আর্কাইভ

কীর্তনখোলার ভাঙ্গনে ছোট হচ্ছে বিসিসির মানচিত্র

শাহীন হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি ॥ নদী ভাঙ্গনে ধীরে ধীরে ছোট হয়ে আসছে সদর উপজেলার ৩নং চরবাড়িয়া ও বিসিসি আওতাধীন বেলতলা এলাকা। নদীগর্ভে হারিয়ে যাচ্ছে শত শত বাড়ি ঘর এবং কল-কারখানা। ভাঙ্গন কবলিতরা বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নিয়েছে। সরেজমিন সূত্রে জানা যায়, বেলতলা খেয়াঘাট এলাকা থেকে লামছড়ি কদমতলা খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ৩ কিলোমিটার নিয়ে গত দু’বছর থেকে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তখন বিসিসি মেয়র এ্যাড. শওকত হোসেন হিরণ বরিশাল সদর আসনের সাংসদ ও মহানগর বিএনপির সভাপতি এ্যাড. মজিবর রহমান সরোয়ার, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা এলজিইডি কর্মকর্তা, ৩নং ইউপি চেয়ারম্যানসহ অনেকে ভাঙ্গন কবলিত স্থান পরিদর্শন করেছিলেন। কিছুদিন পরেই স্থানীয়রা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে এবং এলজিইডি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে স্মারকলিপি প্রেরণ করে। কিছুদিন পর জানা গেছে সরকার ভাঙ্গন এলাকার ব্যবস্থা নিবে। প্রায় দু’বছর পার হলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে সমাধানের কোন পদক্ষেপ নেয়নি।

জানা গেছে, গত বছরও ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার হাজী কাঞ্চন হাওলাদারের ঘর, মিল, সুন্দরবন, ডকইয়ার্ড, সুরভী ডক ইয়ার্ড, আদম আলী হাওলাদারের ফসলী জমি, স্থানীয় চাপরাশী বাড়ির জমি, মৃত হাজী আঃ মজিদ মিয়ার ভাটা, গোল্ড ব্রিকস, লাবু মিয়ার ইটের ভাটা, জি.টি.এল, তোতা মিয়ার স্কুল, মধ্য চরআবদানী জামে মসজিদ, কদমতলা খেয়াঘাটসহ বহু স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হলেও সরকারের কোন দপ্তর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এতে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে ভাঙ্গন কবলিত এলাকার সাধারণ মানুষ। এছাড়া বেলতলা খেয়াঘাট এলাকার ফেরি পারাপারের গ্যাংওয়েও ভেঙ্গে নদীগর্ভে চলে গেছে।

উল্লেখ্য, গত বছর খেয়াঘাট এলাকার প্রায় ১০টি দোকান নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। মিরাজ নামের একজন চা দোকানদার লোন নিয়ে চায়ের ব্যবসা শুরু করেছিল। এ ব্যাপারে দোকানদার মিরাজ জানান, গত বছর দোকান নদীগর্ভে যাওয়ার পর কয়েকজন লোক দেখতে এসেছিল কিন্তু সেই যে গেল এখন পর্যন্ত তাদের দেখা আর পাইনি, স্বমিল মালিক কাঞ্চন হাওলাদার ও অন্যান্য ভুক্তভোগীরা জানায়, পরিবারগুলোর ভূমি নদীগর্ভে বিলীন না হয় সে জন্য সরকারকে দ্রুত ভাঙ্গন প্রতিরোধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভূমিহারা আদম আলী মিয়া জানান, পৈত্রিক সম্পত্তি নদীগর্ভে যাওয়ার পর অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছি। বাকি যে জমি রয়েছে তাও যাওয়ার পথে। কিন্তু এখনো সরকার থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমাদের দুর্ভোগ কি সরকারের চোখে পড়ে না। স্থানীয়দের একটাই দাবি যতটুকু ভেঙ্গেছে এরপর তারা আর ভাঙ্গন দেখতে চায় না।

আরও পড়ুন

আরও দেখুন...
Close
Back to top button
Translate »