আর্কাইভ

জেলা পরিষদের জমি দখল করে বিসিসির মার্কেট নির্মান

শাহীন হাসান, বরিশাল ॥ বরিশাল নগরীর নথুল্লাবাদ বাসস্টান্ডে শুক্রবার জেলা পরিষদের জমি সহ একাধিক ব্যক্তির প্রায় ২০ শতাংশ জমি দখলে নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের মার্কেট উদ্ধোধন করেছেন বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরন। সঙ্গে ছিলেন মেয়র হিরনভক্ত ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। গতকাল দুপুর ১২টায় উদ্ধোধন করা হয় এই মার্কেটটি।

জানাগেছে, নথুল্লাবাদ বাসস্টান্ড ব্রিজ সংলগ্ন স্থানে রয়েছে জেলা পরিষদের কয়েক শতাংশ সম্পত্তি রয়েছে। পাশে রয়েছে সৌদি প্রবাসী ইস্তাফিজুর রহমান মুন্নার ভোগ দখলীয় ২৪ শতাংশ ও কামরুন নাহার শিল্পি আক্তারের ৬ শতাংশ জমি। সেখানে শিল্পির ৭টি দোকানও রয়েছে। পাশে কনা নামের এক মহিলার ২ শতাংশ সম্পত্তিতে রয়েছে ৩টি দোকান, ইউসুফ আলীর ১ শতাংশ সম্পত্তিতে ২টি দোকান এবং শহীদ গাজীর ১ শতাংশ সম্পত্তিতে ২টি দোকান।

সৌদি প্রবাসী ইস্তাফিজুর রহমান মুন্নার ভোগ দখলীয় ২৪ শতাংশ সম্পত্তি’অবৈধভাবে দখলে নিতে মার্কেট নির্মানের এই প্রক্রিয়া হাতে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ মুন্নার। তার সম্পত্তিতে ৪০টি দোকানের কথা উল্লেখ করে  তিনি জানান, তার ভোগ দখলীয় ৬ শতাংশ সম্পত্তি অবৈধ পন্থায় দখলে নিতে অনেক পূর্ব থেকেউ ফন্দি আটছিল ছাত্রলীগের ক্যাডাররাা। তিনি জানান, এর আগেও একবার দোকান-পাট ভেঙ্গে মার্কেট নির্মানের হুঙ্কার তুলছিলেন মেয়র হিরন ভক্ত ছাত্রলীগ ক্যাডাররা। কিন্তু তৎসময়ে নৌপরিবহন মন্ত্রীর কারনে বেশি দুর এগুতে পারেনি। মাঝখানে নিরব থাকার পর ফের সাম্প্রতিক সময়ে নড়েচড়ে ওঠে আ’লীগের একাংশের এই চক্রটি। কোন নিয়ম নীতিকেই পাত্তা দিচ্ছে না তারা। আইন কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে শেষমেষ মার্কেটটি উদ্ধোধন করতে সক্ষম হন তিনি। মুন্না জানান, দেশে বসবাসরত তার পিতা সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সহ সভাপতি, আঞ্চলিক কমিটির কার্যকরী সভাপতি ও বরিশাল বিভাগীয় ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক ঈমান আলী শরীফও দখল সন্ত্রাসের শিকারের হুমকীতে তটস্থ হয়ে পড়েন।

একপর্যায়ে পাওয়ার অব এটনির মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টে স্ব সম্পত্তিতে স্টে অর্ডারের আবেদন করেন শ্রমিক নেতা ঈমান আলী শরীফ । চলতি বছরের ১২ ডিসেম্বর স্টে- অর্ডার মজ্ঞুর করা হয়, স্টে অর্ডারে বিবাদী করা হয় বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরনকে। আদালত ভোগ দখলীয় সম্পত্তিতে অন্য কারো হস্থক্ষেপ না করার নির্দেশ প্রদান করেন। অর্থাৎ ভোগ দখলে যার রয়েছে তিনিই সম্পত্তি ভোগ করবেন। মামলাটি পরিচালনা করেন তপঙ্কর চক্রবর্তী।

বরিশাল জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মকবুল হোসেন বলেন, আমরা নথুল্লাবাদ স্টান্ডের সম্পত্তি কাউকে লিজ দেইনি। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে লিজ প্রসঙ্গে কোন আলোচনাও হয়নি। দখল সন্ত্রাস প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকা অস্থায়ী কর্মপরিষদের ভিপি মঈন তুষার বলেন, জেলা পরিষদের সম্পত্তি সিটি কর্পোরেশন লিজ নিয়ে মার্কেট উদ্ধোধন করেছেন।

ইস্তাফিজুর রহমান মুন্নার সম্পত্তি প্রসঙ্গে বলেন, ওসবও তো তাদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়,সড়ক পরিবহনের সম্পত্তি। আর সেই সম্পত্তিতে সিটি কর্পোরেশন মার্কেট নির্মান করতেই পারে। এদিকে এ বিষয়ে আলোচনা জন্য বিসিসি মেয়র শওকত হোসেন হিরন’র ব্যক্তিগত সেল ফোনে একাধিকবার ডায়াল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »