আর্কাইভ

নলছিটির চিহ্নিত সন্ত্রাসী সিএনএন মামুন কারাগারে

আহমেদ আবু জাফর, ঝালকাঠি ॥ র‌্যাবের তালিকাভূক্ত নলছিটির সন্ত্রাসী সিএনএন মামুনকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে বরিশার্লে একটি আদালত। মঙ্গলবার বাকেরগঞ্জের পুলিশ তাকে আদালতে পাঠালে জেল হাজেত পাঠানোর আদেশ দেয়।  

রোববার রাতে বাকেরগঞ্জ উপজেলার লেবুখালী থেকে ছিনতাইয়ের প্রস্তুতিকালে সিএনএন মামুন ও ঢাকার চিহ্নিত ছিনতাইকারী সার্জেন্ট আহাদ হত্যা মামলার আসামী আলাউদ্দিনকে আটক করে র‌্যাব-৮। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আটক দুই ছিনতাইকারীকে বাকেরগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে র‌্যাব সদস্যরা । এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানায় একটি ছিনতাই মামলা দায়ের করা হয়।

কে এই সিএনএনমামুন
নলছিটি পৌর এলাকার মালিপুর গ্রামের মাওলানা মকবুল হোসেন’র পুত্র এই সিএনএন মামুন সরকারী দল যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। মাহাজোট ক্ষমতায়  আসার পর একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে বন্দরে ফেনসিডিল ব্যবসাসহ একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে আসছিলো। নারী নির্যাতন, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসীসহ এমন কোন অপরাধ নেই যার সাথে তার সম্পৃক্ততা ছিলোনা। বছর দেড়েক আগে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে উত্যক্ত করার অপরাধে নারী নির্যাতন মামলায় দীর্ঘদিন হাজত বাস করে সে। পরে স্থানীয় সরকার দলীয় কিছু নেতার সহায়তায় ওই মহিলার সাথে বিষয়টি আপোষ করে বেরিয়ে আসে জেল হাজত থেকে। কিন্তু কোন পরিবর্তন হয়নি তার। সে ফিরে আসে তার পূর্ব কর্মে। শুরু করে ফেনসিডিল ব্যবসা ও চাঁদাবাজি।

গত পৌর নির্বাচন চলাকালীন সময়ে  বর্তমান মেয়র মজিবর রহমান’র ভাইকে আটকিয়ে লাঞ্ছিত করে ও চাঁদা আদায় করে বলে নলছিটির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করে। এরপর সে ২০১১ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যু বার্ষিকীর দিন উপজেলা ছাত্রদল সভাপতি আসলাম খানকে বেধড়ক মারধর করে নলছিটির করবাড়ী এলাকায়। এ রকম অপকর্ম হরহামেশা চলছিলো। সবকিছু দেখে জেনেও পুলিশ প্রশাসন ছিলো নিশ্চুপ। অতি সম্প্রতি গত ৩ নভেম্বর  তার চাহিদা মাফিক চাঁদা না দেয়ায় নলছিটি বন্দরের প্রতিষ্ঠিত কাপড় ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন চুন্নুর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ঢুকে তাকে মারধর করে। এ ব্যাপারে গত ৫ নভেম্বর নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ১৬৬ তারিখ ৫নভেম্বর ২০১১ইং। পুলিশ প্রশাসনের সাথে সখ্যতা থাকার কারণে মামলা হওয়ার পরও গত ঈদুল আযহার পরদিন তার বাড়িতে নলছিটি থানার কর্তা ব্যক্তিদের কেউ কেউ দাওয়াত খেয়েছেন বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান মালিপুর এলাকার কয়েকজন।

এ ছাড়া গত ৪ নভেম্বর স্থানীয় সাংবাদিকরা নলছিটির তালতলা গ্রামে চলমান যাত্রার নামে নগ্ন নৃত্যের ছবি তুলতে গেলে সেখানে উপস্থিত নলছিটি থানার এসআই নজরুল ইসলাম ও এসআই আবুল কালাম আযাদ’র উপস্থিতিতেই সাংবাদিকের উপর হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয় এই মামুন বাহিনী। যা ওই রাতেই ঝালকাঠি পুলিশ সুপারকে জানায় সাংবাদিকরা।

গত রবিবার সকাল ১১টায় সিএনএন মামুন ও তার সহযোগী মামুনের একান্ত সহযোগী রুহুল, দপদপিয়ার চিহ্নিত সন্ত্রাসী নূরে আলম ও আরেক চিহ্নিত অপরাধী মনির চৌধূরী নলছিটি বাসষ্ট্যান্ড থেকে ছাত্রদল নেতা জাহিদকে অপহরণ করে টিএন্ডটি ভবনের পাশে রুহুল’র ঘরে তালাবন্ধ করে আটকে রেখে চাঁদা দাবী করে বলে জানান জাহিদ । রুহুলের ঘরে আটকে রেখে তাকে মারধর করে ৪ লক্ষ টাকা দাবী করে। ব্যাপারটি জানাজানি হওয়ার ভয়ে দুপুরের পরে রুহুলের ঘর থেকে জাহিদকে বের করে খাজুরিয়া গ্রামে নিয়ে যায় তারা। সেখানে তার উপড় চালায় অমানুষিক নির্যাতন। এ সময় তারা বলে “মাসুদ খান মেয়র থাকাকালীন যে টাকা আয় করেছে তা তোর কাছে আছে। সেই টাকা আমাদের দিতে হবে।” জাহিদের এ অবস্থা জানার পর তার অত্যন্ত ঘন্ষ্টি দুই বন্ধু সন্ধ্যায় সেখানে ছুটে গিয়ে মামুনকে অনেক অনুনয় বিনয় করে পরদিন সোমবার ১৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে মামুন বাহিনীর হাত থেকে তাকে উদ্ধার করে বলে জানান জাহিদ। ঘটনার পর থেকে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে আত্মগোপনে ছিলো জাহিদ। র‌্যাবের হাতে মামুন আটক’র খবর জানার পর জাহিদ প্রকাশ্যে এসে মোবাইল ফেনে সাংবাদিকদের এ ঘটনার বিবরণ দেন। মামুনের গ্রেফতারে নলছিটির বিভিন্ন মহলে আনন্দ উল্লাস চলছে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »