়। নাঈম জানান, “তারা আমাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে হাত-পা বেঁধে শারীরিক নির্যাতন করে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “রাতে জঙ্গলপট্টি গ্রামের পুরোনো একটি মাদ্রাসা ভবনে নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আমাকে নির্যাতন করা হয়। নির্যাতনের একপর্যায়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তারা আমার হাতে কুরআন শরীফ দিয়ে গৌরনদী পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিমকে জড়িয়ে মাদক সংক্রান্ত মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করে। এমনকি আমার হাতে গাঁজা তুলে দিয়ে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ করে তারা।”
নাঈম বলেন, “আমি মৌখিকভাবে বিষয়টি থানায় জানিয়েছি। পুলিশ লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছে; কিন্তু আমার মা বিদেশে থাকায় এবং পরিবারের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখনো অভিযোগ জমা দিইনি।”
অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদলকর্মী হীরা সরদার বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। দলের ভেতরের একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
নির্দোষ দাবি করে পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রহিম বলেন, “হীরা সরদার দীর্ঘদিন ধরে আমাকে ফাঁসাতে এবং রাজনৈতিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে নানা ষড়যন্ত্র করে আসছে। বিষয়টি দলের সিনিয়র নেতাদের জানিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।”
গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইউনুস মিয়া জানিয়েছেন, “এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”



