আর্কাইভ

২০১১’র বছর জুড়ে কালকিনির আলোচিত ঘটনা

মোঃ বিল্লাল হোসেন, কালকিনি ॥ স্বাগতম ২০১২। পুরনো থেকে শিক্ষা নিয়ে শুরু হল নতুন বছরের পথচলা। ২০১১ সাল কখনো সুসংবাদ আবার কখনো দুঃসংবাদ বয়ে এনেছে কালকিনিবাসীর জন্য। কেউবা আবার তার কীর্তির জন্য আলোচিত ও সমালোচিত হয়েছেন একাধিকবার। চায়ের টেবিল থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস পাড়া পর্যন্ত কয়েকটি ঘটনা ‘টক অব দ্য উপজেলা’ তে পরিণত হয়েছিল সদ্য বিদায়ী এই বছরে।

২০১১সালের বছরের শুরুতেই আলোচিত ছিল পৌরসভা নির্বাচন। ১৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী প্রবীণ রাজনৈতিক নেতা খায়রুল আলম খোকন বেপারীকে পরাজিত করে একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী তরুণ উদীয়মান যুবলীগ নেতা এনায়েত হোসেন তাক লাগিয়ে দেন। এর মাধ্যমে ১৯৯২ সাল থেকে শুরু হওয়া প্রত্যেকটি নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী জয়ী হওয়ার যে ধারাবাহিকতা ছিল তা ভেঙে যায়। উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুজ্জামান শাহিনসহ কয়েক নেতা এনায়েত হোসেনকে গোপনে সমর্থণ দেয়ার অভিযোগে বহিস্কার হওয়ার ঘটনটি ছিল ব্যাপক আলোচিত। ইউএনও হিসেবে শাহ রিয়াজ ও থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে একেএম শাহীন মন্ডল যোগদানের পরে প্রথমবারের মতো এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন ১৪ এপ্রিল। এ দিন বৈশাখী র‌্যালীতে মেয়েদের শরীরে ময়দা মিশ্রিত রং ছুঁড়ে মারাকে কেন্দ্র করে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় কলেজ ক্যাম্পাসে ৮টি বোমা বিস্ফোরিত হয়। এক পর্যায়ে থানার এসআই আশফাক, আজিজ ও ফায়েকুজ্জামান চর ঝাউতলা গ্রামে গিয়ে তান্ডব চালায়। মধ্যযুগীয় কায়দায় নিরীহ গ্রামবাসীর উপর পুলিশী হামালায় আহত হয় কালকিনি শ্রমিক ইউনিয়ন ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আবুল বেপারীসহ ৩০জন। এ ঘটনায় ইউএনও শাহরিয়াজ ও ওসি শাহীন মন্ডল আহতদের দেখতে গিয়ে এলাকাবাসীর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন। পরেরদিন পুলিশের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

কালকিনিবাসীর প্রত্যাশার প্রাপ্তির দিন ছিল ১৪মে। এদিন সৈয়দ আবুল হোসেন কালকিনি-কুলপদ্দি সড়ক, কালকিনি-ভূরঘাটা সড়ক ও আড়িয়াল খাঁ নদের উপর বহুল প্রত্যাশিত খাসের হাট সেতুর ভিত্তি প্রতর স্থাপন এবং কালকিনি সৈয়দ আবুল হোসেন একাডেমী, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নবনির্মিত ভবন, খাসের হাট শহীদ মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম বীর বিক্রম সড়ক ও খাসের হাট মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর উদ্বোধন করেন।

১৯ জুন অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিভিন্ন ইউপিতে আওয়ামীলীগ নেতাদের পরাজয়ের কারণ ছিল বিশেষ কোন এক জনপ্রতিনিধির উপর ভোটারদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এ নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে উপজেলার সর্বত্র। যোগাযোগমন্ত্রণালয় থেকে সৈয়দ আবুল হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়ার বিষয়টিও ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের মধ্যে থানার অফিসার ইনচার্জ একেএম শাহীন মন্ডল বছর জুড়ে সমালোচিত ছিলেন। আইনশৃংখলা পরিস্তিতি তিনি কখনোই স্বাভাবিক রাখতে পারেননি। ২০১১সালে তার সময়ে ১০মাসের মধ্যে ১০টি গুপ্তহত্যাসহ প্রায় ২৫টি খুনের ঘটনা ঘটেছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

আরও দেখুন...
Close
Back to top button
Translate »