আর্কাইভ

মুফতি হান্নানের জবানবন্দি প্রত্যাহার প্রমাণ করে তারেকসহ রাজনীতিবিদ গ্রেনেড হামলার মামলায় জড়িত নন- মির্জা ফখরুল ইসলাম

খোন্দকার কাওছার হোসেন : মুফতি হান্নানের জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন প্রমাণ করে তারেক রহমানসহ রাজনীতিবিদরা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় জড়িত নন। সরকার রাজনৈতিক প্রতিহিংসায় তাকে (তারেক) জড়িয়েছে। এর মাধ্যমে সরকার ওই মামলার প্রকৃত দোষীদেরও সনাক্ত করতে আগ্রহী নয় বলে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে। আজ বুধবার দুপুরে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এসব কথা বলে সম্পূরক অভিযোগপত্রে গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আর এ গণি, এম কে আনোয়ার, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খান, ড. আব্দুল মঈন খান, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, ভাইস  চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সাদেক হোসেন খোকা, মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফ, সেলিমা রহমান, শমসের মবিন চৌধুরী, যুগ্ম-মহাসচিব আমান উল্লাহ আমান, রুহুল কবীর রিজভী, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক নাজিম উদ্দিন আলম, সহ-তথ্য ও গবেষণা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, মুফতি হান্নানকে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৬৪ ধারায় তার মুখে নাম এনে তারেক রহমানকে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জড়ানো হয়েছে। এসময় তিনি গত মঙ্গলবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর আদালতে হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নান ২০১১ সালে ১৬৪ ধারায় দেয়া তার জবানবন্দি প্রত্যাহারের আবেদন সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে বলেন, ওই মামলার সম্পূরক অভিযোগপত্র মিথ্যা।

মির্জা ফখরুল বলেন, হামলার মূল হোতাদের আড়াল ও বিরোধী দলের ওপর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই মুফতি হান্নানের ওপর জোর জবরদস্তি চালিয়ে ও প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে তারেক রহমানসহ রাজনৈতিক নেতাদের নাম বলানো হয়েছিল। সুতরাং জবানবন্দি প্রত্যাহার আবেদনের পর সরকারের আর কোনো নৈতিক অধিকার নেই এ মামলায় কাউকে আটকে রাখা।

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা রাজনৈতিক হীন উদ্দেশ্য ব্যবহার করা হচ্ছে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ২০০৪ সালে এ ঘটনার পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তৎকালীন বিরোধী দলের নেতা শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তিনি দেখা করতে রাজি হননি। স্কটল্যান্ড থেকে তদন্ত টিম এসেছিল তাদেরকে তদন্ত কাজে সহযোগিতা করা হয়নি। এমনকি শেখ হাসিনার গাড়িটি পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তাদের দেখতে দেয়া হয়নি।
মির্জা ফখরুল বলেন, এ মামলায় বেশ কয়েকববার তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনও তৈরি করা হয়েছে অসংখ্যবার। অবশেষে কট্টর আওয়ামী লীগ পন্থী একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুল কাহার আকন্দকে তদন্ত কমিটির প্রধান করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলাটি স্থানান্তর করে সম্পূরক চার্জশিটে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতাদের নাম জড়ানো হয়েছে।

অবিলম্বে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়ের করা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই মামলা প্রত্যাহার করুন অন্যথায় আবার যখন সময় আসবে তখন এর বিরুদ্ধে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় এ বছরই বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সাবেক রাজনৈতিক সচিব-১ হারিছ চৌধুরীসহ ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দেয় সিআইডি।

মামলার প্রধান আসামি মুফতি আব্দুল হান্নান ১৬৪ ধারায় ইতিপূর্বে দেয়া তার জবানবন্দি প্রত্যাহারের জন্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার আদালতে আবেদন করেন।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »