আর্কাইভ

এসব কিসের অশনিসঙ্কেত?

এ.কে.এম শাহনেওয়াজ ॥ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও এর গোয়েন্দা শাখাকে ধন্যবাদ। আমাদের কৃতজ্ঞতাও জ্ঞাপন করছি এ জন্য যে, বিডিআর বিদ্রোহের মতো মরাত্মক ব্যর্থতার করুণ পরিণতি এবার ভোগ করতে হয়নি। একটি সেনা অভ্যুত্থানের আশঙ্কা অঙ্কুরেই ব্যর্থ করে দেওয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পরপর এবং বিশেষ করে সাকা চৌধুরী ও জামায়েতে ইসলামীর শীর্ষ নেতাদের গ্রেফতার ও বিচার কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর থেকে নাশকতার আশঙ্কা করছিল দেশের সচেতন মানুষ। এর কোনো বাস্তব বা দৃশ্যমান কারণ না থাকলেও জামায়াত রাজনীতির দর্শনে হিংস্রতা থাকায় মানুষের মনে এমন একটি ভীতি কাজ করতে পারে। এর মধ্যে বিএনপি নেতা-নেত্রীরা প্রকাশ্য জনসভা থেকে সরাসরি মানবতাবিরোধী অপরাধীদের পক্ষ নেওয়ায় এবং অভিযুক্তদের মুক্তি দাবি করায় এই আতঙ্ক নতুন মোড় নেয়। ভয়ের কারণ আরও স্পষ্ট হয় যখন বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনার আড়ালে ঢাকা অবরুদ্ধ করে দেওয়ার কথা প্রকাশ পেয়ে যায় এবং জামায়াত-শিবিরকর্মীরা যখন নাশকতার কাজে ঝাঁপিয়ে পড়ে-দেশজুড়ে অরাজকতার পাঁয়তারা চলে তখন বোঝা যায় সরকার উত্খাতের একটি ষড়যন্ত্র দানা বাঁধছে। যুদ্ধাপরাধীদের গুরু গোলাম আযম গ্রেফতারের পর আরেকবার নাশকতার চেষ্টা হয়। জামায়াত-শিবিরকর্মীদের হাতে পুলিশ আক্রান্ত হয় ঢাকায়। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর সতর্কতায় সবকিছু সামাল দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

অবস্থাদৃষ্টে স্পষ্ট যে, সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র চলছে। কিন্তু কোন দিক দিয়ে কিভাবে এই ষড়যন্ত্রের বাস্তবায়ন করা হবে তা খুব স্পষ্ট হয়নি। অবশ্য সম্প্রতি বিএনপি নেত্রী সেনাবাহিনী নিয়ে কিছু কথা বলায় সচেতন মানুষের দৃষ্টি হঠাত্ সেনাবাহিনীর দিকে পড়লেও পড়তে পারে। জঙ্গি দমনের সাফল্যের পর জেএমবি নামের সংগঠনটিকে আর প্রকাশ্যে তেমনভাবে তত্পরতা চালাতে দেখা যায়নি। জেএমবির সঙ্গে জামায়েতের যোগসাজশের কথা এক সময় জোরেশোরে উঠেছিল। এখন জামায়াতের কোণঠাসা অবস্থায় একমাত্র বিএনপি ছাড়া প্রকাশ্যে এই দলটির মাথায় ছাতা ধরার মতো তেমন কোনো পক্ষকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে জামায়াতের সাংগঠনিক সক্ষমতা, বিশেষ-বিদেশি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা ও অর্থশক্তির কারণে দলটি অপ্রকাশ্যে অনেকটা সবল এ কথা সবাই মানেন। ফলে জঙ্গি কোনো সংগঠন সরকার ও এদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতিকে ব্যতিব্যস্ত রাখুক মৌলবাদী দল হিসেবে জামায়াতের তা কাম্য হতে পারে। এমন একটি সময়ে হিজবুত তাহরীর নামের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটির ঝটিকা তত্পরতা দেশজুড়ে দেখা যাচ্ছিল। এসব কিছুর যোগফলে সেনা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা খুব আকস্মিক কিছু বলে মনে হয়নি। তবে মানতেই হবে ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য এ বড় দুর্ভাগ্য। আমাদের মনে হয়েছে অনেকটা অসময়ে অনেক বেশি অপরিণত ব্যবস্থাপনায় বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেলেছিল অভ্যুত্থান সংগঠনের খলনায়করা।

মনে রাখতে হবে ফাঁস হওয়া ষড়যন্ত্র প্রতিপক্ষকে অনেক বেশি সতর্ক ও শক্তিশালী করে দেয়। এক বা একাধিক পক্ষ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে সরকার পরিবর্তন করবে বলে ভেবে থাকলে তাদের সে পথে হাঁটা অনেকটা কঠিন হয়ে গেল। যদিও একটি বাজে বিষয়ের সঙ্গে মহত্ কোনো বিষয়কে তুলনা করা গর্হিত তবু আমি অবস্থাটিকে বোঝানোর জন্য একটি তুলনা দাঁড় করছি। ১৮৫৭ সালে পশ্চিমবঙ্গের ব্যারাকপুর সামরিক ছাউনির সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডের তর সইছিল না। স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষায় হাত নিশপিশ করছিল। বিপ্লবীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল একটি নির্দিষ্ট দিনে একসঙ্গে ভারতবর্ষের সব দেশি সিপাহি ঝাঁপিয়ে পড়বে ইংরেজ সৈন্যদের ওপর। ইংরেজদের হটিয়ে ফিরিয়ে আনবে স্বাধীনতা। সতর্ক ছিল ইংরেজরা যেন পরিকল্পনার কথা আঁচ করতে না পারে। কিন্তু সময়ের আগে অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন মঙ্গল পাণ্ডে। এভাবেই ইংরেজ শাসকদের কাছে বিপ্লবীদের পরিকল্পনা ফাঁস হয়ে যায়। তাই অঙ্কুরেই বিপ্লব দমন করা সম্ভব হয়েছিল।

বাংলাদেশের ইতিহাসে সেনা অভ্যুত্থান বা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নতুন কিছু নয়। বিগত ৪০ বছরে এদেশে ২৯টি সেনা অভ্যুত্থান বা অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল বলে জানা যায়। ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) এমএ হালিম গণমাধ্যমকে জানান, বিএনপি নেতা মরহুম জিয়াউর রহমানের আমলে ক্যান্টনমেন্টে ২২টি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা সংঘটিত হয়েছিল। এতে বোঝা যায় ষড়যন্ত্রের বীজ সহজে নিশ্চিহ্ন হয় না। যদিও এবার যেমন অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার কথা সংবাদ সম্মেলন ডেকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেশবাসীকে জনানো হয়েছে, আমার জানামতে অতীতে তেমনটি করা হয়নি। এ কারণে এতসব অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার কথা দেশবাসী জানতে পারেনি। এবারের এই পদক্ষেপকে আমরা সাধুবাদ জানাই। আমাদের সেনাবাহিনী চেতনায় অনেক বেশি গণতান্ত্রিক হয়েছে এই ঘটনা তারই প্রকাশ। আমাদের রাজনৈতিক নেতা-নেত্রীরা বক্তৃতার মঞ্চে জনগণকে গুরুত্ব দিলেও বাস্তবে জনগণ বা জনগণের ইচ্ছা তাদের কাছে তেমন গুরুত্ব পায় না। নিদানে ধরাশায়ী হলে তখন কেবল জনশক্তির গুরুত্ব অনুভব করে। কিন্তু বাংলার ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখব চৌদ্দ-পনের শতকের তুর্কি সুলতানরা জনশক্তিকে যথার্থ মূল্যায়ন করতেন। এই বিদেশি সুলতানরা দিল্লির মুসলিম সুলতানদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ঘোষণা করে বাংলার স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বুঝেছিলেন দিল্লির আক্রমণ প্রতিহত করতে হলে আমজনতার সমর্থন প্রয়োজন। তাই সুলতানদের জারি করা মুদ্রা ও শিলালিপিতে নওমুসলিম ও অমুসলিম জনসাধারণকে তুষ্ট করার মতো নানা বক্তব্য ও প্রতীক ব্যবহার দেখতে পাই। বিদেশি পর্যটকদের বিবরণীতে সুলতানদের জনকল্যাণমুখী নীতি সম্পর্কে অনেক স্পষ্ট জানতে পারি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় জনগণের ভালোবাসার শক্তির জোরেই সুলতানরা দিল্লির প্রবল শক্তিকে প্রতিহত করতে পেরেছিলেন।

