আর্কাইভ

ভিয়েনায় আলোর মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মিছিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি,অষ্ট্রিয়া শাখার উদ্দোগে আয়োজিতএই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন,সংগঠনের সহ-সভাপতি আকতার হোসেন,পরিচালনা করেন,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, প্রধান অতিথি ছিলেন, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি-এর জাতীয় কমিটির AU Awamiligসদস্য ও অষ্ট্রিয়া শাখার সভাপতি, মানবাধিকার কর্মী, লেখক এম.নজরুল ইসলাম,বিশেষ অতিথি ছিলেন, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম, বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ অষ্ট্রিয়া ইউনিট কমান্ডের নেতা মুক্তিযোদ্ধা জোবায়ের খান শূর, অষ্ট্রিয়া আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সামছুল ইসলাম,মুক্তিযোদ্ধা মজনু রহমান,সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম কবির,সাংগঠনিক সম্পাদক রুহি দাস সাহা, শিক্ষা সম্পাদক আঃকাদের ভ্থইয়া, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি,অষ্ট্রিয়া শাখার সহ-সভাপতি একেএম সওকত আলী, দপ্তর সম্পাদক দীন ইসলাম,সদস্য সাহাদত হোসেন প্রমুখ।

২৫ মার্চ ‘গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে এবং মুক্তিযুদ্ধসহ সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে সভা চলাকালীন সময় সভা মনচে মোমবাতি জ্বালিয়ে রাখা হয়। যে আলো ঘাতকের চেতনা থেকে হিংসা, বিদ্বেষ ও হানাহানির কালিমা দূর করবে। সভায় প্রধান অথিতির বক্তব্যে এম.নজরুল ইসলাম বলেন,স্বাধীনতার ঘোষণা এবং মুক্তিযুদ্ধের সূচনার মাস এই মার্চ যেমন আনন্দের সেই সঙ্গে বেদনারও। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী নজিরবিহীন গণহত্যা ও ধংসযজ্ঞের মাধ্যমে বাঙ্গালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা অন্‌কুরে বিনাশ করতে চেয়েছিল। তিনি বলেন, ‘৭১-এর ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অতর্কিতে ঝাপিয়ে পড়েছিল ঘুমন্ত,নিরস্ত্র মানুষের ওপর। ঢাকায সর্বপ্রথমে ওরা হামলা করেছিল বিশ্ববিদ্যালযের ছাত্র, অধ্যাপক ও কর্মচারীদের আবাসে এবং ইপিআর ও পুলিশের সদর দফতরে। তারপর তারা ধংস করেছে ঢাকার হিন্দু অধুষষিত এলাকাসমূহ। জানোয়াররা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, অধ্যাপক ও কর্মচারীদের ঘরে ঢুকে হত্যা করেছে। বাজার ও মহল্লা গুলোতে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। আগুন থেকে বাঁচার জন্য মানুষ যখন ঘর থেকে বেরিয়ে এসেছে তখন তাদেরকে মেশিনগানের গুলিতে হত্যা করা হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক মানুষ নিহত হয়েছেন। তারা জানতেও পারেনি কারা কেন তাদের হত্যা করেছে। ‘অপারেশন সার্চ লাইট’এর নামে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী তাদের দোসর রাজাকার গোলাম আজম,নিজামী,সাঈদীগংদের সহায়তায় ২৫ মার্চ রাতে কেবল ঢাকায় পঞ্চাশ/ষাট হাজার বাঙ্গালিকে হত্যা করেছ্‌ে। সেই সময় ঢাকায় অবস্থানরত ‘নিউইয়র্ক টাইমস’-এর প্রতিনিধি সিডনি শ্যানবার্গ, ব্রিটিশ সাংবাদিক সাইমন ড্রিং বলেছেন ২৫ মার্চে ঢাকায় পাকিস্তানী সেনারা যে গণহত্যা করেছে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নাৎসীদের গণহত্যার চেয়েও নৃশংস। তিনি বলেন, গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি গণআন্দোলন গড়ে তুলেছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনার সরকার গণহত্যাকারী ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য ২০১০সালের ২৫ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত’ গঠন করেছেন। এরই মধ্যে চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী নিজামী, মুজাহিদ,সাঈদী,সাকা চৌধুরীসহ বেশ ক’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই গণদুশমনদের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনমত সংগঠিত করার জন্য তিনি স্বাধীনতার পক্ষের সকল প্রবাসী বাঙ্গালিদের কাছে আহ্বান জানান। তিনি বলেন,গণহত্যার বিরুদ্ধে গণসচেতনতা ও গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলতে নিহতদের স্মরণ করতে, গণহত্যাকারীদের বিচারের দাবি করতে, গণহত্যা অবসানের উদ্দোগ নিতে ২৫ মার্চ ‘আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস’হিসেবে ঘোষণার জন্য জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের কাছে আমাদের আহ্বান।
বিশেষ অতিথি খন্দকার হাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার পর স্বাধীনতা বিরোধী, যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসিত করেছিল জে.জিয়া। আজ তার স্ত্রী খালেদা জিয়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার জন্য মরিয়া হয়ে লেগেছেন। সভাপতির বক্তব্যে আকতার হোসেন বলেন, বিএনপি-জামাতের হুমকি-ধমকীসহ কোন ষড়যন্ত্রই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না।

ভিওবিডি, ভিয়েনা – অষ্ট্রিয়া থেকেঃ (মঙ্গলবার ২৯ মার্চ ২০১১, ১৫ চৈত্র ১৪৭১, ২৩ রবিউস সানি আউয়াল ১৪৩২)

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »