আর্কাইভ

বিএসটিআই’র রহস্যজনক আচরন

শাহীন হাসান, বিশেষ প্রতিনিধি ॥ বরিশাল নগরীতে ভেজাল বিরোধী অভিযান নামার আগেই খবর চলে যায় দোকানীদের কাছে। অভিযানের গোপন খবর ফাঁস হয়ে যাওয়ায় সতর্ক হয়ে যায় ব্যবসায়ীরা। ফলে ভ্রাম্যমাণ আদালত নগর ঘুরে অভিযান চালালে তাতে কোন সফলতা আসে না। অধিকাংশ মিষ্টির দোকানেই বিক্রি হয়ে পচা ও বাশি মিষ্টি। বেকারীগুলো অপরিচ্ছন্ন, খাবার হোটেলের পিছনে রান্না ঘর ময়লা, আবর্জনা ও দুর্গন্ধে যেন পরিণত হয়েছে ডাস্টবিনে। এছাড়াও নগরীর প্রতিষ্ঠিত দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ পলিথিন। বার বার অভিযান চালানো সত্ত্বেও কোন সংশোধন হয়নি অসাধু এক শ্রেণীর ব্যবসায়ীরা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বরিশাল জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণ এবং বরিশাল সিটি কর্পোরেশন তাদের নিজস্ব ম্যাজিস্ট্রেট দ্বারা প্রায়ই নগরীতে ভেজাল বিরোধী অভিযান চালিয়ে থাকে। যার প্রস্তুতিকালে থানা পুলিশ ও র‌্যাব সদস্যদের সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু বরিশাল বিএসটিআই’কে সাথে নিতে গিয়েই মূলত ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে থাকে। ভেজাল সনাক্ত করতে বিএসটিআই’র একান্ত প্রয়োজন। সে কারণেই অভিযান নগরীতে বের হওয়ার পূর্বে বিসিসি এবং ডিসি অফিস সর্বদা বিএসটিআই ও র‌্যাব অথবা পুলিশকে খবর দিয়ে একত্রিত হয়ে বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে থাকেন। ব্যবসায়ীক একাধিক সূত্র জানিয়েছে, নগরীর এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীদের সাথে বিএসটিআই’র কতিপয় কর্মকর্তাদের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। এ কারণে ভেজাল বিরোধী অভিযান নামার আগেই খবর পেয়ে যায় ঐ সকল ব্যবসায়ীরা। তাই অভিযান চলাকালে এ সকল ব্যবসায়ীদের দোকানে যাওয়া হলেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ হয় না। কারণ আগাম খবর পেয়ে ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে যান। সবকিছু ঠিক ঠাক করে দোকানে চুপসে বসে থাকেন। ঐ সকল দোকানীদের নিকট থেকে প্রতি মাসে বিএসটিআই’র কয়েকজন নগদ টাকা নেয়ার অভিযোগ একে বারে উড়িয়ে দিলেও নানাবিধ সুবিধা দোকান মালিকের নিকট থেকে তারা গ্রহণ করেন তা নিঃসন্দেহে বলা চলে। তবে এসব সিন্ডিকেট দোকানের সংখ্যা নগরীতে খুব একটা বেশি নয়। বাজার রোড, হাটখোলা, সদর রোড, নতুন বাজার, নথুল্লাবাদ, রূপাতলী ও বাংলা বাজার এলাকায় বেশ কয়েকটি দোকানে সম্প্রতি সিটি কর্পোরেশন অভিযান চালিয়ে যৎ সামান্য জরিমানা করলেও একাধিক বেকারী এবং হোটেল রেস্টুরেন্ট, কনফেকশনারী আর মিষ্টি দোকানগুলো বিএসটিআই’র সাথে তাল মিলিয়ে অধিকাংশরাই পার পেয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »