গৌরনদী সংবাদ

ভূমিখোরের চোখ ফসলি জমির দিকে!

কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্রভাব খাটিয়ে গ্রামের ভিটে-মাটি জবর দখল করে ইটভাটার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বাউরগাতি গ্রামের মামুন খান। এ ছাড়া এলাকার বৃক্ষ নিধন করে জ্বালানি কাঠ ইটভাটায় ব্যবহার করছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব জমির মালিকরা বাধা দিলে তাদের নানাভাবে হয়রানিসহ শারীরিক নির্যাতন করারও অভিযোগ রয়েছে মামুন ও তার প্রভাবশালী আত্মীয়দের  বিরুদ্ধে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত আনোয়ার খানের ছেলে মো. মামুন খান কয়েক বছর কাতারে ছিলেন।

অভিযোগ রয়েছে, কাতারে তার ব্যবসায় অংশীদারের সঙ্গে প্রতারণা করে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ৯ বছর আগে গোপনে দেশে ফিরে আসেন। প্রতারণার সেই অর্থ দিয়ে রাতারাতি বিত্তবান হওয়ার আশায় দেশে নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন গৌরনদীর দক্ষিণ বাউরগাতি গ্রামের ভূমিদস্যু খ্যাত মামুন খান।

স্থানীয় মিজানুর রহমান, আব্দুল রহমানসহ অনেকে অভিযোগ করেন, মামুন দেশে ফিরেই কোন প্রকার কাগজপত্র কিংবা অনুমতিপত্র না নিয়েই প্রথমে একটি এমএসএস নামের ইটের ভাটা নির্মাণ করেন। কিন্তু ইটের ভাটার কার্যক্রম চালাতে মাটি ও জ্বালানী কাঠের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। তাই কাতার থেকে প্রতারণা করে আনা অর্থ দিয়ে গ্রামের অসহায়দের জমি জবর দখলে নেওয়ার কাজ শুরু করেন তিনি। বর্তমানে তার দখলে ওই গ্রামের আসহয়দের ১২ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে তার দস্যুতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মৃত নূর মোহাম্মাদ খানের সন্তানরা।

মিজানুর রহমান খান অভিযোগ করেন, ওই ভূমিদস্যুর হাত থেকে পৈত্রিক সম্পত্তি রক্ষা করতে বরিশাল অতিরিক্ত জেলা ম্যজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন তিনি। মামলার পর আদালত ওই জমিতে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করতে গৌরনদী থানা পুলিশকে নির্দেশ দেন। গৌরনদী থানার এএসআই মো. কামরুজ্জামান উভয় পক্ষকে নোটিশ দিয়ে করে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার বিষয় অবহিত করেন।

গৌরনদী থানার সহকারী উপপরিদর্শক মো. কামরুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, “আদালতের নিদের্শ অমান্য করে মামুন খান মাটি কাটা অব্যাহত রেখেছেন বলে শুনেছি।”

বাউর গাতি-তে অভৈধভাবে ভুমি দখল করছে ভুমিখোররা
সরেজমিনে গিয়ে মামুন খানের নানান অপর্কমের তথ্য পাওয়া গেছে। এর আগে  নুর মোহাম্মাদ খানই শুধু নন স্থানীয় রহমান শিকদার, বাহারুলুর ইসলাম, আক্তার শরীফ, হারুন মিয়া, রাজ্জাক মুন্সীসহ একাধিক অসহায় ব্যক্তির জমি জবর দখল করে নিয়েছেন তিনি। প্রতি বছর ৫০ লাখ ইট তৈরির জন্য কয়েক একর ফসলি জমির ধ্বংস করছেন এই ভূমিদস্যু।
স্থানীয় সৈয়দ খবির উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, “মামুন খানের ক্ষমতার উৎস হিসেবে কাজ করছেন তার শ্যালক উপজেলা যুবলীগের সদস্য ও গৌরনদী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর রেজাউল করিম টিটু। বর্তমান তিনি ক্ষমতাসীন দলের একজন নেতা হয়েও বিএনপি নেতা ভগ্নিপতি ভূমিদস্যু মামুন খানকে সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
অবশ্য এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কাউন্সিলর রেজাউল করিম টিটু।
গৌরনদীর পৌর মেয়র মো. হারিছুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, “বিষয়টি আমি জেনে একাধিবার এ অপকর্ম থেকে মামুন খানকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছি। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জমির মাটি কেটে না নেওয়ার জন্য পুলিশকে সেখানে নিষেধাজ্ঞা জারির নির্দেশ দিয়েছেন। পুলিশের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকা সত্ত্বেও ফসলি জমি ধ্বংস করে মাটি কাটা হচ্ছে সেখানে।”
স্থানীয় খবির উদ্দিন ও তার ছেলে সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেন, মামুন খানের ওই ইটভাটার কারণে এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। মামুন আমাদের বসতবাড়ির সীমানা ঠেকিয়ে জোরপূর্বক মাটি কাটে। ফলে পরে আমাদের বাড়িঘর ভেঙ্গে পড়ে। এ ছাড়া মামুন একের পর এক মানুষের জমি জবর দখল করে নিঃস্ব করে দিচ্ছেন। এ জিন্মিদশা থেকে গ্রামবাসী মুক্তি চায়।”
আব্দুর রহমান শিকদার অভিযোগ করেন, “মামুনের অত্যাচারে অতিস্ট হয়ে বাধ্য হয়ে কম দামে তাকে আমার ধানের জমি বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছি।”
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মামুন খান বলেন, তিনি বর্তমানে ক্রয়সূত্রে ১২ একর জমির মালিক। ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি  বলেন, “আমার জমি আমি কাটবো তাতে কারও কোন খরবদারির প্রয়োজন নেই। এ ছাড়া নূর মোহাম্মাদের স্ত্রী বেঁচে থাকতেই তিনি আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন, তাই নূর মোহাম্মদের জমির মাটি কাটা হচ্ছে।” তাবে টাকা নেওয়ার বিষয়ে সঠিক কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি মামুন খান।
এদিকে, ফসলি জমি ধ্বংস করে মাটি কেটে ইট তৈরি ও গাছের গুঁড়ি জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের বিধান নেই বলে দাবি করেছেন বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরে সহকারী পরিচালক এইচ এম রাশেদ। তিনি বলেন, “নিজের ফসলি জমি হলেও ওই জমির মাটি কেটে ইটের ভাটায় ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এ ব্যাপারে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নে‌ওয়া হবে।”
সংবাদ : গিয়াস উদ্দিন মিয়া, কালের কন্ঠ
সংবাদটি প্রকাশিত হয়েছে এখানে : www.kalerkantho.com/online/country-news/2014/11/13/150584

আরও সংবাদ...

Leave a Reply

Back to top button