আর্কাইভ

ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে মামা খোকনের ক্যাডাররা

আ’লীগ ক্যাডার মামা খোকনের বাহিনী। তার নাম ভাঙ্গিয়ে বরিশালের আন্ডারগ্রাউন্ড পরিচালনা করছেন নাজির পোলের মনা খোকন, কালা ও ডলার শাহীন। অবৈধসব ব্যবসা বানিজ্য করে কামিয়ে নিচ্ছেন প্রতিদিন হাজার হাজার টাকা। এলাকাবাসীর মন্তব্য, মামা খোকনের লোক হিসেবে পরিচিত এসব সন্ত্রাসীরা মামা খোকনের অগোচরে যা করছেন তা ভবিষ্যতে মামা খোকনের জন্য চরম বিপদ জনক হবে। তার মদদপুষ্ট চিহ্নিত সন্ত্রাসীরা নখনও এলাকায় সন্ত্রাস ও মাদকের রাজত্ব পরিচালনা করছেন। নজির মহল্লা এলাকার জেনেরটর রুম খোকন বাহিনীর মাদক বিক্রির কেন্দ্রস্থল। তাদের মাদক বেচাকেনাতে বাধা দেয়ায় সেখানকার কাঠের শ্রমিকদের সাথে খোকন বাহিনীর সঙ্গে মাসখানেক আগে সংঘর্ষ ঘটে। সে সময় শ্রমিকদের পক্ষে ভূমিকা রাখেন সে এলাকার শ্রমিক নেতা নূরে আলম নূরু। এতে সে সময় শ্রমিকদের হাতে গনপিটুনি খায় খোকন বাহিনীর ১ ক্যাডার। ক্ষমতার অপব্যাবহারে সে সময় শ্রমিকদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলা দায়ের করেন খোকন বাহিনীর ক্যাডাররা। উপায়ান্তর না দেখে নেহাত দায় ঠেকে সে সময় অন্যায় জেনেও প্রভাবশালীদের চাপের মুখে কাউন্সিলর মর্ত্তূজা আবেদিন ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করে মধ্যস্থততা করে দেয় প্রায় ২শ শ্রমিকদের সাথে সন্ত্রাসীদের। সেই থেকেই খোকন বাহিনীর ক্যাডাররা টার্গেট করে রাখে নূরুকে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধায় নগরীর জেলখানার মোড়ে হত্যার চেষ্টায় শ্রমিক নেতা নূরে আলম নূরু’র (২৯) উপর। কুপিয়ে মাথায় হাতুরী দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয় তাকে। নূরু নাজির মহল্লা’র বাসিন্দা। বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের মোর সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটানোর পর সন্ত্রাসীরা হত্যার উদ্দেশ্যে ফের হাসপাতাল চত্বরে প্রকাশ্যে মহড়া দিচ্ছে গতকাল থেকে । পুলিশ প্রথমে ঘটনাস্থলে না গেলে বিষয়টি পুলিশ কমিশনার তৌফিক আহমেদকে অভিহিত করা হয়। পরে তার নির্দেশে  ঘন্টাখানেকের মধ্যে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যায়।

বরিশাল সদর হাসপাতালের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন নুরুর পাশে রয়েছেন মা মমতাজ বেগম, বোন আছমা, স্ত্রী লাকী বেগম। তারা আতংকে রয়েছেন। সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের বেডসহ আশপাশে ঘুরছে। মা মমতাজ বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, ওরা আমার ছেলে নূরুকে বাচতে দেবে না।  আমার ছেলেকে ওদের হাত থেকে বাচান। ওরা আমার ছেলেকে মারধর করলে সে থানার অভিযোগ নিয়ে যায়। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ রাখেনি। তিনি আরও জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় নূরু থানা থেকে বের হওয়ার সাথে সাথেই সন্ত্রাসীরা তাকে ও তার ছোট ভাই রুবেলকে পকেটে চাকু ডুকিয়ে থানায় নিয়ে যায়। এবং তাদেরকে ডাকাত বলে প্রমান করার চেষ্টা করে। পুলিশ নূরুর রক্তাক্ত শরীর দেখে প্রথমে তাকে হাসপাতালে ভর্তি হবার পরামর্শ দেয়। সে অনুযায়ী হাসপাতালে ভর্তি হলে পুনরায় সন্ত্রাসীরা তাকে মারার জন্য হাসপাতালের অভ্যান্তরে ডুকেও আমাকে হুমকি দেয়। নূরু নিজের জীবনের নিরাপত্তা পেতে অনুরোধ জানান প্রশাষনের কাছে।

বোন আছমা জানায়, সন্ত্রাসীরা ক্ষমতাধর। তাদের বিরুদ্ধে  মুখ খুলতে অপরগতা প্রকাশ করে  বলছে অশ্র“সিক্ত নয়নে বলেন, ভাই কিছু লিখবেন না ওরা আমার ভাইকে মেরে ফেলবে। আরেক ভাই রুবেলকেও ওরা হত্যা করতে চাচ্ছে।

আহত নূরু জানায়, নাজিরেরপুলের সন্ত্রাসী মনা, মনা খোকন, কালা, ফকর, ডলার শাহীন, রফিক, শাহীন অতর্কিকভাবে জেলখানার মোরে তার উপর হামলা চালায়। মাথায় হাতুড়ি ও ধাড়ালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। এরপর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কোতোয়ালী থানায় যায়। সেখানে গিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করলে কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার তাদেরকে জানিয়েছে আগে চিকিৎসা নেন। এদিকে রাত  পোনে ১০টায় বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি শাহেদুজ্জামান শাহেদ জানান, বিষয়টি এখনই দেখছি।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »