লাইফ ও সাইন্স

আপনি কি হতাশ! নিজেকে করে তুলুন অনুপ্রাণিত

স্যার এডমন্ড হিলারিকে মনে আছে? প্রথম মাউন্ট এভারেস্ট জয় করলেন যে ব্যক্তি। একবার একটা সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “শুধু এভারেস্ট নয়, যে কোন কঠিন কাজ জয় করতে দরকার প্রবল অনুপ্রেরণা (motivation), পূর্ণ মনোযোগ আর নিখুঁত পরিকল্পনা।” আপনি কি জীবনের এভারেস্টের শিখরে পৌছাতে চান? তবে নিচের নিয়মগুলো অনুসরণ করে বাড়িয়ে নিন আপনার প্রেরণা শক্তি আর বাঁধা বিপত্তি দূর করে পৌঁছে যান সফলতার স্বর্ণ শিখরে।

১) কল্পনা করুন প্রতিদিন (use visualization)

চোখ বন্ধ করে ভাবুন (visualize) আপনি আপনার লক্ষ্যে পৌঁছে গেছেন এবং সেই অসাধারণ অনুভূতিটি অনুভব করুন। অনুভব করুন আপনার পুরো মন দিয়ে, পুরো সত্ত্বাকে কাজে লাগিয়ে। দিনে অন্তত দুইবার এটি করুন। দেখবেন অনুভূতির স্বাদটি এত বাস্তব হয়ে উঠবে, আপনার মনে হবে সেদিন আর বেশি দূরে নয়।

২) লক্ষ্য ভাগ করে নিন (break down your goal into small steps)

আপনার পুরো লক্ষ্যটিকে (break down or divide your goal) ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে নিন। ধরি আপনি মোট ১০ কেজি ওজন কমানোর লক্ষ্য নিয়েছেন। তবে প্রথমে প্রতি দুই সপ্তাহ পরপর কত কমাতে চান তা ঠিক করুন। তাহলে দুই সপ্তাহ পরে সেই লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে আপনার আত্মবিশ্বাস বেড়ে উঠবে, আপনি নির্ধারিত রুটিন অনুসরণ করতে আগ্রহী হবেন।

৩) লিখে ফেলুন আপনার লক্ষ্য (identify your goal)

আপনি যা অর্জন করতে চান, কেন অর্জন করতে চান সেই কারণগুলো (goals) পয়েন্ট দিয়ে লিখে ফেলুন। এবার কাগজটি যেন আপনার চোখের সামনে থাকে সেই ব্যবস্থা করুন। এতে প্রতিদিন আপনার চোখের সামনে আপনার লক্ষ্য থাকবে আর বাড়বে আপনার প্রেরণা (motivation)

৪) হাসিখুশি থাকুন (laugh)

লক্ষ্য পৌঁছানোর জান্যে ঘাড় গুঁজে রাতদিন কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে ওঠা চলবে না। যে কাজ করতে ভাল লাগে মাঝে মাঝেই সেগুলো করে নিজেকে রি-চার্জড করে নিতে হবে। গান শুনতে পারেন, বই পড়তে পারেন, জোকস পড়ে হা হা করে হাসতে পারেন। এক কথায় নিজেই হয়ে উঠুন নিজের অনুপ্রেরণা (be motivated by yourself)

৫) ইতিবাচক মনোভাবের ব্যক্তিদের সংস্পর্শে থাকুন (stay with the positive-minded people)

বাধা অতিক্রম করতে গেলে এমন কিছু নেতিবাচক চিন্তার ব্যক্তি আছে যারা বাধা দূর করতে আপনাকে সাহায্য না করে বরং নিজেরাই বাধা হয়ে দাঁড়িয়ে যাবে। এদের থেকে দূরে থেকে ইতিবাচক মনোভাব সম্পন্ন (positive minded) ব্যক্তিদের সাথে থাকুন। যারা হয়ে উঠতে পারে আপনার অনুপ্রেরণার উৎস (sources of motivation)। এর ফলে আপনার কাজের মানও(productivity) বেড়ে যাবে অনেকটুকু।

৬) পুরস্কারের কথা ভেবে রাখুন (think about the final positive result for you)

লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারলে আপনি হয়তো অনেকের কাছ থেকে অনেক কিছু পাবেন। কিন্তু এমন একটি পুরস্কার ঠিক করুন যা আপনি নিজেই নিজেকে দিবেন। মাঝে মাঝেই সেই উপহারটির কথা ভেবে নিজেকে লক্ষ্যে অবিচল রাখুন (stand for your gaol)

সফলতার তীরে তরী ভেড়ানোর জন্যে আপনার নিজেই নিজেকে অনুপ্রাণিত (motivated) করার শক্তি হতে হবে অসাধারণ। আর সেই অসাধারণ শক্তির জন্যে অনুসরণ করুন উপরের ধাপগুলো। আশা করি লক্ষ্যে পৌঁছাতে খুব দেরী হবে না আপনার। রইলো অনেক শুভকামনা।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

Tags

আরো পোষ্ট...