আর্কাইভ

ঘরে বসে আয়ের ১০ উৎস – এস আই শান্ত

সময় পার হয় এলোমেলো ভাবনায়। ইউরোপের মতো আমাদের দেশে পার্ট টাইম কাজের তেমন সুযোগ না থাকায় অলসভাবে কাটিয়ে দিই আমরা আমাদের অবসর সময়। কেউ কেউ হয়তো টিউশনি করে অবসরটা পার করে দিচ্ছেন। কিন্তু বর্তমানে টিউশনি পাওয়া চাকরি পাওয়ার চেয়ে কম কঠিন নয়। নিজেদের আত্মনির্ভরশীল করতে নিচের যে কোন একটির সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন।

বাড়িতে সাইবার ক্যাফে
আপনার বাড়িতে যদি ভালো কম্পিউটার থাকে আর ইন্টারনেট কানেকশন তবে খুলে ফেলুন একটা ঘরোয়া সাইবার ক্যাফে। শুধু সার্ফিং ব্যবস্থা করলেই আপনি ঘণ্টা প্রতি ২০-৩০ টাকা চার্জ করতে পারেন। আলাদা করে কম্পিউটার কিনে সার্ফিং সার্ভিস করতে চাইলে কম্পিউটারের দাম বাবদ লাগবে ২০-৩০ হাজার টাকার মতো। মাস শেষে আপনার পাঁচ হাজার টাকার বেশি লাভ থাকবে। প্রিন্টারের ব্যবস্থা রাখতে পারেন। ভালো প্রিন্টার থাকলে প্রিন্টার বাবদ আরো কিছু রোজগার করতে পারবেন।

ঘরে বসে মোমবাতি তৈরি
লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলছে। তাই মোমবাতির চাহিদা বেড়েছে আগের তুলনায় বহুগুণ। শহরগুলোতে মোমবাতি তৈরি করা এবং বাজারজাত করা খুবই সহজ। মোমবাতি তৈরির জন্য প্রয়োজন পড়ে শুধু মোম ও ছাচের। প্রাথমিক পর্যায়ে এগুলো সংগ্রহ করতে লাগবে ১০-১৫ হাজার টাকার মতো। এরপর তেমন কোনো খরচ নেই বললেই চলে। নির্দিষ্ট একটা লভ্যাংশ রেখে মোমবাতি বাজারজাত করে আপনি আয় করতে পারেন প্রচুর টাকা।

ঘর সাজানোর জিনিস তৈরি করা
আপনার যদি ওয়াল হ্যাঙ্গিং তৈরি করার অভিজ্ঞতা থাকে এবং সুন্দর করে ঘর সাজানোর যোগ্যতা থাকে তাহলে আপনার কারুশৈলী কিছুটা ব্যবসায়িক কাজে লাগাতে পারেন। কম খরচে ঘর সাজানোর জিনিসপত্রের চাহিদা প্রচুর আপনিও এসব জিনিসপত্র তৈরি করে বিক্রি করতে পারেন বিভিন্ন দোকানে। বিভিন্ন রকমের সুন্দর পেন স্ট্যান্ড, মোমবাতি স্ট্যান্ড, মাটির পাত্রে ডিজাইন করতে পারেন। একটু মাথা খাটালেই দেখবেন রোজগারের এ পথটি আপনার সামনে।

উল বোনা
রাজধানীর ঢাকায় শীত আসে যাযাবর পাখির মতো। তবু সেই অস্থায়ী অতিথিকে বরণ করতে নিকটজনদের আপনি রঙচঙে ডিজাইনদার সোয়েটার বুনে দেন ভালোবেসে, বিনে পয়সায়। উলের প্রতি আপনার এ ভালোবাসাকে ব্যবসায় কাজে লাগাতে পারেন। শুধু প্রয়োজন একটি নিটিং মেশিন আর ঘরের বাড়তি জায়গাটুকু। এতে আপনি যেমন পারবেন নিটিং শিখিয়ে আয় করতে, তেমনই পারবেন নিজের ব্যবসা পরিচালনা করে কিছু রোজগার করতে।

ঘরে লাইব্রেরি গড়ে তুলুন

মানুষের বই পড়ার প্রতি আগ্রহ বেড়ে চলছে। বই প্রিয় মানুষের মধ্যে অনেকেরই বই পড়ার প্রতি অসীম আগ্রহ থাকলেও বই কেনার সম্বল নেই। সে সুযোগটিই আপনি নিতে পারেন। এসব সম্বলহীন মানুষের জন্য আপনার বাসায় গড়ে তুলতে পারেন ছোট-খাটো একটি লাইব্রেরি। গল্প, উপন্যাস, নাটক, ম্যাগাজিনসহ বিভিন্ন ধরনের বই আপনার এ প্রাইভেট লাইব্রেরিতে স্থান দিতে পারেন। আসা বইপ্রিয় মানুষের দৈনিক কিংবা মাসিক চাঁদার ব্যবস্থা রাখুন। প্রতিটি বই ধার দেয়ার জন্য একটা সহনশীল বাজেট ধরুন। প্রতিনিয়ত বই বাড়ানোর পাশাপাশি লাইব্রেরিটিকে জনপ্রিয় করে তোলার জন্য টিভিতে বিজ্ঞাপন কিংবা এলাকায় হ্যান্ড বিল বিলি করুন।

কাপড় অ্যামব্রয়ডারি ও ফেব্রিক পেন্টিং
রঙের দুনিয়ায় আপনার অবাধ যাতায়াত। আঁকার হাতটাও খারাপ নয়। অ্যামব্রয়ডারির বিভিন্ন স্টিচও আপনার জানা। শুধু এটুকু পুঁজি করে নেমে পড়তে পারেন বাড়তি আয়ের পথে। প্রথমে নিজের জামা-কাপড় অ্যামব্রয়ডারি বা ফেব্রিক করে নিজেকেই চলন্ত বিজ্ঞাপন হয়ে ঘুরে বেড়ান। নকশা ও রঙের সমন্বয়ে পোশাকগুলো নান্দনিক হলে নিশ্চিন্ত থাকুন বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে অনেক কাজ আসবে।

খেলনা তৈরি
বাড়িতে বসে অবসর সময়েই চলে যেতে পারেন খেলনার রাজ্যে। তৈরি করতে পারেন টেডি বিয়ার, কুকুর, বিড়ালসহ নানা ধরনের খেলনা। এ ব্যাপারে আপনি যদি একটু দÿ হন তবে ভালোই রোজগার করতে পারবেন। খরচ-খরচা একেবারেই কম। খেলনা তৈরি করতে লাগবে কমার্শিয়াল সিউয়িং মেশিন, ফিটিং মেশিন এবং ফোল্ডিং মেশিন। কাঁচামাল হিসেবে লাগবে কাপড়, তুলো, ভলভেট, পুঁতি, সুতো ইত্যাদি।

রান্না শেখানো
রান্না যদি আপনার নেশা হয়। যদি রান্না করে চমকে দিয়ে থাকেন পরিবারের সদস্যদের। তবে এ গুণটিকে হেলায় নষ্ট করবেন না। হতে পারে এ গুনটিই আপনার বাড়তি আয়ের উপায়। আপনার অধিগত বিদ্যাটিকে দেশের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে শুরু করুন রান্না শেখানোর কাস। বাড়ির গ্যাস, ফ্রিজ, বেলেন্ডার, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, টোস্টার এবং বাসনপত্রই হবে আপনার সৈন্য-সামন্ত। প্রচারের জন্য গণমাধ্যমের সাহায্য নিন। সুনাম ছড়ালে রান্নার বই লিখেও রোজগার করতে পারেন।

ঘরেই লন্ড্রি
বাড়িতে যদি কাপড় শুকাতে দেয়ার মতো বড় বারান্দা বা ছাদ এবং ওয়াশিং মেশিন রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে তবে ঘরেই লন্ড্রি খুলুন।ওয়াশিং মেশিন শুরুতেই কিনতে না চাইলে নিজেরটা দিয়েই শুরু করুন। কাজ বাড়লে নতুন মেশিন কিনতে পারেন। ব্র্যান্ড অনুযায়ী মেশিনের দাম পড়বে ৮-১৫ হাজার টাকা। জামা-কাপড় শুকাতে দেয়ার জন্য ছাদে বাঁশ খাটিয়ে নাইলনের দড়ি টাঙালেই চলবে। প্রচারের জন্য হ্যান্ডবিল ছাপিয়ে এলাকায় বিলি করুন।

জুট হ্যান্ডিক্রাফট তৈরি
বর্তমান বাংলাদেশসহ পৃথিবীর সব দেশেই বাড়ছে পাট এবং পাটজাত পন্যের চাহিদা। পাটের তৈরি পার্স, হ্যান্ডব্যাগ, টেবিল ম্যাট, শতরঞ্জির চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। এগুলো তৈরির ছোট-খাটো একটা ইউনিট করতে আপনার বেশি পুঁজির প্রয়োজন নেই। জুট হ্যান্ডিক্রাফট তৈরির জন্য আপনার প্রয়োজন হবে সেলাই মেশিন, কাটিং মেশিন, অ্যামব্রয়ডারি মেশিন, ইন্টার লবিং মেশিন ইত্যাদি।


এস আই শান্ত
দৈনিক যায়যায়দিন-এ বিজনেস এন্ড ক্যারিয়ার পাতার দায়িত্বে নিয়োজিত

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »