আর্কাইভ

ঘটনাবহুল ২০১১ – বছর জুড়ে সাফল্য এবং ব্যর্থতায় ভরপুর ছিল বরিশালের আগৈলঝাড়া

খোন্দকার কাওছার হোসেন / মোঃ ফেরদৌস মোল্লা বাবু, আগৈলঝাড়া ॥  রাজনৈতিক ও সামাজিক একাধিক আলোচিত ঘটনার কারণে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা ২০১১ সাল ছিল ঘটনাবহুল বছর। সাফল্য এবং ব্যর্থতা দুয়েই ভরপুর ছিল বছর জুড়ে।

আলোচিত সকল ঘটনাবলীর মধ্যে ছিল স্বাধীনতার ৩৯ বছর পর প্রশাসন কর্তৃক যুদ্ধাপরাধীর তালিকা প্রকাশ, ২০০১ সালের নির্বাচনোত্তর সংখ্যালঘু নির্যাতন ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ, কলেজ ছাত্রীর যৌণ হয়রানীর ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের তদন্ত কমিশনের এলাকা পরিদর্শন, বখাটে কর্তৃক স্কুল শিক্ষিকা শারমিন হত্যা ছিল আলোচিত ঘটনার মধ্যে অন্যতম।

আগৈলঝাড়া থানায় রেকর্ডকৃত মামলার তথ্যসূত্রে জানাগেছে, উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে খুন, ধর্ষণ, ডাকাতি, চুরি, যৌন হয়রানী, নারী নির্যাতন, ইভটিজিং, অপহরণ, মাদক দ্রব্য বহন, হামলাসহ বিভিন্ন অসামজিক ঘটনায় ১শ ৪৯টি মামলা দায়ের হয়।

এছাড়া ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে মাদকদ্রব্য সহ আটক ও যৌন হয়রানীর ঘটনায় পৃথক ৯টি মামলায় বিভিন্ন ব্যক্তিকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়া হয়।

থানার রেকর্ডকৃত তথ্য মতে, ২০১১ সালে ২টি খুন, ৫টি ধর্ষন, ২টি ডাকাতি, ৪টি যৌন হয়রানী, ৪টি অপহরণ, ১টি বিস্ফোরক দ্রব্য আইন, ২টি সরকারী চোরাই মালামাল উদ্ধার, ৫টি মাদক, ১টি অশ্লীল সিডি উদ্ধার, ৮ টি যৌতুক নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা এ মামলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। অধিকাংশ মামলায় আসামী গ্রেপ্তার করে তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে বলে থানাসূত্রে জানাগেছে। বর্তমানে ২২টি মামলা তদন্তের অপেক্ষায় রয়েছে।

উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলীর মধ্যে রয়েছে, স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন কর্তৃক ’৭১ এর হত্যাযজ্ঞ, ধর্ষণ, লুণ্ঠন, জমি দখলসহ মানবতা বিরোধী যুদ্ধাপরাধীর তালিকা তৈরী করা। প্রশাসনের ওই তালিকায় আগৈলঝাড়ায় মাত্র ১৩ যুদ্ধাপরাধীর নাম স্থান পেয়েছে। এদের মধ্যে রাজাকার ৭জন, পিচ কমিটির ৩জন, জামাতের ২জন ও আলবদরের ১জনের নাম রয়েছে। তালিকাভূক্তদের মধ্যে ৬ জন জীবিত ও ৭ জন মৃত ব্যক্তির নাম অন্তর্ভূক্ত  রয়েছে।

২০০১ সালে আগৈলঝাড়ায় নির্বাচনোত্তর সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনায় গত ১ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের প্রতিবেদনে সাবেক সাংসদ জহিরউদ্দিন স্বপন সহ আগৈলঝাড়ার ৮শ ৩০ জন জোট সরকারের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে মানবতার বিরুদ্ধে গঠিত অপরাধ তদন্ত কমিশনের রিপোর্টে প্রকাশ, বরিশাল বিভাগ জুড়ে অপর আলোচিত ঘটনাটি ছিল ১২ অক্টোবর পূর্ব সুজনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা শারমিন হত্যাকান্ড রয়েছে।

ওএমএস এর চাল পাচারকালে উপজেলা কৃষকলীগ সম্পাদক ও ব্যবসায়ী হান্নান মোল্লা এবং মান্নান গ্রেপ্তার হয়। ৮এপ্রিল থানায় মামলা। ১০ এপ্রিল আগৈলঝাড়া পয়সার হাট সোনালী ব্যাংক থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকার চেক জালিয়াতির ঘটনায় ৬ জনকে আটক করে পুলিশ। ১৩ এপ্রিল অপহরণের ১২ ঘন্টা পর ৪ স্কুল ছাত্রী উদ্ধার হয়। ১৭ এপ্রিল মোহনকাঠী গ্রামের দুই মেয়েকে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা দায়ের। ২ মে  রাজিহার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রী অপহরণ এর ঘটনায় মামলা দায়ের।

৭ জুন রত্নপুর ইউনিয়নের বারপাইকা গ্রামের ঝর্না বাড়ৈ (৪৫) নিখোঁজ হয়। ৪ দিন পর পুকুর থেকে ঝর্নার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৬ জুন আগৈলঝাড়ায় যৌতুকের বলি দু’সন্তানের জননী শিপ্রা রায়। ১৪ আগষ্ট রাজিহারে কাজীর গ্রামে সুমন সরদার ও রহিম হাওলাদার তাদের বন্ধুদের হাতে পার্শ্ববর্তী মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের খিলগ্রামে খুন করে মোটর সাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে পুলিশ আসামীদের গ্রেফতার করে।

২০ আগষ্ট উপজেলা বিএনপির কমিটি বিলুপ্ত করে আবুল হোসেন লাল্টুকে আহ্বায়ক ও শাহ মো: বক্তিয়ারকে যুগ্ম আহ্বায়ক করে ৩১ সদস্য বিশিষ্ট আগৈলঝাড়া উপজেলা আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। পরে বাতিল হওয়া কমিটির নেতারা আদালতের আশ্রয় নেয়। পরে ৯ অক্টোবর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফকরুল ইসলাম আলমগীরের নির্দেশে যুগ্ম মহাসচিব ও দপ্তরের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত সম্পাদক এ্যাড. রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পত্রে আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়।

১১ মে গৈলায় ডাক্তার দেখাতে এসে ঢাকার কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্রী অপহরণ হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর ব্লাক মেইল করে নিমারপাড় গ্রামের গৃহ শিক্ষক নিকুঞ্জ মধু  নিজ স্ত্রীকে দিয়ে পর্ণো সিডি তৈরি করে বাজারজাত করনের খবরে এলাকায় ব্যাপক তোলপার সৃষ্টি হয়। এঘটনায় ২ জনকে আটক করে পুলিশ। ১৬ নভেম্বর আগৈলঝাড়ায় ইউএনওর দীপংকর বিশ্বাসের বিরুদ্ধে উপজেলা সদরের বিএইচপি একাডেমীতে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, দূর্নীতি,অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে ওই স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য পরেশ চন্দ্র রায় বরিশাল আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ৭ দিন পর পরেশ মামলা প্রত্যাহার করে নেয়।

৬ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর শিক্ষিকা শারমিন হত্যা মামলায় আবুলকে একমাত্র অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে আগৈলঝাড়া পুলিশ। আগৈলঝাড়ায় আলোচিত শিক্ষিকা শারমিন হত্যা ঘটনায় শারমিনের পরিবারের অভিযোগ ও বিভিন্ন ব্যক্তির বরাতে গৌরনদী, আগৈলঝাড়া ও জেলা শহর বরিশাল এর সংবাদ কর্মীরা বিভিন্ন পত্রিকায় প্রভাবশালী যুবলীগনেতার নাম উল্লেখ করে সংবাদ পরিবেশন করায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপংকর বিশ্বাসের সভাপতিত্বে ২৩ অক্টোবর উপজেলা আইন শৃংখলা সভায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অশালিন মন্তব্যের মাধ্যমে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জসিম সরদার।

২১ অক্টোবর বেলুহার গ্রামে নাতির হাতে দাদী খুন হয়। ১২ এপ্রিল আস্কর গ্রামের এক স্কুল ছাত্রী, ১৭ এপ্রিল রত্নপুরের চাপাচুপা গ্রামে সহোদর ২ বোন, ৩ মে গৈলার বড়ইতলা গ্রামে অষ্টম শ্রেনীর ছাত্রীকে ধর্ষণ করা হয়।

২৫ আগষ্ট মুড়িহার গ্রামে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক মামলা করায় ভাসুর ও তার সহযোগীদের নিয়ে ছোট ভাইর স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। ৬ জানুয়ারী উপজেলা সদরের বাজার থেকে ২৪ বোতল স্প্রিট উদ্ধার হওয়ার ঘটনায ১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

৬ সেপ্টেম্বর আগৈলঝাড়ায় উপজেলার পয়সারহাট গ্রামের আ: রব মিয়ার ছেলে মাদক সম্রাট ঝন্টু মিয়াকে ২ কেজি গাঁজা ও ৮০ পিস ইয়াবা বিক্রির সময় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

৬ অক্টোবর  গৈলা বাজার থেকে পুলিশ স্কটল্যান্ডের তৈরী এইসএআইজি গোল্ড লেবেল বিদেশী মদ ও ৬ বোতল হ্যানিকেন বিয়ার সহ বাশাইল গ্রামের মকবুল হোসেন মোল্লার ছেলে রিয়াজ হোসেন (৩০) কে তার অপর দুই সহযোগীসহ গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »