বরিশাল

বরিশালের ১২টি নৌপথে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান পারাপার

ঝুঁকি নিয়ে চলছে বরিশালের লঞ্চ চলাচল। বরিশালের ১২টি রুটে ৫১ টি লঞ্চের মধ্যে প্রায় এক তৃতীয়াংশই ঝুকিপূর্ণ। এসব রুটে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ ঝুকিপূর্ণ লঞ্চে চলাচল করছে। কর্তৃপক্ষের তদারকি না থাকায় যে কোন মুহুর্তে ঘটতে পারে দুর্ঘটনা।

বিআইডব্লিউটিএ উপপরিচালক(নৌ নিরাপত্তা) আবুল বাশার মজুমদার সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বরিশাল নদীবন্দর থেকে চলাচলকারী ৫১ টি ছোট বড় লঞ্চের মধ্যে ৬৫ ফুটের নীচে এম এল টাইপের চলাচল করছে ১৫ টি লঞ্চ। এসব লঞ্চের মধ্যে অনেকগুলো ঝুকিপূর্ণ। এ ছাড়া লঞ্চে লাইফ বয়া, বাতি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম না থাকায় ৬৩ টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী পারাবার দেখার কথা ডিজি শিপিংএর। কিন্তু কোথাও তা দেখা যায় না। লঞ্চগুলোর ফিটনেস সার্টিফিকেট দেয়ার কথা তাদের। কিন্তু এখানে তাদের কোন তদারকি নেই-জানান বন্দর কর্মকর্তা মো: শহীদুল্লার।

এদিকে সরেজমিনে বরিশালের একতলা লঞ্চঘাটে গিয়ে বরিশাল-হিজলা রুটের এম এল বিশারী ও এম এল মুমিন লঞ্চের কোন লাইফ বয়া পাওয়া যায়নি।

হিজলা থেকে বরিশালে শিশু পুত্র নিয়ে আসা যাত্রী মালা হাওলাদার জানান, ‘বাচ্চা নিয়ে ছোট লঞ্চে আসতে ভয় করে। তারপরেও উপায় না থাকায় উঠেছ’।

তালীগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী ইমরান জানান- ‘সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য বেশী হলেও সরকারের এদিকে কোন খেয়াল নেই ,তারা ছোটো ছোটো লঞ্চ কে চলাচলের অনুমতি দিয়ে আমাদের উঠতে বাধ্য করেছে।’

এদিকে বিআইডব্লিউএ সূত্র মতে এ বছর গলাচিপায় এম ভি শাথিল ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া ছোট ছোট অসংখ্য নৌ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে এবার ঈদে এম ভি আচল,ও এম ভি কর্নফুলির তলা ফেটে যাওয়ায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রেহাই পেয়েছেন যাত্রীরা। এ ছাড়া পারাবত-কার্গো সংঘর্ষ ও সুন্দরবনের সাথে কার্গো সংঘর্ষের ঘটনায় কার্গো ডুবি ও সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ সব দুর্ঘটনা যে কোন সময়ে ভয়াবহতার সৃষ্টি করতে পারে।

নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নৌ পরিদর্শক মারুফ হোসেন জানান, বরিশাল বিভাগের ৩ হাজার নৌ যান পরিদর্শনের জন্য মাত্র ১ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। ফলে তার পক্ষে সব বিষয় সুষ্ঠুভাবে দেখা সম্ভব হচ্ছে না।

নৌ পথে তদারকি না থাকায় অনিরাপদ নৌযানে ভয়ংকর মেঘনা, তেতুলিয়া, আগুনমুখা, অড়িয়াল খা নদী পারি দিচ্ছে হাজার হাজার যাত্রী। ছোট আকারের নৌ যান এসব নদীর জন্য মারাক্তক ঝুকিপূর্ণ বলে যাত্রীদের মত। তারা এসব রুটে নিরাপদ নৌযানের দাবী করেন।


ফেসবুকে মন্তব্য করুন :

টি মন্তব্য
মন্তব্যে প্রকাশিত যেকোন কথা মন্তব্যকারীর একান্তই নিজস্ব। Gournadi.com-এর সম্পাদকীয় অবস্থানের সঙ্গে এসব অভিমতের কোন মিল নেই। মন্তব্যকারীর বক্তব্যের বিষয়বস্তু বা এর যথার্থতা নিয়ে Gournadi.com কর্তৃপক্ষ আইনগত বা অন্য কোনো ধরনের কোনো দায় নিবে না

আরো পোষ্ট...