আর্কাইভ

কিংবদন্তী কথক কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ – কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে..

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা, সজনে ডাঁটায় ভরে গেছে গাছটা। আর আমি ডালের বড়ি শুকিয়ে রেখেছি, খোকা ত্ইু কবে আসবি?-সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করা কবিতার কিংবদন্তীর কথক কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ মঙ্গলবার। এ উপলক্ষ্যে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর গ্রামে প্রতিষ্ঠিত “কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি পাঠাগার”-এর উদ্যোগে স্মরণসভা, দোয়া-মিলাদসহ ব্যাপক কর্মসূচী গ্রহন করা হয়েছে। কিংবদন্তী কথক কবির মৃত্যুবার্ষিকী আজ - কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে..

পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোঃ আতিকুর রহমান আতিক জানান, কবির ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাবুগঞ্জের হাজার-হাজার মানুষের অংশগ্রহনে স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের কবিতা আবৃত্তি, স্মরণসভা, দোয়া-মিলাদসহ ব্যাপক কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছে। কিংবদন্তীর কথক কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র স্মৃতিচারন করতে গিয়ে আতিকুর রহমান আতিক বলেন, ১৯৫২ সনের ভাষা আন্দোলনের মধ্যদিয়ে কাব্য স্ফুরণ হয়েছিলো কিংবদন্তীর কথক কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র। ১৯৫৩ সনে অবিস্মরণীয় ‘একুশে ফেব্র“য়ারি সংকল’ বইতে প্রকাশিত হয়েছিলো কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র মহান কবিতা “মাগো ওরা বলে”। তৎকালীন সময় এ কবিতাটি সর্বত্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলো। কবিতাটির প্রথম লাইনটি ছিলো-“কুমড়ো ফুলে ফুলে নুয়ে পড়েছে লতাটা”। পরবর্তীতে এ কবিতাটি মাধ্যমিক পাঠ্য পুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। শুধু মাধ্যমিকেই নয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের “রূপকথা” ও উচ্চ মাধ্যমিকে “আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি” কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র এসব কবিতা পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভূক্ত করা হয়। আতিক আরো জানান, প্রবল বিশ্বাসের আধুনিকায়ন, পূর্ব পুরুষের মহত্তম সংগ্রামে উদ্দীপ্ত কবি ওবায়দুল্লাহ যেমন শুনিয়েছেন স্তোত্র মর্গের কিংবদন্তী, তেমনি গ্রামীণ নিসর্গ, উদাস মাঠ, পল্লীবধূ, চাপিলা, কাজলী মাঠ প্রতীকি হয়ে বার বার ফিরে এসেছে তার কবিতায়।

স্থানীয় বিশিষ্ট সমাজসেবক ও দেহেরগতি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ বজলুর রহমান মাষ্টার জানান, ১৯৩৪ সনের ৮ ফেব্র“য়ারি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার বাহেরচর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহন করেন কিংবদন্তী করি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ। তার পিতা মরহুম আব্দুল জব্বার খান ছিলেন পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পীকার ও পূর্ব পাকিস্তান হাইকোর্টের বিচারপতি। তিনি আরো জানান, কিংবদন্তী কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহর জীবনাবাসন হয় ২০০১ সনের ১৯ মার্চ। ওই বছরেই স্থানীয় যুবসমাজের উদ্যোগে কবিকে চিরস্মরনীয় করে রাখতে নিজগ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয় কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ স্মৃতি পাঠাগার। তিনি কবির নামে প্রতিষ্ঠিত বহুতল সুরম্য পাঠাগারটি জাদুঘর ও কবি মিউজিয়ামে উন্নীত করার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, কিংবদন্তীর কথক কবি প্রয়াত আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ বিশিষ্ট কলামিষ্ট ও ভাষা সৈনিক সাদেক খান এবং শিক্ষামন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন-এমপি’র ভাই।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »