আর্কাইভ

গ্যাস সরবরাহের দাবীতে সোচ্চার হয়ে উঠছেন বরিশালের জনগন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশালকে শিল্প নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে প্রধান অন্তরায় গ্যাস । এখানে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ থাকলে গড়ে উঠত বড় ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে বরিশালে গ্যাস সরবরাহের দাবীতে এখন সোচ্চার হয়ে উঠছেন এ অঞ্চলের মানুষ। গ্যাসের দাবীতে ক্রমসই ফুসে উঠছে বরিশালের মানুষ। বরিশাল বিভাগ উন্নয়ন ও স্বার্থ সংরক্ষন কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ মিজানুর রহমান বলেন সরকার বরিশালে পাইপ রাইনে গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা না করলে অচিরেই জনগনকে সাথে নিয়ে দাবী আদায়ে আন্দোলন কর্মসূচী ঘোষনা করা হবে।

সূত্র জানায়, বরিশালের শিল্পপতিরা ১শ’ কোটি টাকা খরচ করে শর্তসাপেক্ষে সরকারকে বরিশালে গ্যাস সরবরাহের জন্য প্রস্তাব দেয়। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
বরিশাল নগরী থেকে মাত্র ৩৭ কিলোমিটার দূরে শাহবাজপুরের অব্যবহৃত গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে আনা হলে এ বিভাগের দারিদ্র বিমোচন, উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এবং শিল্পায়নের বিকাশ ঘটবে।
এদিকে বরিশালের রুপাতলীতে অবস্থিত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন ২টি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র রয়েছে। এ কেন্দ্র থেকে ১ ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রায় ১৮ টাকা ব্যয় হয়। ফলে বার্ষিক ব্যয় প্রায় ৪৩০ কোটি টাকা। অপরদিকে ৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রস্তাবিত বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু হলে বছরে সরকারের আরো সাড়ে ৪শ কোটি টাকা ব্যয় হবে। অথচ মাত্র ৩৭ কিঃ মিঃ পাইপ লাইন টেনে গ্যাস দিয়ে এ বিদ্যুৎ কেন্দ্র পরিচালিত হলে সরকারের প্রায় সাড়ে ৮শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি বরিশাল সহ দক্ষিনাঞ্চল দ্রুত পরিনত হবে শিল্প নগরীতে।
চির অবহেলিত উন্নয়ন বঞ্চিত দক্ষিনাঞ্চলে যুগ যুগ ধরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট চলছে। সম্প্রতি ভোলার শাহবাজপুর থেকে গ্যাস এনে ভোলায় স্থাপন করা হয়েছে সাড়ে ৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিড লাইনে দেয়ায় ব্যবস্থা না থাকায় তা শুধুমাত্র ভোলা ও পটুয়াখালীতে সরবরাহ করা হচ্ছে। একই সাথে ভোলা শহরে গৃহস্থলী কাজে গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যে ১০ ইঞ্চি পাইপ লাইন স্থাপন ও অন্যান্য সহায়ক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ফলে খুব শিঘ্রই দ্বীপজেলা ভোলার মানুষ গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পেতে যাচ্ছেন।
বর্তমানে বরিশালের বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইউনিট প্রতি ১৮ টাকা ব্যয় হচ্ছে। একই সাথে প্রস্তাবিত ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন হলে সেখানেও ১৫ টাকা হারে ব্যয় হবে। ফলে সরকারের বার্ষিক খরচ দাড়াবে ৮৮০ কোটি টাকা। অথচ মাত্র ৩৭ কিঃ মিঃ দূরের শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে ১৮/২০ ইঞ্চি গ্যাস ট্রান্সমিশন লাইন টেনে গ্যাস সংযোগ দেয়া হলে ইউনিট প্রতি খরচ দাড়াবে ১ টাকা ১১ পয়সা। সেক্ষেত্রে সরকারের প্রতি বছর সাড়ে ৮শ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে। এবিষয়ে আলাপকালে বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান রিন্টু বলেন, বরিশালে পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরা করা হলে এখানকার উদ্যোগতারা বড় ধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতো । তাতে বরিশালের বেকার যুবকদেও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হত। তার মতে সরকার ভোলার গ্যাস পাইপ লাইনে বরিশাল সরবরাহ করলে এখানে বেকারত্ব কমে যেত।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »