আর্কাইভ

গৌরনদীর মুর্তিমান আতংক রেজাউল ফের বেপরোয়া

স্টাফ রিপোর্টার ॥  বরিশালের গৌরনদী উপজেলার দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী ও একাধিক হত্যা মামলার আসামি সিকদার শফিকুল রহমান রেজাউল ও তার বাহিনীর সদস্যরা ফের বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবিতে টরকী বন্দরের ব্যবসায়ীকে মারধর করে গোডাউনে তালাবদ্ধ করে দিয়েছে সন্ত্রাসী রেজাউল ও তার বাহিনীর ক্যাডাররা। এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হলে ক্ষিপ্ত হয় রেজাউল।

মামলা প্রত্যাহারের জন্য বাদিকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আজ মঙ্গলবার গৌরনদী থানায় একটি সাধারন ডায়রী করেছেন ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন মুন্সী। গত কয়েকদিন থেকে সন্ত্রাসী রেজাউলের হুমকির মুখে নিজ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্যরা।

ব্যবসায়ী, পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বহুল আলোচিত চতুর্থ স্ত্রী অন্তঃস্বত্তা নাদিয়াকে হত্যা করে লাশগুমের সময় ঢাকার শাহবাগ থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয় গৌরনদীর চাঞ্চল্যকর পিতৃ হত্যাকারী ও দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী সিকদার শফিকুর রহমান রেজাউল। দীর্ঘ আট মাস কারাভোগের পর অতিসম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে আসে খুনী রেজাউল। টরকী বন্দরের কোহিনুর কেমিক্যাল লিঃ ও আরএফএল’র স্থানীয় পরিবেশক আলমগীর হোসেন মুন্সী অভিযোগ করেন, হত্যা মামলা থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে সন্ত্রাসী রেজাউল সিকদার ও তার বাহিনীর ক্যাডাররা গত ১৯ এপ্রিল তার কাছে ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। এক সপ্তাহের মধ্যে দাবিকৃত চাঁদা না দিলে তার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুড়িয়ে তাকেসহ তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার হুমকি দেয়া হয়। এরইমধ্যে গত ২৭ এপ্রিল সকালে রেজাউল, তার সহযোগী হারুন বেপারী ও পুসনজীদ গোস্বামীসহ অন্যান্যরা তার গোডাউনে হাজির হয়ে তাদের দাবিকৃত চাঁদার টাকা দাবি করে। এসময় ব্যবসায়ী আলমগীর টাকা দিতে অপরগতা প্রকাশ করলে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে গোডাউনে তালাবদ্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন মুন্সী বাদি হয়ে রেজাউলসহ তিনজনকে আসামি করে ২৮ এপ্রিল সকালে থানায় চাঁদাবাজি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ রেজাউলের সহযোগী হারুন বেপারীকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরন করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রেজাউল ও তার বাহিনীর সদস্যরা মামলা প্রত্যাহারের জন্য মামলার বাদি আলমগীরকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতিসহ স্ব-পরিবারে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আজ মঙ্গলবার দুপুরে গৌরনদী থানায় আলমগীর হোসেন মুন্সী একটি সাধারন ডায়েরী করেছেন। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকির মুখে ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন মুন্সী ও তার পরিবারের সদস্যরা টরকী বন্দরের বাসা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম বলেন, সিকদার শফিকুল রহমান রেজাউল একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের জোরপ্রচেষ্টা চলছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »