আর্কাইভ

গৌরনদীতে টিআর-কাবিখা প্রকল্পের চাল

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ও খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা প্রকল্পে এসব অনিয়ম-দুনীতিতে সহযোগিতা করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে তারা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। নিয়ম অনুযায়ী কাবিখা প্রকল্পে প্রতি ঘন ফুট মাটি কাটার জন্য ১ দশমিক ৮৬৭ কেজি ও টিআর প্রকল্পের প্রতি ঘন্টা কাজের জন্য এক কেজি চাল শ্রমিকের পাওয়ার কথা। কাজের বিনিময়ে শ্রমিকেরা চাল বা গম পেয়ে মাষ্টাররোলে স্বাক্ষর করবেন। প্রকল্পের সভাপতি সেই মাষ্টারোল প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে দাখিল করবেন।
জানা গেছে, কাবিখা ও টেষ্ট রিলিফের আওতায় কাজ করা শ্রমিক ওই সব নিয়মকানুনই জানেন না। তাঁরা প্রতিদিন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা মজুরি পান। প্রকল্পের সভাপতিরা শ্রমিকদের মধ্যে চাল বিতরন দেখিয়ে ভূয়া মাষ্টাররোল দাখিল করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯-২০১০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কারের আওতায় এ পর্যন্ত উপজেলায় কাবিখার ৩৬টি প্রকল্পের বিপরীতে ২৬৩ মেট্রিক টন, টেষ্ট রিলিফের ১৩৩ টি প্রকল্পের বিপরীতে ১৩৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ইতিমধ্যে মোট বরাদ্দের ৭৫ শতাংশ চালের ডিও প্রকল্প চেয়ারম্যানদের ইস্যু করা হয়েছে। স্থানীয় সরকারি গুদাম থেকে বরাদ্দের ওই পরিমান চাল তোলা হয়।
একটি প্রকল্পের সভাপতি ও নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেকান্দার আলী মৃধা বলেন, প্রকল্পের চাল-গমের ডিও অগ্রীম বিক্রি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের আগেই টাকা লাগে, সে জন্য বিক্রি করা হয়। শ্রমিকদের সুবিধার্থে চাল না দিয়ে টাকা দেয়া হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।

মাহিলাড়া ইউনিয়নের বাঘার রতন মেম্বারের বাড়ির ব্রিজ থেকে বাঘার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত রাস্তা পূর্ণনির্মান কাজের বিপরীতে ৬ টন চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দেড়লক্ষ টাকা। শ্রমিকদের এ প্রকল্পে টাকা দেয়া হয় মাত্র ২০ হাজার টাকা। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার সাদাত তোতা বলেন, প্রকল্পের চেয়ারম্যান ইউপি সদস্য হাসনা হেনা হলেও মূলত এ প্রকল্পের তদারকি করছেন আওয়ামীলীগ নেতা মানিক হাওলাদার।

বিভিন্ন প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিক জব্বার হোসেন, আব্দুস সালাম, ইসমাইল হোসেন, বাচ্চু খানসহ একাধিক ব্যক্তিরা জানান, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী আমাদের চাল না দিয়ে প্রকল্প চেয়ারম্যানরা নামে মাত্র টাকা দিচ্ছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোঃ কবির উদ্দিন প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শ্রমিকেরা চাল পান না এ কথা সত্য। তবে কোন শ্রমিক অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, প্রকল্প চেয়ারম্যানরা ডিও নিয়ে আসলে আমরা ছাড়পত্র দিয়ে খাদ্য গুদামে পাঠাই।

আরও পড়ুন

মন্তব্য করুন

Back to top button
Translate »