আর্কাইভ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে ভুক্তভোগী গ্রামবাসীদের লিখিত আবেদন – বাকেরগঞ্জের ত্রাস “নাসির বাহীনি”র অত্যাচারে অতিষ্ঠ এলাকাবাসি

নিজস্ব সংবাদদাতা ॥ বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার কবাই ইউনিয়নের মুর্তিমান আতংক এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী নাসির উদ্দিন খানের নিজ নামে প্রতিষ্ঠিত “নাসির বাহিনী”র বেপরোয়া চাঁদাবাজি, জুলুম, অত্যাচার ও লুন্ঠনের হাত থেকে রেহাই পেতে ভুক্তভোগী এলাকাবাসি স্বরাষ্টমন্ত্রীর কাছে লিখিত আবেদন পাঠিয়েছেন। সন্ত্রাসী বাহিনীর প্রধান নাসির উদ্দিন খান ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে প্রায় ডজন খানেক মামলা থাকা সত্বেও বরাবরের ন্যায় তারা থেকে যাচ্ছে পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে। ফলে দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে ওঠে নাসির ও তার বাহিনীর ক্যাডাররা। নাসির ও তার ক্যাডারদের হুমকির মুখে এলাকা ছেয়ে অন্যত্র জীবন যাপন করছেন কবাই ইউনিয়নের লক্ষিপাশা গ্রামের অসংখ্য পরিবার।

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, কবাই ইউনিয়নের লক্ষিপাশা গ্রামের সবুজ সিকদারের কাছে সম্প্রতি মোটা অংকের টাকা চাঁদার দাবি করে না পেয়ে তাকে (সবুজকে) মারধর করে গুরুতর আহত করে নাসির ও তার ক্যাডাররা। এ ঘটনায় সবুজ বাদি হয়ে বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজী মামলা দায়ের করেন। আলাউদ্দিন রাজা নামের একজনকে চাঁদার দাবিতে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে তার বসত ঘরের মালামাল লুট করে নেয় ওই ক্যাডাররা। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মাসুদ খান নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর করার ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলে বাহিনীর প্রধান নাসির ও তার ক্যাডারদের অব্যাহত হুমকির মুখে ব্যবসায়ী মাসুদ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র জীবন যাপন করেছেন।

গত ২ মে  সন্ত্রাসী নাসির উদ্দিন ও শহিদুল খান চাঁদার দাবিতে মসজিদের মুসল্লিদের যাতায়াতের রাস্তার কাজে বাঁধা দেয়। এর প্রতিবাদ করায় ওই এলাকার ৪ জন মুসুল্লীকে বেদম প্রহার করে ক্যাডাররা। এমনকি মোশারফ হোসেন সিকদার নামের এক মুসুল্লীর বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে নাসির ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় বাকেরগঞ্জ থানায় মোশারেফ হোসেন বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও অসংখ্য অভিযোগ রয়েছেন ওই সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে।

এ ব্যাপারে বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ নুরুল ইসলাম-পিপিএম বলেন, অভিযুক্ত নাসিরের বিরুদ্ধে প্রায় প্রতিটি অভিযোগই তদন্তাধীন। তদন্ত সাপেক্ষেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »