আর্কাইভ

প্রশ্নপত্র এইচএসসি’র উত্তরপত্র জেএসসি’র

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নৈর্ব্যক্তিক অভীক্ষার প্রশ্নপত্র এইচএসসি ও আলীম পরীক্ষার। অথচ উত্তরপত্র জেএসসি, এসএসসি ও দাখিল পরীক্ষার! প্রশ্ন ও উত্তরপত্রে এমন অমিল থাকা সত্বেও সোমবার এভাবেই নেয়া হয়েছে বরিশাল শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষা। বিষয়টি বোর্ড কর্তৃপক্ষকে আগে ভাগে জানানো সত্বেও কোন কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি। পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলের দায়িত্বরত শিক্ষকদের বিষয়টি জানানোর পর তারা (শিক্ষকেরা) বলেছেন, ‘জেএসসি, এসএসসি কিংবা দাখিল কেটে সেখানে এইচএসসি ও আলিম লিখে নাও।’ অথচ উত্তরপত্রের ওপরে স্পষ্ট করে লেখা রয়েছে, ‘উত্তরপত্রে কোনো অবাঞ্ছিত দাগ দেওয়া যাবে না।’

সোমবার বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে পরীক্ষার দ্বিতীয় অংশে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার অপটিক্যাল মার্ক রিডার (ওএমআর) শিটে এ সমস্যা দেখা গেছে। এ ঘটনায় পরীক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক হতাশা ও শঙ্কা বিরাজ করছে। এইচএসসি ও দাখিল পরীক্ষার নিয়মানুযায়ী পঞ্চাশ নম্বর নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার্থীদের জন্য তিন ঘন্টার পরীক্ষার শেষের ঘন্টা নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার জন্য বরাদ্দ। পরীক্ষার দ্বিতীয় অংশে পরীক্ষার্থীদের হাতে নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার উত্তরপত্র দেয়ার সাথে সাথে পরীক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। পরীক্ষার্থীরা কক্ষ পর্যবেক্ষকদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে অনেক পর্যবেক্ষকই এর সমাধান দিতে পারেননি। আবার অনেক পর্যবেক্ষক পরীক্ষার্থীদের উত্তর দিতে না পেরে কোনো পরিবর্তন বা কাটাকাটি করতে নিষেধ করেন। পরীক্ষা শেষে সরকারি গৌরনদী কলেজ কেন্দ্রের পরীক্ষার্থী ফয়সাল সরদার বলেন, আমাদের কক্ষে দেয়া ওএমআর সিটে এসএসসি লেখা দেখে কক্ষ পর্যবেক্ষককে বিষয়টি দেখানো হয়। তিনি আমাদেরকে জানিয়েছেন, কোনো কিছুই পরিবর্তন করতে হবে না। যা করার বোর্ড করবে।

মাহিলাড়া ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ফিরোজ ফোরকান আহমেদ বলেন, পরীক্ষার্থীদের এসএসসি কিংবা জেএসসি লেখা কেটে পাশে এইচএসসি লেখার জন্য বলা হয়েছে। তবে, পরীক্ষার্থীদের মতে, ওএমআর সিট মূল্যায়ন করা হয় কম্পিউটারের মাধ্যমে। যে উত্তরপত্রে একটি দাগও দেওয়া যায় না। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পরেছেন পরীক্ষার্থীরা। গৌরনদী গার্লস হাইস্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ মীর আব্দুল আহসান আজাদ বলেন, বোর্ড থেকে একটি নির্দেশনা এসেছে। ওই নির্দেশনায় এসএসসি কিংবা জেএসসি’র স্থানে এইচএসসি লেখার জন্য বলা হয়েছে। কিন্তু কেন এমন সমস্যা হয়েছে তা আমরা জানি না।

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীনস্থ গৌরনদী পরীক্ষা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ মার্চ পরীক্ষার্থীর জন্য পাঠানো সকল উত্তরপত্রই ছিলো ভুল। যা তাৎক্ষনিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে সেগুলোকে বোর্ডে ফেরত পাঠানো হয়েছিলো। পরবর্তীতে গত ২৮ মার্চ বোর্ড কর্তৃপক্ষ পূর্নরায় সেই ভুল উত্তরপত্রই পাঠিয়েছে। এ ব্যাপারে বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মোঃ আলমগীর হোসেনের সাথে তার ব্যবহৃত (০১১৯৮-০০০০৬৫) নাম্বার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

Back to top button
Translate »