আর্কাইভ

দপ্তর বন্টন জটিলতায় সুরঞ্জিত ও ওবায়দুল

আহমেদ জালাল, বিশেষ প্রতিনিধিঃ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ও দলের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য ওবায়দুল কাদের এখনও দপ্তর বিহীন রয়েছেন। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেয়ার দু’দিন পেরিয়ে গেছে। কে কোন দপ্তরে দ্বায়িত্ব পালন করবেন তা অনিশ্চিত। যদিও শীগগির-ই জটিলতার অবসান ঘটিয়ে দপ্তর বন্টন করার আভাস মিলেছে।

শপথ নেয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এবং ওবায়দুল কাদেরকে তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। কিন্তু সংসদ বিষয়ক নতুন মন্ত্রণালয় করার ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ এবং প্রধানমন্ত্র¿ীর সংস্থাপন বিষয়ক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তাঁদের মধ্যে আইনি জটিলতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পাশাপাশি ওবায়দুল কাদের তথ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিতে আগ্রহী নন। দেশবাসীকে দেয়া সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্র“তি পূরনে তিনি কাজ করে নিজের স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার মাপকাঠি তুলে ধরতে চান। এক্ষেত্রে তিনি এমন একটি দপ্তর চান যেটা মাচ পীপলের সঙ্গে  গভীরভাবে রিলেটেড। মানুষের প্রত্যাশা পুরনে সঠিকভাবে তিনি কাজ করে এগুতে চান। প্রধানমন্ত্রীও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে নিয়েছেন বলে সূত্র দাবী করছে। ফলে সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন করে চিন্তা ভাবনা করছে।

যতদূর জানা যায়, সংবিধানের ৭৯ অনুচ্ছেদ অনুসারে সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠনে আইনি জটিলতা দেখা দিয়েছে। সংবিধানের ৭৯ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘সংসদ কর্তৃক বিধান প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকারের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীদের নিয়োগ ও কর্মের শর্তসমূহ নির্ধারণ করিয়া বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবেন এবং অনুরূপভাবে প্রনীত বিধিসমূহ যে কোনো আইনের বিধান সাপেক্ষে কার্যকর হইবে।’ সংবিধানের এই ধারা অনুসারে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় করতে হলে নতুন আইন করতে হবে। কারণ, সংবিধান অনুসারে স্পিকারের সার্বভৌম ক্ষমতা থাকায় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাঁর অধীন। নির্বাহী বিভাগের আওতায় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা থাকতে পারেন না। এদিকে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত মন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা উপদেষ্টা ছিলেন। ওবায়দুল কাদের ছিলেন যুব, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে।

উল্লেখ্য সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত ও ওবায়দুল কাদের মন্ত্রী হওয়ার আগে বলেছিলেন, আওয়ামীলীগের কয়েক জন নেতার পদত্যাগ ও মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজানো নিয়ে নানা গুজব সক্রিয়ভাবে কাজ করছে রাজনৈতিক মহলে। সরকারের তিন বছরের মাথায় দলের মধ্য থেকেও আওয়াজ উঠে মন্ত্রিসভা ঢেলে সাজানোর জন্য। এ বিষয়ে অনেকেই কানাঘুঁষা করলেও দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জানিয়েছিলেন, সময় হয়েছে মন্ত্রীসভা পুনঃমূল্যায়নের। ওবায়দুল কাদের এমপি বলেছিলেন, আমি দলের সমালোচনা করি। তার মানে এটা মনে করবেন না যে, আমি প্রধানমন্ত্রীর তোতাপাখি কিংবা মন্ত্রিত্ব পাওয়ার আশায় আমি এত কথা বলি।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »