আর্কাইভ

নগরীতে ইভটিজারদের পুলিশের রেড এলার্ট

বরিশাল সংবাদদাতাঃ বরিশাল নগরীতে পুলিশের সপ্তাহব্যাপী শুরু হওয়া ইভটিজার ধরপাকড় অভিযানে চার ইভটিজার আটক হয়েছে পুলিশের হাতে। গতকাল বরিশাল নগরীর ইসলামিয়া কলেজের সামনে থেকে আটক চার ইভটিজারকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত। বরিশাল সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (সদর) আদালতে হাজির করা হলে বিচারক আবুল বাশার মিয়া ৪ জনকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আটককৃতরা হলো- ইসলামিয়া কলেজ এলাকার আবুল কালাম আজাদ এর ছেলে ফরহাদ হোসেন, তালতলী এলাকার মো. ফরহাদ হোসেন, গাউয়াসার এলাকার আ. রশিদ খানের পুত্র আরিফ ও পথচারী সিনেটারী মিস্ত্রি লামছড়ি এলাকার হাবিবুর রহমান। আদালতে দেয়া পুলিশ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় দুপুর সোয়া ১২টার সময় কাউনিয়া থানার এসআই মুকুল সঙ্গীয় ফোর্সসহ ইভটিজিং বিরোধী অভিযান চালায়। এ সময় কলেজ গামী ছাত্রীদেরকে কটূক্তি ও অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি করার সময় ৪ জনকে আটক করে।

জানা যায়, স্কুল শিক্ষক জিন্নাত আলী হত্যা হওয়ার পর বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ নগরীর স্কুল-কলেজগুলোর সামনে ইভটিজার আটক অভিযান জোরদা করে। প্রায় এক সপ্তাহ আগে এই ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে মাঠে নামে পুলিশ প্রশাসন। এর প্রেক্ষিতে গতকাল নগরীর বিশেষ কিছু স্পট থেকে ২৫ জন ইভটিজার আটক করেছে পুলিশ প্রশাসন। গত ২৫ নভেম্বর ইভটিজার রূপমের হাতে নিহত হয় শিক্ষক জিন্নাত আলী। দু’মাসের মধ্যে ৩ জন শিক্ষক ইভটিজারদের হাতে নিহত হয়। তারই প্রেক্ষিতে ইভটিজারদরে হাতেনাতে ধরার জন্য স্কুল-কলেজ, কোচিং সেন্টার সহ নগরীর বিনোদন স্পট গুলোতে দৃষ্টি রাখছেন পুলিশ প্রশাসন। ৩/৪ জন ছেলে এক সাথে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলেই তাদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। নগরীর কিছু অলিগলিতে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। সূত্র জানায়, ইভটিজিং প্রতিরোধে সপ্তাহব্যাপী অভিযান শুরু হলেও নগরীতে থামেনি ইভটিজিং। এটা যেন ভাইরাস আকারে ধারণ করেছে নগরীতে।

নগরীর সচেতন মহল মনে করেন, আজকাল স্কুল-কলেজের ছেলেমেয়েরা, রোমিও-জুলেয়েট সেজে প্রেম করছে। প্রেমের সময় জাত, ধর্ম, কিছু বিচার করছে না তারা। কিন্তু যখন এগুলো খুঁজতে যায় তখন আর ফেরার পথ থাকে না। ফিরতে গেলে প্রেমিক হয় ইভটেজার। আর এই ইভটিজারের হাতে খুন হতে হয় শিক্ষক, বাবা, মা, যুবক, কিশোরী এমনকি ছোট শিশুকেও। নগরীর ইভটিজাররা কৌশলে মোবাইলে নাম্বার জোগাড় করে ফোনে ইভটিজিং করছে আজ কাল। শুধু ছাত্রীরাই নয়; ইভটিজিং এর শিকার হচ্ছে নানা বয়সের নারীরা। ইভটিজিং-এ শিকার হয়ে আত্মহত্যার পথ বেঁচে নিয়েছে অনেকে। নগরীর বিনোদন স্পট গুলোতে গেলেও দেখা যায়, ইভটিজারদের কাণ্ড। তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে এক হয়েছে দুই থানার ওসি মো. শাহিদুজ্জামান ও মো. রফিকুল ইসলাম। এ কারণে কোতয়ালী থানা ও কাউনিয়া থানা এলাকার স্কুল-কলেজ, বিনোদন স্পট সহ নগরীর বিভিন্ন এলাকাগুলোতে সাদা পোশাকসহ প্রশাসনের লোকজন কঠোর পাহারায় থাকবে বলে থানা সূত্র জানায়। এ সময় কোন বখাটেকে ইভটিজিং করতে দেখলে আটক করা হবে। এদের সুপারিশে কোন ব্যক্তি গেলে তাদেরকেও আটক করবে থানা পুলিশ। জানা যায়, শুধুমাত্র থানা, পুলিশ নয়, র‌্যাব ডিবি সহ সকল প্রশাসনের লোক ইভটিজিং প্রতিরোধ করতে এক হয়ে মাঠে নেমেছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »