আর্কাইভ

গুপ্ত হত্যা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মৎসভোজের আমন্ত্রণ

শামীমা বিনতে রহমান ॥ যাত্রাবাড়িতে প্লাস্টিক কারখানার শ্রমিক ফারুক হোসেন ৩১ অগাস্ট বিকাল ৪ টা পর্যন্ত জানতেনই না তার ছোট ছেলে ১৮ বছর বয়সী মিজানুর রহমান, যাকে মিজান নামেই ডেকে থাকেন তিনি; গুম হয়ে গেছে।শামীমা বিনতে রহমান দয়াগঞ্জে বড় ভাইয়ের সাথে যে ওয়েল্ডিংয়ের দোকানে কাজ করতো মিজান, তার কাছে স্থানীয় এক হাসপাতালের সামনে সকাল ৯টায় সাদা পোশাকধারী কয়েকজন তাকে পিটিয়ে সাদা গাড়িতে করে উঠিয়ে নিয়ে চলে যায়। বিকাল ৪ টায় ফারুক হোসেন এক অপরিচিত মোবাইল ফোন নম্বর থেকে জানতে পারেন, ডিটেক্টিভ ব্রাঞ্চ বা ডিবি বা গোয়েন্দা বিভাগের সাদা রঙের পোশাক পরা লোকেরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। বাবা ফারুক হোসেন গেন্ডারিয়া, কোতোয়ালি সব থানায় ঘুরে কোন খোঁজ না পেয়ে শেষে সরাসরি গেলেন ডিবির কার্যালয়ে। ওখান থেকে তাকে জানানো হয়, তারা এসব কিছু জানেন না। ফারুক হোসেন এসব যখন বলছিলেন, তখন তার পরনের সাদা শার্টের কলারে আর্তনাদপূর্ণ অভাবগ্রস্থ চোখ থেকে পানি গড়িয়ে পড়লো। ‘ আমি তো পাগল হয়া গেছিলাম। ক্যান আমার ছেলেরে, কারা ধইরা নিলো! পাগল হয়া খানা-দানা বন্ধ কইরা এইহানে যাই, সেইহানে যাই। যারা ধইরা নিতে দ্যাখছে তাদের জিগাই, কেউ কয়, কেউ কয় না। ভয়ে। পরে ৭ দিন পর খবরের কাগজে দেখলাম, পুবাইলে দুইডা লাশ পাওন গেছে। যাইয়া দেখি, একটা আমার কইলজার টুকরা মিজান।’ ফারুক হোসেন কাঁদতে থাকলেন। দয়াগঞ্জের যেখান থেকে মিজানকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, সেখানে রাস্তার এক কোনে, অসংখ্য মানুষের হাঁটা চলার মধ্যে কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন, ‘কারা নিলো, ক্যান নিলো, কোন তথ্যই পাইলাম না।’

প্রিয় পাঠক, এই ২০১১ সালে সবচে ভয়াবহ ঘটনা এটাই, সন্তান, ভাই, বাবা হারিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু পরিবারগুলো কোন তথ্যই পাচ্ছে না। আ্যক্টিভিস্টদের অনেক আন্দোলনের ফলে একটি তথ্য অধিকার আইন হয়েছে। আর পরিবারগুলো দিশেহারার মতো ঘুরে বেড়াচ্ছে, কোথায় হারিয়ে গেল প্রিয় মুখ, কেন, কারা, কিসের জন্য–কোন তথ্য নাই।

মানবাধিকার সংগঠন এবং আইন ও সালিস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ি, ফারুক হোসেনের মতো এরকম উদভ্রান্ত হয়ে সন্তান, স্বজনকে খুঁজে পান নি ৫০টি পরিবার, এই বছর। আর এদের মধ্যেই লাশ খুঁজে পেয়েছে ১৫টি পরিবার। আইন ও সালিস কেন্দ্রের আরেকটা তথ্য হলো, এই ২০১১ সালেই র‌্যাবের ক্রস ফায়ারে হত্যার সংখ্যা কমে এসেছে অন্যান্য বছরের তুলনায়। ৩৫ জনে এসে নেমেছে। এটা খুবই আশার কথা। কিন্তু গুম ও গুপ্তহত্যার নিরাশাজনক সংবাদ এই আশাকে ম্লান করে দিয়েছে।

গুম এবং এরপর লাশ পাওয়া যাওয়া নিয়ে গণমাধ্যমগুলোতে যে খবরগুলো এসেছে, তার সবগুলাতেই বর্ননা প্রায় একই রকম। বাড়ি থেকে, দোকান থেকে, রাস্তা থেকে, গলি থেকে সাদা পোশাক পরা, নিজেদের আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য হিসাবে পরিচয় দিয়ে সাদা মাইক্রোবাসে চড়িয়ে উধাও। এরপর গলিতে গলিতে, বাড়িতে বাড়িতে ফিসফিস আলাপ। নিজেরা নিজেরা কথা বলেন। জোরে বললে, যদি ধরে নিয়ে যায়। গলিতে সাদা মাইক্রোবাস দেখলেই এখন আ্যাড্রোনাল গ্রন্থির নি:সরণ বেড়ে যায় ভয়াবহ। মানে এখন এক ভয়াবহ আতঙ্ক, ভয়, সাদা পোশাক ধরে নিয়ে মেরে ফেলবে, লাশটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না–এমন গা ভারী, ঠান্ডা হয়ে আসা অনুভূতি কাজ করছে।

গুম হওয়া ঘটনার অভিজ্ঞতায় পড়া পরিবারগুলোর থানা এবং মানবাধিকার কমিশনে দেয়া অভিযোগ থেকে দেখা গেছে, সবচে বেশি নাম এসেছে র‌্যাবের। র‌্যাব পরিচয় দিয়ে ধরে নিয়ে গেছে, এমন সংখ্যা ২৭। লক্ষ্য করুন, প্রিয় পাঠক, ২০১১ সালে র‌্যাবের হাতে ক্রস ফায়ারে খুন হয়েছে ৩৫ জন। ঝালকাঠির নিরীহ তরুণ লিমনের পায়ে গুলি করার পর গণমাধ্যম র‌্যাবের ভূমিকা নিয়ে এতো প্রশ্ন তোলে যে, খারাপ মানুষ মেরে ফেলে মধ্যবিত্ত আর উচ্চবিত্তের যে আরাম দিতে পারায় নিজেদের ত্রাতা হিসাবে দাবি করছিলেন, তাতে এখন বেকায়দা অবস্থা তৈরি হয় তাদের। বছরের শুরুতে বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলমকে উধাও করে ফেলবার পরও র‌্যাব এমন কোনঠাসা অবস্থায় পড়ে নি। লক্ষ্য করুন পাঠক, লিমনের ঘটনার পর থেকে ক্রস ফায়ারে হত্যার খবর কমে আসতে থাকে, বাড়তে থাকে গুমের খবর। অর্ন্তধান, উধাও, গুম, গুপ্ত হত্যা–এসব শব্দ বছরের শেষ ছয় মাসে অনেক বেশিবার উচ্চারিত শব্দে রূপ নিতে থাকে। র‌্যাবের মহাপরিচালক হাসান মাহমুদ খন্দকার বলেছেন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাম পরিচয় ব্যবহার করে অপরাধীরা এসব কাজ করে বেড়াচ্ছে। র‌্যাব মহাপরিচালক সাহেব, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নাম ব্যবহারকারীরা কি এতই সংগঠিত আর শক্তিশালী যে, তাদের আপনারা খুঁজে পাচ্ছেন না? তাইলে আর আপনারা এলিট ফোর্স, বিশেষ বাহিনী হিসাবে আছেন ক্যানো? আপনাদের আরেক সদস্য যাকে টেলিভিশন খুললেই দেখা যায়, মিডিয়া এন্ড লিগ্যাল উইংয়ের পরিচালক, নভেম্বর মাসে শিশু একাডেমিতে বিশ্ব মানবাধিকার দিবসের এক অনুষ্ঠানে গিয়ে নিজেকে মানবাধিকার কর্মী হিসাবে দাবি করে বললেন, আপনারা মিডিয়ায় আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করবেন না। র‌্যাব যে ভালো কাজ করে, খারাপ মানুষের শত্রু আর ভালো মানুষের বন্ধু তা তুলে ধরুন। অনেকেই মনে করে থাকেন, ক্রস ফায়ারে মৃত্যুর ঘটনা ঢাকবার জন্য র‌্যাবই এখন গুম করছে। মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের কথাই বলি। ড. মিজানুর রহমানকে গুম, গুপ্ত হত্যা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, ‘মানবাধিকার কমিশনে আসা অভিযোগ, যেইভাবে ধরে নিয়ে যায়-পিটিয়ে, মুখে স্কচটেপ লাগিয়ে, কালো কাপড় দিয়ে চোখ বেঁধে; এসব ধরণ থেকে র‌্যাবের কাজ বলেই ধারণা করা যায়।’

গুম, গুপ্ত হত্যা নতুন কিছু নয়। অবশ্য আমার কাছে, পুরা অনুভূতিটাই নতুন। ভয়াবহ। কিন্তু আমাদের বাবা-মাদের জেনারেশনে এটা নতুন কিছু নয়। স্বাধীনতার পর নির্বিচারে হত্যা করা হয়েছে জাসদের অসংখ্য কর্মীকে। সর্বহারা পার্টির প্রধান, মাওইস্ট সিরাজ শিকদারকেও বিচার-বহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু সেসবতো রাজনৈতিক পার্টির বিষয়-আশয় ছিল। পুরান ঢাকার দয়াগঞ্জে ১৮ বছরের মিজান বা কাছাকাছি বয়সি একই সময়ে ধরে নেয়া জুয়েল–এরা তো কোন রাজনৈতিক দলই করে না। এদের বিরুদ্ধে থানায়ও কোন মামলা নাই। তাহলে, কেন? গুম হওয়াদের অনেকের সম্পর্কে জাতীয় দৈনিকে খবর পরিবেশনের সময় শেষ দিকে এসে একটা প্রোফাইল দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। প্রথম আলো থেকে শুরু করে অন্যান্য জাতীয় দৈনিকে। যেমন: জ্বীনের ব্যবসার মধ্য দিয়ে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নিতো বা অন্যান্য নানান প্রতারণা করতো। গুম হওয়া কারো কারো সম্পর্কে এরকম বর্ণনা থাকায় আবার দৈনিকগুলা র‌্যাবের ‘খারাপ মানুষ মেরে ফেলে ভালো কাজই করছি’ টাইপ যে প্রজেকশন, তাই-ই প্রমোট করেছে। গুম হওয়াদের এসব পরিচয় প্রকাশ করায়, যেন মধ্যবিত্তের বুকের ভেতর যে ভয়ের ভারী পাথর ছিল, তা নেমে খানিকটা স্বস্থি দিয়েছে। আমি নিজে কথা বলে দেখেছি, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বড় চাকরিজীবী আমাকে প্রশ্ন করেছেন, ‘যাদের গুম করা হচ্ছে, ওরা তো প্রতারণা করে, প্রতারণার ব্যবসা করে–মেরে ফেলে ভালোই তো হৈছে।’ অপরাধ করে থাকলেও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বৈধতা দেয়াকে যে কোনভাবেই সমর্থন করা উচিত না-খবরের কাগজগুলা আবার সেই জায়গাটা ভুলিয়ে দিয়ে র‌্যাবের পক্ষে কাজ করেছে। মধ্যবিত্তিয় স্বস্থির পক্ষে কাজ করেছে। কারণ, মধ্যবিত্তই দৈনিকগুলার, বিশেষ করে প্রথম আলোর বড় ভোক্তা। পাঠক, তথ্য গ্রহণ করার সময় এ দিকটাও খেয়াল রাখা জরুরী।

১৩ এবং ১৪ ডিসেম্বরের দিনগুলার দিকে একটু ফেরত যেতে চাই। ১৪ ডিসেম্বর বুদ্ধজীবী দিবসের দিন বহু নারী গেলেন মুন্সীগঞ্জের ধলেশ্বরীতে। স্বামীর লাশ খুঁজতে। লাশ ভেসে উঠেছিল বেশ কয়েকটা। সাদা পোশাকধারীরা যাদের নিয়ে গিয়েছিল, তাদের স্ত্রী, স্বজনরা পারে গিয়ে ফুলে, অচেনা হয়ে যাওয়া লাশের ভেতর দীর্ঘ দিনের দেখাদেখি, চেনাচেনির শরীর থেকে একটু খানি চেনা অংশ বের করে চিনে নিয়েছে স্বজনের লাশ। অনেকে লাশ খুঁজে পান নি। ফেরত এসেছেন কাঁদতে কাঁদতে। ক্রস ফায়ারে তো লাশ পাওয়া যেত, গুপ্ত হত্যা–এমনই এক হত্যার ধরণ, লাশটাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। অনেক মা হয়তো, ছেলে ফিরে আসবে বলে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করবেন, অনেক স্ত্রীও তেমন অপেক্ষা জমিয়ে রাখবেন; মাঝেমাঝে তাদের হ্যালুসিনেশন হবে। আর ছোট সন্তানেরা বড় হয়ে আক্ষেপ এবং মানসিক যন্ত্রণায় ভুগবে: ‘যাদের বাবা মারা গেছে, ওরা তো কবরে যেতে পারে, কিন্তু আমার বাবার তো কবরও নাই!’. . . এরকম অনেক অনেক মানসিক সমস্যা তৈরি হবে।

সিমেন্টের বস্তা বেঁধে লাশ ডুবিয়ে দেবার পরও ধলেশ্বরীতে ‘আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী’ বাহিনীর সকল কৌশল নদীর পানিতে বিলীন হয়ে ৭ থেকে ১০ দিনের মাথায় ফুলে, পঁচন-লাগা লাশগুলা নিজেদের জানান দিলো। মাথার ভেতর গুলির গভীর গর্ত। হয়তো, সামনে সিমেন্টের বস্তার বদলে অন্য কোন কৌশল ব্যবহারের কথা ভাবা হচ্ছে। কারণ, মানুষতো মারতে হবেই।

কিন্তু কেন? যাদের গুম করে ফেলা হয়েছে, তাদের বেশিরভাগই প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলের সদস্য নয়। তারা শীর্ষ সন্ত্রাসী নয়। সাধারণত: তৃতীয় বিশ্বে খুন করার জন্য যেসব কারণ অভিজ্ঞতার ধারণা থেকে প্রকাশিতভাবে মুখে মুখে ফেরে-এরকম কোন কারণ এখানে নেই। তাহলে কেন? প্রিয় পাঠক, তবে কি এটা ধরে নেব, প্রতি বছর, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর দক্ষতা, তৎপরতা বোঝানোর জন্য ‘খারাপ’ মানুষ হত্যা করার জন্য একটা সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়? সেই অনুযায়ি খুন করে কোটা পুরণ করা হয়? এটা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তত্ত্বাবধানকারী অতি উচ্চ পর্যায়ের কোন সিদ্ধান্ত কি?

১৩ই ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সাহারা খাতুন, গুম প্রশ্নে বললেন, তিনি জানেনই না। খবরের কাগজ পড়ে তিনি জানলেন গুম, গুপ্ত হত্যা-এসব ঘটছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর এ বক্তব্য নিয়ে অনেক তিরস্কার, ক্ষোভ, রাগ অনেক কিছুই এরমধ্যেই প্রতিক্রিয়া হিসাবে হয়ে গেছে। তবে মন্ত্রী নাও জেনে থাকতে পারেন। যদি পুলিশ-র‌্যাব, ডিবি, আইন শৃঙ্খলাবাহিনী তাকে কিছু না জানান তিনি জানবেনই বা কী করে? বেশিরভাগ ঘটনাতেই থানায় সাধারণ ডায়েরী হয়েছে। ডায়েরিগুলো সব কাগজের ভাজে ময়লার স্তূপই হয়তো উঁচু করেছে। মন্ত্রীর কান পর্যন্ত নিখোঁজদের স্বজনদের আর্তি কোনোভাবেই পৌছল না। আশ্চর্যই বটে। আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সঙ্গে মন্ত্রীর নিয়মিত বৈঠকে গল্পগুজব হয় কিনা জানি না।

গোয়েন্দা সংস্থা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দেশের পরিস্থিতি জানানোর কথা, পরিস্থিতি জানান দেবার প্রতিবেদনে অন্য সব তথ্য হয়তো রাখে, কিন্তু গুম, গুপ্ত হত্যার তথ্য হয়তো রাখে নাই। তাই তিনি জানেন না।

অথবা, তিনি বরাবরই যেমন তোতা পাখির মতো সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন, এটা তেমন হতে পারে।

কিন্তু পাঠক, পত্রিকা থেকে খবর জানবার পর এখন পর্যন্ত কি গুম হয়ে যাওয়া কোন ব্যক্তি সম্পর্কে সুস্পষ্ট তথ্য দিতে পেরেছে তার মন্ত্রণালয়? স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, খবরের কাগজ পড়েই যখন জানলেন, দেরিতে জানলেও আপনার কি কোন উদ্যোগ লক্ষ্য করা গেছে, এখন পর্যন্ত? যায় নি। গলি থেকে, বাড়ি থেকে, রাজপথ থেকে মানুষ সব হারিয়ে যাচ্ছে, গুম হয়ে যাচ্ছে, লাশ হয়ে ভেসে উঠছে ধলেশ্বরী, তুরাগ নদীতে আর আপনি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী কীভাবে এত নির্বিকার থাকেন? আলাপে-আড্ডায়, ব্লগগুলাতে রাগে-ক্ষোভে মানুষ আপনার পদত্যাগ দাবি করছে। আপনাকে অথর্ব বলে গালি-গালাজ করে পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলছে। আমি সেরকম দাবি তুলছি না। আমি আপনাকে আগামী মাছের মৌসুমে ধলেশ্বরী আর তুরাগ নদীর বড় জাতের মাছ খাওয়ার দাওয়াত দিতে চাই। ওখানে মাছেদের মধ্যে মানুষের নাড়ি-ভুড়ি, গলিত শরীরের মতো মজাদার খাবার খাওয়ার প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। ওরা এখন শরীরে চর্বি বাড়াচ্ছে। মহামান্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আপনি এবং আপনার আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর ভোজন সুস্বাদু করার জন্য মানুষের লাশ খাওয়া মাছগুলা নিজেদের প্রস্তুত করছে।

২০১২ সাল হোক ধলেশ্বরী, তুরাগ আর যেসব নদীতে গোপনে হত্যা করে লাশ ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে, সেসব নদীর চর্বিযুক্ত, পুস্ট মাছ খাবার বছর; আপনার জন্যই, মহামান্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Source : www.opinion.bdnews24.com

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

আরও দেখুন...
Close
Back to top button
Translate »