আমরা অবস্থাদৃষ্টে বুঝতে পারি দেশ প্রকাশ্যে-অপ্রকাশ্যে একটি সঙ্কটের মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এই সময়ে দেশবাসীর মধ্যে বিভাজন যতটা কমিয়ে আনা সম্ভব ততটাই মঙ্গল। রাজনীতিকে সংঘাতময় অবস্থায় না এনে প্রকাশ্য স্বচ্ছ ও জনকল্যাণমুখী করা আবশ্যক। প্রকৃত গণতান্ত্রিক আচরণ ছাড়া তা সম্ভব নয়। যত বেশি অস্বচ্ছতা থাকে এবং আড়াল করার প্রবণতা থাকে তত অন্ধকার বাসা বাঁধে। ষড়যন্ত্রের জন্ম হয় সেখানেই। এ কারণেই আমাদের মনে হয় এক জিয়াউর রহমানের সময়েই যখন ২২টি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা সংঘটিত হতে পারে তা হলে এবারের ব্যর্থ করে দেওয়া অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাও হয়তো শেষ হয়ে যাওয়া কোনো ঘটনা নয়। বিশেষ করে সংবাদ সম্মেলনে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে যখন জানানো হয় একটি ধর্মান্ধ গোষ্ঠী এই ষড়যন্ত্রে সক্রিয় ছিল। কারণ দেশে এখন ধর্মীয় মৌলবাদী মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তির শীর্ষ নেতারা মানবতাবিরোধী অপরাধ করার অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। আর দেশের অন্যতম বড় রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে এসব অভিযুক্তের পক্ষ নিয়েছে। তাই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাটিকে আমরা একটি অশনিসঙ্কেত হিসেবেই মনে করি। এবং মনে করি আমাদের রাজনীতিবিদ, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং সর্বোপরি সরকারের সর্বাত্মক সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে।

আমাদের শঙ্কিত হওয়ার আরও কারণ রয়েছে। সেনাবাহিনীর সাফল্য যে তারা বড় অঘটনের আগেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিতে পেরেছে। কিন্তু ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, অভ্যুত্থান ঘটানোর নেটওয়ার্ক খুব ছোট ছিল না। প্রথম জানানো হয়েছিল সেনাবাহিনীর কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও বর্তমানে কর্মরত মধ্যম সারির অফিসার এই ঘৃণ্য প্রচেষ্টায় অংশ নেয়। কিছুসংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির ইন্ধন রয়েছে এখানে। এই সূত্রে অভিযুক্ত কজন গ্রেফতার হয়েছেন। একটি বিষয় স্পষ্ট যে, এই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টায় বা ষড়যন্ত্রে যারা জড়িত তাদের অনেকের সঙ্গেই হিযবুত তাহরীরের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। তাই ষড়যন্ত্রের প্রকৃতি বোঝা কঠিন নয়। অভ্যুত্থান পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান বলে কথিত মেজর জিয়া এখন পর্যন্ত পলাতক। এ পর্যন্ত যে ধারণা পাওয়া গেছে তাতে মনে হতে পারে এটি মঙ্গল পাণ্ডের মতো (ইতিবাচক অর্থে নয়) অসংগঠিত অসময়োচিত একটি অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা। কিন্তু ক্রমে যখন খবর বেরুতে থাকল একই সূত্রে কুমিল্লা সেনানিবাসের জিওসি এবং সাভার সেনানিবাসের একজন ঊর্ধ্বতন সেনা অফিসারকে ঢাকা সেনানিবাসের লগ এরিয়ায় সংযুক্ত করা হয়েছে তখন বিষয়টিকে খুব ছোট করে ভাবার অবকাশ নেই। সেনা গোয়েন্দাদের আশঙ্কা যদি সত্য হয় তবে মানতে হবে একটি সর্বাত্মক অভ্যুত্থানের পরিকল্পনাই করা হয়েছে। আর আমাদের মতো সাধারণ বুদ্ধির মানুষের যুক্তি বর্তমান বাস্তবতায় বিদেশি মদদ ও দেশের রাজনৈতিক কোনো শক্তির আশ্রয় ছাড়া এমন অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা গৃহীত হওয়া সম্ভব নয়।

দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই তোলপাড় সৃষ্টি করেছে। সাধারণ গতিধারাতেই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার মদদদাতা হিসেবে শুধু প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগেরই নয় সাধারণ মানুষেরও সন্দেহের তীর বিএনপি-জামায়াতের দিকে। এমন সন্দেহের কথা প্রকাশ পাওয়ার পর বরাবরের মতোই বুদ্ধিমান জামায়াত নীরব থেকে বন্দুক তুলে দিয়েছে বন্ধু বিএনপির ঘাড়ে। আর ইতোমধ্যে গলা চড়িয়ে চেঁচামেচিতে মির্জা ফখরুল নিজের একটি অবস্থান তৈরি করে নিয়েছেন। সেখান থেকেই তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে করা সন্দেহের অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের নানা ব্যর্থতায় তৈরি ক্ষোভ থেকেই অমন অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন। এখন কেউ যদি বলে তাদের নেতা জিয়াউর রহমানের সময়ে ২২ বার অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা গৃহীত হওয়ার হেতু কী ছিল, তাহলে মির্জা সাহেবদের উত্তর কী হবে? এর পরও বলব অকাট্য প্রমাণ ছাড়া বিএনপিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা উচিত নয়। তবে এমন প্রশ্ন তৈরি হওয়ার ক্ষেত্র কি বিএনপি তৈরি করেনি?

অনেক আগেই বিএনপি নেত্রী ঘোষণা দিয়েছিলেন ডিসেম্বরে এই সরকারের পতন ঘটবে, আবার অভ্যুত্থান প্রচেষ্টাও গৃহীত হল ডিসেম্বরে। এই বাস্তবতায় মানুষ অঙ্ক মেলাতে চাইলেও মেলাতে পারে। আবার ঠাকুর ঘরে কে রে’র মতো করে বিএনপি নেত্রী ৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম পোলোগ্রাউন্ড মাঠে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিশৃঙ্খলা এবং সেনা অফিসারদের গুম হয়ে যাওয়ার কথা বলে মানুষকে চমকে দিয়েছিলেন। এখন মানুষ অঙ্ক মিলিয়ে যদি বলে অভ্যুত্থান প্রচেষ্টার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর জিয়াউল হককে আড়াল করতে ওয়াকিবহাল মহল গুমের কাহিনী ফেঁদেছে, তাহলে কতটা অন্যায় করা হবে? কারণ ৯ জানুয়ারিতে এই অভ্যুত্থানের কথা সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশ পায়নি। প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা যায়, মেজর জিয়া ২৩ ডিসেম্বর সাভারে এক আত্মীয়ের বাসায় থাকাকালে তার স্ত্রীকে জানান, সেনাদফতর থেকে ফোন এসেছে তাকে এখনই সেখানে রিপোর্ট করতে হবে। এই বলে তিনি চলে যান। এরপর থেকেই তিনি লাপাত্তা। পরে জানা গেল তাকে লগ এরিয়ায় থাকার নির্দেশ ছিল। অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি পালিয়েছেন। সুতরাং ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত মেজর জিয়া সংক্রান্ত এসব তথ্য অভ্যুত্থান নস্যাত্কারী সেনা সদর দফতরের অফিসাররা আর ষড়যন্ত্রকারী ছাড়া অন্য কোনো পক্ষের জানার কথা নয়। তাই বেগম জিয়ার অপ্রত্যাশিতভাবে সেনাসদস্যদের গুম হয়ে যাওয়ার তথ্য মানুষকে ভাবাবে বৈকি! এর মধ্যে ঘৃতাহুতি দিল ‘টাইমস অব ইন্ডিয়া’ ও ‘আনন্দবাজার পত্রিকা’। হিযবুত তাহরীরের নিয়ন্ত্রণে ষড়যন্ত্রের নানা তথ্য সেখানে উল্লেখিত হয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকা ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা রিপোর্টের ভিত্তিতে লিখেছে, অভ্যুত্থান পরিকল্পনাকারীদের অন্যতম ছিলেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান।

অবশ্য আমরা মনে করি এসব রিপোর্ট পুরোটাই যে সত্য প্রকাশ করছে এমন নাও হতে পারে। তবে দেশবাসীর মন থেকে সন্দেহ দূর করার দায়িত্ব বিএনপিকেই নিতে হবে। বিএনপি নিষ্পাপ হলে এই বিশ্বাসের কাছে ফিরতে হবে যে, বিষাক্ত সাপের সঙ্গে বসত করা নিরাপদ নয়। অসংখ্য বিএনপি সমর্থকের ইচ্ছাকে মূল্য দিয়ে বিএনপির জামায়াত বন্ধুত্ব থেকে সরে আসার এখনই বোধহয় উপযুক্ত সময়।

আমাদের সেনাবাহিনী যে সাফল্য দেখিয়েছে তার জন্য অভিনন্দন জানালেও মনে হয় আরও অনেক বেশি সতর্ক হওয়ার প্রয়োজন এখন স্পষ্ট। অপশক্তির মরণ কামড় দেওয়া এটুকুতেই শেষ হয়ে গেছে বলে আমাদের মনে হয় না।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »