মুক্তচিন্তা

উপরে ব্লাউজ পরলেই কি, আবার ব্লাউজ না পরলেই কি!

সহযোদ্ধা শামীমা মিতুর সঙ্গে সহমত জানাচ্ছি, সঙ্গে আরো বলতে চাই, পদ্মা নদীর মাঝিতে রূপা গাঙ্গুলী যখন ব্লাউজবীহিন ভেজা শাড়ীতে জলের উপর উঠে এলো তখন তা মোহনীয় হয়ে ওঠে। কিংবা চোখের বালীতে যখন ঐশর্য্য রায় ব্লাউজবীহিন শাড়ী পড়ে শট দেন তা হয়ে যায় এক দর্শনীয় অপূর্ব মুহুর্ত। তখন আপনাদের মনের ভেতর নান্দনিকতা ফুটে ওঠে।

আপনারা নিজে কিভাবে শালীনতা বজায় রাখেন সেসব বর্ণনা দিয়ে বেড়ান। আপনার নিজের বানানো নান্দনিকতায় চলতে হবে অন্যদের? কে আপনাকে সেই অধিকার দিলো?

আমাদের দেশের আদিবাসী মা-বোনেরা যখন থামি পড়েন তখন তা দেখে মুমিন বান্দাদের ঈমানদন্ড দাঁড়িয়ে যায়। তারা সুযোগ সময় পেলে পাহাড়ের গায়ে বেড়ে ওঠা শিশুকেও ছাড়ে না। অসম্ভব সুন্দর এই পোশাক থামি দেখে তাদের মাথা ঘোরে আর বলে এটাকে অশালীন লাগে !! ওরা ধর্ষিত হবে না তো কারা হবে?

সচিব ভাষন দিয়ে বেড়ান, রাতের বেলায় স্কার্ট পড়ে বের হলে তার নিশ্চয়তা দিতে পারবেনা। কেউ কেউ বলেন, আমি বাসায় স্কার্ট, টি শার্ট, প্যান্ট পড়লে অন্য কেউ বেড়াতে এলে টুক করে পোশাক বদলে সামনে যাই আর তাই শালীনতা !! তাহলে আফ্রিকার জঙ্গলে যেসব নারী কোনদিন পোশাক পড়তেই শেখেনি তারা সব অশালীন?

আমাদের বাংলাদেশ ছিল জলাশয়, জলাঞ্চল। ইতিহাস ঘাটলেই দেখা যায়, এ দেশের বেশিরভাগ মানুষ হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিল। কোন এক ডাকাত ঘোড়া নিয়ে আসলো আর লক্ষণ সেন নদী পথে পালিয়ে গেল তখন পর্যন্ত এদিকে মুসলমানের বাস পর্যন্ত ছিল না। যে দেশের গ্রামাঞ্চলের নারীরা এখনো ব্লাউজ ছাড়া শাড়ী পরে কাজ করতে সাচ্ছন্দ্যবোধ করে, বা অামার চেনা এক অঞ্চলের মানুষ আছেন তারা শাড়ী কেনার পয়সা নাই বলে পেটিকোট আর ব্লাউজ পরে একটা গামছা জড়িয়ে দিনানিপাত করছে তারা আপনাদের চোখে অশালীন কিংবা আপনাদের নান্দনিকতায় বাধা দেয়!!

ধিক ধিক ধিক !! আপনি আপনার পছন্দ নিজের মধ্যে রাখুন। আপনার ভাল লাগবে না, তাই অন্যের কাছে ভাল লাগবে না এমন ভাবাটাই অনধিকার চর্চ্চার মধ্যে পড়ে। অবশ্য আপনি তা বুঝবেন না, কারন এ ধরনের দেখানো নৈতিক বাণী না লিখলে আপনি ফেসবুকে লাইক কামাই করতে পারবেন না।

শামীমা মিতু লিখেছেন, -প্যান্টের ভেতর আন্ডারওয়ার পরে ছেলেরা এটা আমরা সবাই জানি, এই আন্ডারওয়ার প্যান্টের উপ্রে পরলে সুপারম্যান হয়! শাড়ীর নীচে ব্লাউজ পরে নারী এটা আমরা সবাই জানি, এই ব্লাউজ শাড়ীর উপ্রে পরলে হয় খানকি!

পদ্মা নদীর মাঝি সিনেমায় ব্লাউজ ছাড়া শাড়ী পরে নায়িকা চম্পা পেয়েছিলেন জাত অভিনেত্রী্র খেতাব। তার লাক্স সুন্দরী শাড়ীর উপর ব্লাউজ পরে হয়ে গেলেন করপোরেট বেশ্যা। মুমিনরা, ফাতরারা, ধর্ষন পেজের লাইকাররা গালিগালাজে ভরিয়ে তুলছেন আর শিল্প বোদ্ধারা এর মাঝে দেশ ও সংস্কৃতির ধ্বস দেখতে পাচ্ছেন।

আমি বলি, নারীকে যখন পন্য বানানো হয় তখন নীচে ব্লাউজ পরলেই কি, আর উপরে ব্লাউজ পরলেই কি, আবার ব্লাউজ না পরলেই কি! আমাদের মিডিয়া এই পন্য বানানোর কাজ তো দীর্ঘদিন ধরেই নির্লজ্জের মতো করে আসছে। আর তা থেকে সুড়সুড়ি নেয়ার লোকই এদেশে সবথেকে বেশি।

আর সংস্কৃতি ধ্বংসের কথা যারা বলছেন তাদের বলবো, বিমানবন্দরের সামনে টেনে হিচড়ে মৌলবাদিরা যে লালনের ভাষ্কর্য নামিয়ে ফেলেছিল আমরা আজও তা পুনঃস্থাপন করতে পারিনি বরং নির্লজ্জের মতো ভুলে গেছি।

লেখক: শামীমা মিতু ও ফারাজানা কবির খান স্নিগ্ধা

এই বিভাগে প্রকাশিত মতামতের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী নহে

Farzana Kabir Khan Snigdha's picture

Farzana Kabir

সৌজন্যে : প্রিয়.কম


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...