আর্কাইভ

গৌরনদীতে ছাত্রলীগের ঝটিকা হামলায় যুব ও ছাত্রদলের আট নেতা-কর্মী আহত

গৌরনদী প্রতিনিধি ॥ বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার বরিশালে আগমন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা শেষে যুব ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী বাড়ি ফেরার পথে আওয়ামীলীগের সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের অতর্কিত হামলায় পাঁচ জন জখম হয়েছে। এ ছাড়া মোটর সাইকেল মহড়া দিয়ে বিভিন্ন স্থানে আরো তিন ছাত্রদল নেতাকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর গোটা উপজেলায় বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গৌরনদী উপজেলায় সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার দুপুরে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সুত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া আগামি ৯ অক্টোব্বর বরিশাল সাংগঠনিক সফরে আসছেন। তার আগমন উপলক্ষে সোমবার রাত ৭টার দিকে উপজেলা ও পৌরসভা যুব ও ছাত্রদলের উদ্যোগে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। হামলার শিকার ও পৌর ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক জসিম খান জানান, প্রস্তুতি সভা শেষে রাত ৯টার দিকে নেতা-কর্মীরা বাড়ি ফিরছিল। পথিমধ্যে পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখে দেলোয়ার খানের বেকারীর কাছে পৌঁছলে ৬নং ওয়ার্ড কমিশনার শামীম ও সরকারি গৌরনদী কলেজ ছাত্রলীগের সহপ্রচার সম্পাদক সুমন মোল্লা, ছাত্রলীগ নেতা ফিরোজ সরদারের নেতৃত্বে ৭/৮ টি মোটর সাইকেল যোগে ১৫ থেকে ২০ জন ছাত্র ও যুবলীগের নেতা-কমীরা অতর্কিত ভাবে হামলা চালায়। হামলায় জসিম খান, চাঁদশী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক মালেক হোসেন, সবুজ হাওলাদার আহত হয়। একই দিন রাত ১০টার দিকে পৌর সভার বড়বাড়ি নামক স্থানে উপজেলা যুবদলের সাধারন সম্পাদক রফিক চোকদার পৌঁছলে তাকেও বেদম মারধর করা হয়।

অপরদিকে মঙ্গলবার সকালে চাঁদশী বাজারে ছাত্রদল নেতা নুরু আহম্মেদ ও মালেক হোসেনের ওপর হামলা চালিয়ে জখম করে ছাত্রলীগ কর্মীরা। একইভাবে দুপুরে আশোকাঠী বাসষ্ট্যান্ডে ছাত্রদল নেতা সোহাগ কাজী ও জাবেদ সেলিমকে হামলা চালিয়ে জখম করে। গুরুতর আহতদের গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। একই দিন সকাল সাড়ে ১১ টায় পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক মোল্লা মাহফুজুর রহমান, যুগ্ম আহবায়ক সিহাব উদ্দিন আহত ছাত্রদল নেতা জহিরুলকে দেখতে গেলে তাদের লাঠিশোটা নিয়ে ধাওয়া করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। পালিয়ে তারা আত্মরক্ষা করেন। হামলার প্রসঙ্গে গৌরনদী উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সৈয়দ মাহাবুব আলম বলেন, হামলার সাথে ছাত্রলীগের কোন নেতা-কর্মী জড়িত নয়। হামলাকারীদের সনাক্ত করার জন্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে ছাত্র ও যুবদলের নেতা-কমীদের ওপর ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও বরিশাল সদর উত্তর জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবা উদ্দিন ফরহাদ (এমপি), কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক আকন কুদ্দুছুর রহমান, উপজেলার বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সোবাহান, সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আবুল হোসেন মিয়াসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »