আর্কাইভ

গৌরনদীতে নিক্ষিপ্ত এসিডে ঝলসে গেছে কিশোরের শরীর

গৌরনদী সংবাদদাতা ॥ বরিশালের গৌরনদী উপজেলার শরিকল ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামে গত বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীদের নিক্ষিপ্ত এসিডে ঝলসে গেছে অসহায় এতিম এক কিশোরের শরীর। কিশোরের আশ্রয়দাতা মোশারফ হোসেনর  অভিযোগ জমা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে তার প্রতিপক্ষরা ঘুমন্ত কিশোরের ওপর এসিড নিক্ষেপ করেছে। এ ব্যাপারে গৌরনদী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

গৃহকর্তার অভিযোগ, পুলিশ ও আহত কিশোরের সাথে কথা বলে জানা গেছে, গৌরনদী উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামের পিতৃ মাতৃহীন সাদ্দাম হোসেন গত ৫ বছর যাবত একই গ্রামের কাড মিস্ত্রী মো. মোশারফ হোসেনের কাছে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করে আসছে। সাদ্দাম হোসেন (১৩) বর্তমানে তার সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিদিনের ন্যায় বৃহস্পতিবার রাতে সাদ্দাম মোশারফ হোসেনের  বসত ঘরের পাশে আলাদা একটি ঘরের মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ে। ওই দিন গভীর রাতে অজ্ঞাতনামা সন্ত্রাসীরা কৌশলে ঘরের জানালা খুলে এসিড ছুড়ে মারে। এতে কিশোর সাদ্দামের মুখমন্ডল ও শরীরের বিভিন্ন স্থান ঝলসে যায়। ওই দিন রাতেই সাদ্দামকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। গৃহকর্তা কাড মিস্ত্রী মো. মোশারফ হোসেন জানান, একই গ্রামের আ. হাকিম সরদার ও মো. দেলোয়ার হোসেন সরদারের সাথে তার জমা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দীর্ঘ দিন থেকে বিরোধ চলে আসছে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিশোর সাদ্দাম আমার চকিতে (খাট) শোয়া ছিল সন্ত্রাসী হাকিম ও দেলোয়ার আমাকে মনে করে এসিড নিক্ষেপ করেছে। নিক্ষিপ্ত এসিডে অসহায় এতিম সাদ্দামের শরীর ঝলসে গেছে। অভিযোগের ব্যাপারে দেলোয়ার ও হাকিমের কাছে জানতে চাইলে তারা জমা জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ থাকার কথা স্বীকার করে বলেন, এসিড নিক্ষেপের সাথে আমাদের কোন সম্পৃক্ততা নাই। এ ব্যাপারে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও সাদ্দামের চিকিৎসক নীহার রঞ্জন বৈদ্যের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এসিড সনাক্ত করার পরীক্ষা আমাদের কাছে নেই। তবে কিশোরের শরীর ঝলসানো ও ক্ষত দেখে ধারনা করা হচ্ছে তার শরীরে এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে। আজ শুক্রবার মো. মোশারফ হোসেন হাকিম ও দেলোয়ারকে  অভিযুক্ত করে গৌরনদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »