আর্কাইভ

চাঞ্চল্যকর শিক্ষক ফরিদ হত্যা মামলার চার্জশীট দাখিল

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ বরিশালের বহুল আলোচিত গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দার হত্যা মামলার চার্জশীট মঙ্গলবার আদালতে জমা দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আদালতের জেষ্ঠ্য বিচার বিভাগীয় হাকিম তসলিম আরিফ অভিযোগপত্র শুনানির জন্য আগামি ২১ জানুয়ারি দিন ধার্য্য করেছেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গৌরনদী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি (তদন্ত) মোঃ মিজানুর রহমান অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। মামলার অধিক তদন্তে এজাহারভূক্ত আসামি মোঃ নয়ন শরীফ ও কাজল হাওলাদারের বিরুদ্ধে হত্যার সাথে জড়িত থাকার কোন প্রমান না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এ মামলার একমাত্র খুনী গ্রেফতারকৃত কালু সরদারের জবানবন্দি অনুযায়ী তাকেই অভিযুক্ত করা হয়েছে। নয়ন ও কাজলের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ প্রমান না পাওয়ায় তাদের মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠী গ্রামের এক সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া প্রেমের জেরধরে গৌরনদী উপজেলার পিঙ্গলাকাঠী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দারকে গত ২২ সেপ্টেম্বর সকালে ওই গ্রামের কালু সরদার পরিকল্পিত ভাবে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। এ ঘটনায় নিহতের বড়ভাই স্কুল শিক্ষক শাহজালাল জমাদ্দার ওইদিন রাতেই ছাত্রলীগ নেতা নয়ন শরীফ, কাজল হাওলাদারসহ অজ্ঞাতনামা ৫/৭ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার অধিক তদন্তে ও নিহত শিক্ষকের মোবাইল ফোনের কললিষ্টের সূত্রধরে পুলিশ একমাত্র হত্যাকারী কালু সরদারকে মৌলভিবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকার গোদাবাজার থেকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারের পর খুনী কালু সরদারের স্বীকারোক্তি মতে ও তার উপস্থিতিতে খুনের প্রধান আলামত ছুড়িটি উদ্ধার করা হয়।

কালু তার জবানবন্দিতে উল্লেখ করে, সৌদি প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে তার পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। হত্যাকান্ডের ৩ মাস পূর্বে তাদের পরকীয়ায় ফাঁটল ধরে। প্রবাসীর শিশু পুত্র পিঙ্গলাকাঠী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেনীতে পড়াশুনা করতো। শিশু পুত্রকে নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী স্কুলে যাতায়াতের সুবাধে তার সাথে শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দারের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে প্রবাসীর বাড়িতে শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দারের যাতায়াতের সুবাধে তাদের সাথে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এতে তার (কালুর) সন্দেহ হয়। তাই সে শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দারকে প্রবাসীর স্ত্রীর সাথে কথা না বলা ও তার সাথে কোন সর্ম্পক না রাখার জন্য বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিলো। তার হুমকিতে কোন কাজ না হওয়া শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দারকে কালু হত্যার পরিকল্পনা করে। তারই ধারাবাহিকতায় গত ২২ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে শিক্ষক ফরিদ জমাদ্দার (২৮) স্কুলে যাওয়ার পথিমধ্যে পিঙ্গলাকাঠীর কর্মকার বাড়ির নির্জনস্থানে পৌঁছলে কালু ঠান্ডা মাথায় একাই ছুরিকাঘাত করে ফরিদকে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের পর পরই খুনী কালু সরদার এলাকা থেকে আত্মগোপন করলেও পুলিশ মোবাইল ফোনের কললিষ্টের সূত্রধরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল এলাকার গোদা বাজার এলাকা থেকে কালুকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে খুনী কালু বরিশাল কারাগারে রয়েছে।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »